ইচ্ছেঘুড়ির নাটাইটা এখন আর আমার হাতে নেই, অনেকটাই মেয়ের হাতে বন্ধক রাখা হয়ে গেছে, সেই যে ওর অস্তিত্বের শুরু তখন থেকেই…..

কেমন?
এই যেমন, হয়তো এক কাপ চা বানিয়ে আয়েশ করে বই নিয়ে বসেছি, আজ বইটা শেষ করে তবে উঠবো। এরই মধ্যে মেয়ে নড়েচড়ে আড়মোড়া ভেঙে উঠে গেলো। ব্যস, খতম! পুরো প্ল্যানটাই জলে।

ভাবলাম, আজ শুক্রবার। কতদিন মাসজিদে যাওয়া হয়না। আবু ফাতিমাহর সাথে আজ জুমা পড়তে যাই দূরের কোন মাসজিদে।
– নাহ, হবেনা। বাবু কাদবে, পুরো মাসজিদ মাথায় তুলে নিবে, সবাই বিরক্ত হবে। থাক, মেয়ে বড় হোক…

সুন্দর একটা ওয়েদার, লোকজন সাজেকের ছবি তুলে তুলে আপলোডাচ্ছে।
– মেয়ে বড় হোক…

সালাতে দাঁড়িয়েছি। মাঝ রাস্তাতেই মেয়ের কান্নার শব্দ। বাকিটা শেষ করে পড়িমরি করে এসে মেয়েকে কোলে নেয়া। ক্ষেপে গেলে এরপর আর থামতে চাইবেনা….

বাইতুল্লাহ সফরের প্রস্তাব পেয়েছি, আজন্ম লালিত স্বপ্ন, ফিরিয়ে দিয়েছি। ওকে ছেড়ে যাবো কি করে? ও যে আমার কাছে বড় আমানত।
– মেয়ে বড় হোক…

এই সিনারিওগুলো মেয়ের জন্মের পরের, তারও আগে যদি চোখ বুলাই?

– না না, চা কফি খাওয়া যাবেনা, ক্যাফেইন বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর। চা খাবোই বা কি করে? মুখে তো খাওয়ার বিন্দুমাত্র স্বাদই নেই। বাবুটা দুনিয়ায় আসুক, তারপর…

– জুমা পড়তে মাসজিদে যাবো? হঠাৎ যদি বমি আসে? স্পিটিং শুরু হয়? থাক, না যাই…

– সুন্দর ওয়েদার, দূরে কোথাও যাই! উহু, ঝাকির রাস্তা? ভেতরের ফিটাসের কোন ক্ষতি হতে পারে। প্লেনে চলো! এবরাপশিও প্লাসেন্টা টার্মটা জানো? ওটার ঝুকি আছে…. ইচ্ছেটা জমা থাকুক নাহয়!

– শেষদিকে বিশাল ওজন নিয়ে সালাত আদায়টাও কঠিন হয়ে যাচ্ছিলো: শরীরের ভেতর আরেকটা শরীর…..

– বাইতুল্লাহ সফরের প্রস্তাব পেয়েছিলাম, শরীরে কুলোয়নি…

” এজন্যই হাদীসে বলা হয়েছে: ব্যস্ততার আগে অবসর সময়কে কাজে লাগাতে, অসুস্থতার আগে সুস্থতাকে। যারা এখনো মা হননি, ইচ্ছেঘুড়ির নাটাইটা এখনো নিজের হাতেই আছে, বলি, সময়টুকু কাজে লাগান। এখন সাধ্য আছে, সাধ হয়না; আর তখন সাধ হলেও সাধ্য হবেনা। যারা আগে সময়কে কিছুটা হলেও কাজে লাগিয়েছেন, তাদের আক্ষেপ কিছুটা হলেও কম হবে, সত্যি বলছি কিন্তু। 

যাহোক, এবার আশার কথা বলি। মেয়েটা যেদিন নাটাই চালানো শিখবে, আমরা মা-মেয়ে একসাথে ঘুড়ি ওড়াবো সেদিন(ইনশাআল্লাহ)। চলে যাওয়ার সময় হলে নাটাইটা ওর হাতে সপে দিয়ে চলে যাবো। ও, ওরা ঘুড়ি ওড়াবে, শুদ্ধতার আকাশে; আমার অসমাপ্ত ঘুড়িগুলো……♥