বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।

আল্লাহর ইচ্ছায় যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকেণ্ড ইয়ারের শুরু থেকে ইসলামের প্রতি একটা ভালবাসা জন্মাতে শুরু করল ঠিক তখনই আরেকটা জিনিষ ঠিক করে ফেলেছিলাম যে-‘আমি পড়ব’; কী পড়ব? ‘ইসলাম নিয়ে যা পাই তাই’; যাকে আমি ভালবাসি তাকে যদি আমি না চিনি না জানি তাহলে এই ভালবাসা ধরে রাখব কীভাবে? এই তাগিদ থেকেই একটা বেশ জিদ কাজ করত মনের ভিতর। মনে আছে, তখন যদি কেউ বলত আরে এটা পড়ছ কেন? এটা না পড়ে ওটা পড় তখন মনে মনে গজগজ করতাম-‘তুমি বলার কে হুঁ?’ যাকগে সে কথা, যা বলতে চাচ্ছি তা হল এভাবে পুরো একটা সেমিস্টার পার করে দিলাম নিজের ইচ্ছামত পড়তে পড়তে। কিন্তু একটা সময় নিজের কাছেই মনে হল, আমি যদি এমন এলোমেলো ভাবে এগোতে থাকি তাহলে তা একসময় নিজের কাছেই বিরক্তিকর হয়ে উঠবে-আমি এক জায়গায় এসে আটকে যাব এই ভেবে যে- ‘এরপর কী?’ এমনই যখন নানাবিধ চিন্তার ঝড় বইছে মনে তখন এক বড় ভাই এর কাছে খোঁজ পেলাম IOU এর যদিও তখন অতটা আগ্রহ দেখাইনি। কিন্তু অনেকটা ভাইয়ার চাপেই Diploma কোর্সে একাউন্ট খুলে ফেললাম। দিনে দিনে এতই ভাল লাগতে থাকল যে ২.৫ মাসে প্রায় ৮-৯ টা কোর্স করে ফেললাম। তখনও BA in Islamic Studies কোর্সে ভর্তির কোন চিন্তাই ছিল না। আর তা মূলত এই ভেবে যে-‘বুয়েটের পাশাপাশি এর প্রেসার নিতে পারব তো?’ এটাতো Diploma-র মত ইচ্ছামত পড়া যায়না। যাই হোক একদিন IOU-BD অফিসে এক ভাইয়ার একটিমাত্র কথায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম-নেক্সট স্প্রিং সেমিস্টারেই ভর্তি হয়ে যাব ইনশাআল্লাহ। ভাইয়া শুধু বলেছিল-এখন চাপ ঠিক আছেকিন্তু এই ছাত্রজীবনে না পারলে ভবিষ্যতে আর কখনই পারবা না এই একটা কথাই আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল।

আপনি হয়ত ভাবছেন শিরোনামের সাথে এই লেখার কোন মিলই নাই। কিন্তু না, আমি এগুলো বললাম এ কারণে যে BAIS প্রোগ্রামে জয়েন করার আগে কম-বেশী সকল ছাত্রেরই এসব চিন্তা আর ভয় মাথায় কাজ করে। যাকগে, এবার চলে আসি মূল কথায়-

BAIS= Bachelor of Arts in Islamic Studies

Study Procedure

এটি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতই চার বছরের একটি প্রোগ্রাম। প্রতি বছর দুটি করে মোট আটটি সেমিস্টার। একটি হল স্প্রিং সেমিস্টার যা শুরু হয় মার্চ মাসে আর আরেকটি হল ফল সেমিস্টার যা শুরু হয় সেপ্টেম্বর মাসে। প্রতি সেমিস্টারের ভর্তি ফি মাত্র ৯০ ডলার। আর হ্যাঁ, এটি একটি পুরোদস্তুর বাঁধা-ধরা একাডেমিক প্রোগ্রাম। আপনি নিজের ইচ্ছামত চলবেন তার কোন সুযোগ নেই। আপনার জন্য একটি স্টাডি একাউণ্ট খুলে ভর্তি ফী সম্পন্ন করার পর আপনি ইচ্ছামত কোর্সে এনরোল করতে পারেন।(রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি দেখুন-http://www.islamiconlineuniversity.com/bais/process.php) প্রতি সেমিস্টারে রয়েছে ৬ টি করে কোর্স। (বিস্তারিত কোর্সপ্ল্যান জানতে দেখুন-http://islamiconlineuniversity.com/bais/curriculum.php) তবে আপনি চাইলে ইচ্ছামত সংখ্যক(১ট বা ২ টি বা ৩ টি বা ৪টি) নিতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি মোট ১২ বছর সময় পাবেন আপনার BA ডিগ্রী সম্পন্ন করার জন্য।প্রয়োজনে আরও বেশি সময়ও দেয় তারা। প্রতিটি কোর্সের টেক্সট হিসেবে পড়ানো হয় কুরআন-সুন্নাহর বিশুদ্ধ মানদণ্ডে যাচাইকৃত কিছু ক্লাসিকাল টেক্সট আবার কিছু সাম্প্রতিক সময়ের ইসলামী স্কলারদের লিখা অসাধারণ বই। প্রতিটি কোর্সের টেক্সট বইগুলিকে ভাগ করা হয়েছে কিছু সংখ্যক মডিউলে-২০/২৩/২৫/৩০… …(একেক কোর্সে একেক রকম)। প্রতিটি মডিউলের উপর রয়েছে একজন স্কলারের (কোর্স ইন্সট্রাকটর) প্রি-রেকর্ডেড ক্লাশ লেকচার যা রেজিস্ট্রেশন করার পরেই ডাউনলোড করে নেওয়া যায় আবার চাইলে অনলাইনেও দেখা যায়। এছাড়াও মূল টেক্সট বই পড়ার পর আর রেকর্ডেড ভিডিও দেখার পর কোন বিষয় বুঝতে না পারলেও Ask the TA ফোরামে তা প্রশ্ন করে জেনে নেওয়ার সুযোগ আছে এখানে!

Assignment

ক্লাশ শুরু হওয়ার প্রায় এক মাস পর প্রতিটি বিষয়ের উপর এসাইনমেন্ট দেওয়া হয়। আর এগুলি কোন গৎবাঁধা এসাইনমেন্ট নয়, বরং আপনার টেক্সট বই কিংবা অন্য কোথাও হুবহু পাবেন না। এজন্য আপনাকে অনেকটা গবেষণাধর্মী পড়াশুনা করে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘেঁটে, বিভিন্ন লেখকের বই পড়ে এসাইনমেন্ট কমপ্লিট করতে হবে। আর যদি এসাইনমেন্ট এর কোন অংশ কোথাও থেকে হুবহু কপি করে ধরা পড়েন তবে একেবারে ০০; বলাবাহুল্য, ‘রেফারেন্সিং’ এর প্রয়োজনে হলে ভিন্ন কথা। এসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা দেওয়া হয় তা ঘোষনার পর প্রায় ২ মাসের মত। এরপর আরেকটি তারিখ দেওয়া হয় যার মধ্যে দিলে Late Submission হিসেবে কিছু মার্কস কাটা যাবে।

Exam Procedure

প্রতিটি সেমিস্টারে দুটি বড়সড় পরীক্ষা হয়- মিডটার্ম এবং ফাইনাল পরীক্ষা। কোর্স সিলেবাসের অর্ধেক পড়ানো হয় মিডটার্ম এর আগে আর বাকি অর্ধেক পড়ানো হয় পরে। প্রতিটি মডিউলের উপর আপনাকে দিতে হবে অনলাইন MCQ পরীক্ষা। আর যদি কোনরকম এদিক-ওদিক করেছেন তো আমলনামায় উঠে যাবে সরাসরি-এও কোর্স সিলেবাসে বলা আছে স্পস্ট। আসলে এখান থেকে পুরোপুরি উপকৃত হতে হলে আপনাকে আল্লাহকে ভয় করতেই হবে। মিডটার্ম পরীক্ষা মডিউল টেস্টগুলির মত অনলাইনে দিলেও ফাইনাল পরীক্ষা আপনাকে ফিজিক্যালি দিতে হবে IOU Approved এক্সাম সেন্টারে যেয়ে-একেবারে স্কুল-কলেজ বা ভার্সিটির পরীক্ষার মত। আর এজন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এক্সাম সেন্টার রেজিস্ট্রেশনও করতে হবে। উল্লেখ্য, এক্সাম সেন্টার রেজিস্ট্রেশন ফী দুইটা বিশাল অঙ্কের ০০ !!! [এক্সাম সেন্টার এর ব্যাপারে আরো জানতে দেখুন-http://islamiconlineuniversity.com/bais/approved-exam-center.php] 

Marks Distribution

মডিউল টেস্ট=   ১৫%

এসাইনমেন্ট=     ১৫%

মিডটার্ম=      ৩০%

ফাইনাল পরীক্ষা= ৪০%

পাশ মার্ক=    ৬০%

Besides Study…

প্রতিটি কোর্সের রয়েছে নিজস্ব Student Discussion Forum. কোর্সের যেকোন বিষয়ে মনখুলে আলাপ করতে পারেন এখানে সহপাঠীদের সাথে-তবে অবশ্যই যথাযথ ইসলামিক আদব বজায় রেখে। এছাড়াও রয়েছে Ask The TA. এখানে আপনি সংশ্লিষ্ট Tutorial Assistant কে (যিনি লাইভ ক্লাশ নিয়ে থাকেন) কোর্সের যেকোন বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারেন। এছাড়াও News Forum এর মাধ্যমে TA আপনাকে কোর্সের উপকারী তথ্যাবলী দিয়ে সাহায্য করবেন।

Fear? English?

অনেকেই বলে থাকেন-‘আমি ইংলিশে দূর্বল। এতবড় একটা প্রোগ্রাম যা কিনা পুরোটাই ইংলিশে তাতে ক্যাম্নে ঢুকি?’ যদি ইংলিশই হয়ে থাকে আপনার একমাত্র ভয় তবে আমি বলছি আপনি হাত-পা ঝেড়ে উঠে বসুন। এখানকার প্রতিটি কোর্সের রেকর্ডেড লেকচার থেকে শুরু করে প্রতিটি Materials একেবারে ‘আরামদায়ক’ ইংলিশে তৈরী (সত্যি!)। একবার আসুন জ্ঞানের এই রাজ্যে-আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন আপনার এই ভয় নিতান্তই অমূলক।

Islamic Online University এসবই আপনাকে দিচ্ছে একেবারে আপনার বেডরুমে! এজন্য আপনাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে আটকে থাকতে হবে না কিংবা পড়া ভুল করলে শিক্ষকের পিটুনিও খেতে হবে না (:P), আর আপনি যে কোন প্রয়োজনে পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুন না কেন (আটলান্টিকের মাঝখানে থাকলেও সমস্যা নেই-শুধু নেট কানেকশন থাকলেই হল :P) সেখান থেকেই IOU এর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। আর এত কিছু জানার পরেও একমাত্র অলস ছাড়া আর কে বসে থাকতে পারে? জ্ঞানের পথের এই যাত্রা শুভ হোক…এই কামনা করি।