“যাদের আমল ঈমান বিহীন তাদের বৈশিষ্ট্য মুনাফিক ও বহুরূপীদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আপনি দেখবেন এমন লোকদের ঈমানে ধ্বস নামে, তারাই অধঃপতনের শিকার হয়। বাইরে থেকে দেখলে এসব লোকেদের খুব ধর্মপ্রাণ মুসলিম মনে হবে কিন্তু হঠাৎ করে একদিন দেখবেন সে পুরোপুরি বদলে গেছে, একেবারে উল্টো আচরণ করতে শুরু করেছে। এই মানুষগুলোর আমল থাকলেও বাইরের এরূপ ছিল অন্তঃসারশূন্য।

আব্দুল্লাহ আল কাসেমী নামের এক লোক ছিল। গত শতাব্দীর প্রথমভাগে ইসলাম ও মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব এর সমর্থনে এবং বাতিল ফিরকা ও নাস্তিক্যবাদের বিরুদ্ধে সে অনেকগুলো বই লিখেছিলো। তার গভীর জ্ঞান ও ইসলামের খেদমতে অবদানের প্রশংসা করে আব্দুর যদির আবু সামহ, যিনি হারাম শরীফের একজন ইমাম, তিনি একটি কবিতাও লিখেছিলেন। এই আব্দুল্লাহ আল কাসেমী অনেকগুলো বই লিখেছিলো, বেশ কিছু বই আমি নিজেই পড়েছি। আসলেই তার প্রথম দিকের বইগুলো পড়লে আপনি উপকৃত হবেন। তার সবচেয়ে জনপ্রিয় বই গুলো হল: আস সিরা’উ বাইনাল ইসলামি ওয়াল ওয়াসানিয়্যাহ, বুরুক্বুন নাজদিয়্যাহ, মুশকিলাতিল আহাদিসি ওয়ান নাবাউইয়াতি ওয়া বায়ানিহা, আল ফাসলিল হাসিম বাইনাল ওয়াহাবিয়্যিন ওয়া মুখালিফিহিম, শুয়ুখুল আযহার, হায়াত মুহাম্মাহ, ইত্যাদি। বইগুলোতে সে বিশুদ্ধ তাওহীদ ও এর অনুসারীদের পক্ষে, নাস্তিকদের বিরুদ্ধে লেখালেখি করেছে। এই ছিল তার বাহ্যিক অবস্থা, কিন্তু আসলেই কি তাই? এই আব্দুল্লাহ আল কাসেমী নিজেই একসময় ঘোর নাস্তিক হয়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে সে ছিল এমন একজন লোক যার বাহ্যিক আমলের সাথে তার অন্তরের অবস্থা মিলত না।

আজকে যাদের দেখছেন এমন অনেক মূর্খের ব্যাপারটা একই রকম। যারা পনের বছর আগেও কোরান-হাদিস, তাওহীদের বাণী ও সালাফদের বক্তব্য প্রচার করতো, আচমকা তারা আজ মডার্নিস্ট হয়ে গেছে কিংবা মডার্নিস্ট হবার কিনারায় পৌঁছে গিয়েছে। নুসূসের অনুসরণের বদলে আজ তারা রাজনৈতিক বিশ্লেষক বনে গেছে। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বিশ্লেষণ না করে তারা সিএনএন এর জন কিং এর ভূমিকা গ্রহণ করেছে। এদের অনেকের বর্তমান কথাবার্তা ও লেখনি পনের বছর আগের অবস্থার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। হ্যাঁ, এদের অবস্থা আল কাসিম এর মত অতটা চরমপর্যায়ে এখনো পৌঁছেনি। কিন্তু তার সাথে এদের মৌলিক সাদৃশ্য বিদ্যমান, তা হলো, এদের বাহ্যিক রূপ এর সাথে অন্তরের অবস্থা মেলে না এই হলো তাদের সবার কমন সমস্যা, নাসআলুল্লাহাল ‘আফিয়াহ।”

– শাইখ আহমাদ মুসা জিব্রীল হাফিজাহুল্লাহ

ফেইসবুকে আমার বসবাস ৮-৯ বছরের মত, আমি নিজেই এমন অনেক মুখ দেখেছি, যাদের লেখা পড়ে একসময় দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা জন্মেছিলো, কালের বিবর্তনে তাদের অনেকেই আজ পুরোদস্তুর মর্ডানিস্ট, মডার্নিজমের ফিত্নামুক্ত থাকার জন্য তাদেরকেই এখন আনফলো দিয়ে রাখতে হয়েছে৷ আল্লাহ আমাদের মাফ করুন, ঈমানবিহীন আমল ও আমলবিহীন ঈমান থেকে আমাদের হিফাজত করুন। আমাদের অন্তরগুলোকে আমৃত্যু সঠিক দ্বীনের উপর ইস্তেক্বামাত রাখুন।

يا مقلب القلوب ثبت قلوبنا على دينك.
“হে অন্তর পরিবর্তনের মালিক, আমাদের অন্তরসমূহকে আপনি আপনার দ্বীনের উপর অটল ও অবিচল রাখুন।”