অনলাইন পেইজের এডমিন আপা, ভাইদের কাছে আমার একটা বদনাম আছে বোধহয়- মাঝেসাঝেই বিভিন্ন প্রোডাক্টের দাম জিজ্ঞেস করি, কিন্তু পরে আর কেনা হয়না। কারণটা বলি….

আগে সাধ ছিলো সাধ্য ছিলোনা, এখন সাধ সাধ্য দুটোই আছে, আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু জীবনযাত্রার মান এমনিতেই যা বেড়ে গেছে, যুহদের ধারেকাছেও নেই, লাগাম ছেড়ে দিলে সেটা বিলাসিতা কিংবা অপচয়ের সীমা অতিক্রান্ত হবে, তাই হাতে ধরে আর বাড়াতে ইচ্ছে হয়না। কখনোই কিনিনা তা না, কিন্তু বাড়াবাড়ি রকমের খরচ করতে এখনো যে অস্বস্তিটুকু হয়, ওটা ধরে রাখতে চাই, ওটুকুও হারিয়ে গেলে এরপর চাহিদার লাগাম টেনে ধরা কঠিন হবে।

চাহিদা জিনিসটা এমন, যত বাড়াবেন ততই বাড়বে। হাজার-বারোশ’র উপরে জামাকাপড় কিনতে এখনো মনে খটকা লাগে- অপচয় হচ্ছে না তো? আসলে অপচয় তো হচ্ছেই, আমার তো হাজারের ভেতরেই কাপড়ের মান ও কোয়ালিটি পুষিয়ে যায়, তবে এর বাইরে যাওয়াটা বিলাসিতা নয় তো কী? অথচ অনলাইনে মেয়েদের সালোয়ার কামিজ বলেন আর ছেলেদের পাঞ্জাবি, হাজার-বারোশ’র মধ্যে পাওয়া দুঃসাধ্য। সেখানে বাজার থেকে কিনলে একই টাকায় মোটামুটি মানসম্মত জিনিস পেয়ে যাই। অনলাইন পেইজগুলোতে দামাদামি করিনা তেমন, তবে একটা জিনিস কেনার আগে দশবার চিন্তা করি, অনেকে ভাবতে পারেন, এই মহিলা তো মহা কিপটা! আসলে কারণটা কিপ্টেমি নয়, অপচয় এড়ানোর ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা, যদিও সব কাজে অপচয় এড়ানো সম্ভব হয়না এটাও সত্য।

সেদিন এক বান্ধবী বলছিলো, মেয়ের জন্য একটা লোশন কেনার আগেও যেরকম হিসেব করি, গায়ে মাখানোর সময়েও মিলি মেপে মাখাই, মেয়ে জানলে না জানি মা’কে কত্ত কিপটা বলে গাল দিতো!
বান্ধবীকে বলেছিলাম- উহু, এটা কিপ্টেমি নয়, হিসেব করে চলা, এটাই রাসূলের সুন্নাহ। জগতের ইতিহাসে যত বড় বড় দানশীল দেখতে পাবে, তারা নিজ জীবনে হিসেব করেই চলেছেন। সীমিত আয়ে নিজের বিলাস মিটাতেই সব অর্থ খরচ করে ফেললে আর অন্যের প্রয়োজন মেটানোর সুযোগ থাকে কই??

সামর্থ্যের মধ্যে একটু আধটু বিলাসিতাকে হারাম বলিনা, কিন্তু সুন্নাতবিরোধী, এটা তো সত্য। রাসূল সা. কিংবা সাহাবারা যেখানে সম্পদ ও বিলাসিতার সামগ্রী দেখলে ফিত্নার আশংকায় কেদে ফেলতেন, সেখানে আমরা কিভাবে বিলাসিতায় গা ভাসিয়ে ফিত্না থেকে নিশ্চিন্ত হতে পারি? এ যুগে বিলাসদ্রব্য যেভাবে সহজলভ্য হচ্ছে, তাতে বিলাসিতাও যে আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় চাহিদা বলেই অনুভূত হচ্ছে, এটাই সবচে আশংকার বিষয়। আমরা হয়তো ‘পাখিড্রেস’ এর জন্য আত্মাহুতি দিইনা, কিন্তু নিত্যনতুন পাখিবোরখার জন্য স্বামীজীর ঘাড় ভাঙছিনা, এমন নিশ্চয়তা কজন দিতে পারি?

সবশেষে অনলাইন পেইজের এডমিন আপু-ভাইদের বলবো: আপনারা যুলুম করে বেশি টাকা রাখেন, তা বলিনা। কিন্তু আমরা যারা একটু হিসেব করে চলতে চাই, তাদের সামর্থের নাগালেও ভালো কিছু মানসম্মত প্রোডাক্ট রাখার অনুরোধ, তাতে আমাদের-আপনাদের সবারই উপকার। বাজারে* যদি কমে পাওয়া যায়, তবে অনলাইনেও তো পাওয়া যাওয়ার কথা, প্রোডাক্ট না হয় উচ্চমান না হয়ে মধ্যম মানেরই হোক। আর এই যে নিত্য নতুন দামী দামী জিনিসপত্রে আমাদের হোমপেইজ সয়লাব হয়ে যাচ্ছে আজকাল, আমাদের মনে-মননে হিসেবি চিন্তার বদলে কৃত্রিম বিলাসী-চাহিদা সৃষ্টি হচ্ছে, সাহাবায়ে আজমাঈনদের যুহদের আদর্শ বরবাদ হয়ে দ্বীনি বিলাসিতায় রূপ নিচ্ছে, তার দায়ভার কিন্তু কিছুটা হলেও আপনাদের উপর বর্তায়। দিনশেষে আমরা মুসলিম, আমাদের সবকিছুতে ইসলামের সৌন্দর্য বজায় রাখাটাই উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ।

* বাজার বলতে আমি বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক বোঝাইনি, ওখানে আমি কেনাকাটার জন্য যাইনা বললেই চলে, আলহামদুলিল্লাহ।