IOU তে The Radiance of Faith এবং Aqeedah at Tahawiyyah এর মত আক্বীদার প্রাচীন বইগুলি পড়ার সময় মনে হয়েছে বর্তমান সময়ে ঐ স্টাইলে (পয়েন্ট আকারে ধারাবাহিকভাবে) আক্বীদার কোন বই লিখলে এরকম কয়েকটা পয়েন্ট থাকত-

(১) শুধুমাত্র দাড়ি-টুপি কিংবা ইসলামীক লিবাসের কারণে কাউকে জঙ্গি-মৌলবাদী বলা চূড়ান্ত মূর্খামি এবং ঘৃ্ণ্য অপরাধ। আমরা দাড়ি শেভ করা হারাম মনে করি, তবে কেউ শেভ করলে তাকে পরিত্যাগ করি না বরং তার জন্য দূয়া করি। একইভাবে, যারা আমাদেরকে জঙ্গি-মৌলবাদী বলে কটুক্তি করে আমরা তাদের প্রত্যেকের হিদায়াতের জন্য দূয়া করি।

(২) আমরা পরিপূর্ণভাবে বিশ্বাস করি কুরআন এবং সুন্নাহ যা বলে একমাত্র সেটাই অন্য সকল শুদ্ধাশুদ্ধি পরিমাপের চূড়ান্ত মাপকাঠি। কোন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব কিংবা আবিষ্কার কুরআন-সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক হলে, সে যত বড় বিজ্ঞানীই হোক আমরা তা প্রত্যাখান করি।

(৩) একমাত্র ইসলামেই নারীদেরকে সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া হয়েছে বলে আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি। একথা শুধু মুখে বলেই না বরং বাস্তবেও আমরা প্রমাণ দেখাই। যারা বলে ইসলামে নারীদেরকে হেয় করা হয়েছে কিংবা “মনের পর্দাই বড় পর্দা” সে তার পালিত গাধা অপেক্ষা নিকৃষ্টতর। এমন কথা বলা থেকে আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা করুন।

(৪) মাজহাব বিষয়ক ইখতিলাফী বিষয়গুলিতে উদারতা এবং প্রশস্ততা আছে বলে আমরা বিশ্বাস করি। ফিক্বহী ইস্যুতে ভিন্নমত বা ভিন্ন মাজহাব অনুসরণ করার জন্য আমরা কাউকে গোমরাহ বলিনা বা মনে করি না বরং তাদেরকে বাস্তব জীবনে এবং অনলাইনে গালি দেওয়া নোংরামী এবং মূর্খতা বলে বিশ্বাস করি। এমন কাজ থেকে আমরা আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

(৫) দল-মত-মাজহাব-মানহাজ নির্বিশেষে কোন একজন ‘আলিমের শুধুমাত্র কয়েকটি ভুলের জন্য আমরা তাঁকে গালিগালাজ করি না এবং করা বৈধও মনে করি না। বরং উম্মাহর জন্য তাঁদের বিশাল খিদমতের কবুলিয়াতের জন্য দূয়া করি এবং ভুলের ক্ষেত্রে তাঁরা মা’জুর বলে ধরে নিই। আল্লাহ তাঁদের সকলের উপর সন্তুষ্ট থাকুন।

৭ ডিসেম্বর, ২০১৪