ফেসবুকে একটা গ্রুপ আছে-সৌদী আরবে উচ্চশিক্ষা। এখানে সৌদী আরবের বিশ্ববিখ্যাত ইসলামিক ইউনিভার্সিটিগুলোর ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয়। অনেক পুরনো ছাত্র যারা ইতিমধ্যেই মাদীনাহ ইউনিভার্সিটি, উম্মুল কুরা, কিং আব্দুল আযীয ইউনিভার্সিটি, কাসিম ইউনিভার্সিটি ইত্যাদি জায়গায় পড়ছেন তারাও অনেক প্রয়োজনীয় তথ্য শেয়ার করেন। এদিক থেকে গ্রুপটা বেশ কাজের।

তবে আমি সেই গ্রুপে অনেক বাংলাদেশীর পোষ্ট পড়ে হাসি। হাসার কারণ হল- মাদীনাহ ইউনিভার্সিটি নিয়ে তাদের ক্রেজ। ভাবখানা এমন যে মাদীনাহতে পড়তে না পারলে ইসলাম জানা এবং মানা কোনটাই সম্ভব না, ‘আলিম হওয়া সম্ভব না, দা’ঈ হওয়া অসম্ভব ইত্যাদি। মাদীনাহ ইউনিভার্সিটি নিয়ে এই ক্রেজ আমারও একটা সময় ছিল। আসতে আসতে আল্লাহর রহমতে বুঝতে শিখেছি যে, ইসলাম জানতে ও মানতে হলেতো বটেই এমনকি ‘আলিম হতে চাইলেও মাদীনাহতে পড়া কোন জরুরি বিষয় নয়। আসিফ সিবগাত ভাই এর একটা কথা এই প্রসঙ্গে আমার খুব মনে পড়ে-ইবনু তাইমিয়্যাহ কিংবা ইবনুল কায়্যিম কোন মাদ্রাসায় পড়েছিলেন সেটা কেউ আজ জিজ্ঞেস করে না। তাদের কীর্তিই তাদেরকে স্মরণ করার জন্য যথেষ্ট। কত সত্য কথা !! প্রতিবছর মাদীনাহ ইউনিভার্সিটিতে বাংলাদেশ থেকে কয়জন যায় আর তাদের কয়জন ডাইনামিক স্কলার হয়ে বের হয়ে আসে তা হিসেব করলেই বাস্তবতা পরিষ্কার বোঝা যাবে। আমাদের দেশের একজন বিশিষ্ট ‘আলিম মুফতি কাজী ইব্রাহীমের দিকে তাকিয়ে দেখুন। আমার ধারণা, অনেক নামীদামী ‘আলিমদের চেয়েও উনি জ্ঞানে ও প্রজ্ঞায় অনেক অনেক এগিয়ে আছেন (কোন ‘আলিম বা ‘আলিমগণকে ছোট করা থেকে আমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি)। অথচ তিনিতো মাদীনাহ ইউনিভার্সিটিতে পড়েননি।

এটা ঠিক যে, একটা ভাল প্রতিষ্ঠান ভাল পরিবেশ এবং সুযোগ সৃষ্টি করে দেয় কিন্তু সেই সুযোগ গ্রহণ করা ও কাজে লাগানো পুরোটাই ছাত্রের উপর নির্ভর করে। IOU তে Etiquette of Seeking Knowledge কোর্সে ডঃ বিলাল ফিলিপস মাদীনাহ ইউনিভার্সিটির কিছু ছাত্রের ব্যাপারে এমন কিছু তথ্য দিয়েছিলেন যা গলা শুকিয়ে যাওয়ার মত। আর ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে পড়তে চাইলে মাদীনাহ ছাড়াওতো আরও সুযোগ আছে। এছাড়া আল্লাহ কাকে ‘আলিম হিসেবে কবুল করবেন তা একান্তই আল্লাহর ইচ্ছা। বিশুদ্ধ নিয়্যাহ এবং কঠোর পরিশ্রম থাকলে এন্টার্কটিকা থেকেও আল্লাহ কাউকে ‘আলিম হিসেবে কবুল করতে পারেন। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক বুঝ দিন। আমীন।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

অমিয়ধারা, রাজশাহী