কুরআনের আয়াতগুলি মাঝে মাঝে আমাদের জীবনের কিছু ঘটনাকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরে যে স্তব্ধ হয়ে আল্লাহর দিকেই ফিরে আসতে হয়। একটা ঘটনা বলি।

আমি যখন এসএসসি পরীক্ষা দিই তখন আম্মার স্টোন ধরা পড়ে। সেইসময় প্রায়ই আম্মার ভয়াবহ ব্যাথা উঠত। আমি নন-মেডিক্যাল মানুষ, স্বাভাবিকভাবেই কাটা-ছেঁড়া-রক্ত-আহাজারি এগুলো সহ্য করতে পারি না। তো যারা এই ব্যাথা ভোগ করেননি অথবা চোখের সামনে কাউকে দেখেননি তারা রোগীর কষ্ট ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারবেন না। ঐ সময় কী একটা কাজে আব্বা ঢাকা গেছিল এবং বাসায় আমি আর ভাইয়া একা আম্মাকে নিয়ে ছিলাম। একদিন রাতে হঠাৎ আম্মার ব্যাথা শুরু হয়। আমি আর ভাইয়া পাশের রুমেই ঘুমাচ্ছিলাম। একেবারে শেষ রাতের দিকে আম্মা ডাকল আমাদেরকে। উঠে যা দেখলাম তাতে নিজেকে ধরে রাখতে প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছিল। ব্যাথা নাকি শুরু হয়েছে প্রথম রাতেই, সারারাত ব্যাথা নিয়ে শুয়ে ছিল। জিজ্ঞেস করলাম- কেন আগে ডাকল না ? আম্মার সরল উত্তর-‘তোদেরকে ঘুম থেকে উঠাতে চাইনি। কিন্তু শেষরাতে যখন ঘামতে শুরু করলাম তখন আরও খারাপ কিছুর আশঙ্কায় ডাকলাম।’ কথাটা শুনে আমি একেবারে থ হয়ে গেছিলাম। এই ঘটনা এখনও আমার চোখের সামনে ভাসে আর সারাজীবনেও ভুলতে পারব বলে মনে হয় না।

গত রমযানে সূরা আবাসা মুখস্থ করার সময় এই আয়াতগুলিতে এসে আবারো থমকে যাই-
“অতঃপর যখন বিকট আওয়ায আসবে,
সেদিন মানুষ পালিয়ে যাবে তার ভাই থেকে,
তার মা ও তার বাবা থেকে,
তার স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি থেকে,
তাদের প্রত্যেকের সেদিন এমন গুরুতর অবস্থা হবে যা তাকে সম্পূর্ণরূপে ব্যস্ত রাখবে”।

সেদিনের অবস্থা পুরোটা উপলব্ধি করা কোন মানুষের পক্ষেই দুনিয়াতে সম্ভব না। কিন্তু এই আয়াতগুলি মনে পড়লে আমি সবসময়ই স্মরণ করি, যে আম্মা অসহ্য ব্যাথা নিয়েও সারারাত মুখ বুজে শুয়ে ছিল শুধুমাত্র আমাদের ঘুম ভেঙ্গে যাবে বলে সেই আম্মাও সেদিন আমার আর ভাইয়ার দিকে ফিরেও তাকাবে না !
“হে আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা, দুনিয়া ও আখিরাতে আপনিই আমার অভিভাবক। আমাকে মুসলিম অবস্থায় মৃত্যু দিন এবং নেককারদের সাথে আমাকে যুক্ত করুন।”

১৭ এপ্রিল, ২০১৪