খ্রিস্টানদের গস্পেল(বাইবেল) এর ইতিহাস জানেন? এটা কি আসলেই আল্লাহর বাণী? সোজা বাংলায় বলছি। ঈসা আ. এর জন্ম হয় ৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে, আর তাকে তুলে নেয়া হয়(ওরা মনে করে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়) আনুমানিক ২৯ খ্রিস্টাব্দে ৩৩ বছর বয়সে। উনার জীবনকালে কিংবা উনার তিরোধানের অব্যবহিত পরে গসপেল লেখা হয়নি, তার একটা প্রধান কারণ- ঐ সময় পৃথিবীর বয়স/ধ্বংস এসব নিয়ে যারা পড়াশোনা করেন(Eschatological Study) তাদের হিসাব মতে পৃথিবী শেষ হওয়ার সময় খুবই নিকটবর্তী ছিলো, এই ধারণার বশে তারা যীশুর বাণী লিপিবিদ্ধ করেনি: কি লাভ এসব লিখে? দুনিয়া তো শীঘ্রই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া সেসময় লেখার উপাদানও দুর্লভ ছিলো।

সবমিলিয়ে গস্পেল লেখা শুরু হয় মোটামুটি ৭০ থেকে ১১০ খ্রিস্টাব্দের দিকে, মানে যীশুর মৃত্যুর কমপক্ষে ৪০ বছর পর। যারা লিখেন তারাও যে যীশুর সরাসরি সাহাবী ছিলেন এমনটাও প্রমাণিত না, অধিকাংশই ধর্ম প্রচারক। তারা তাদের কিছু সংগৃহীত তথ্যের সাথে নিজেদের কল্পনা-অনুমান মিশিয়ে যা লিখেন, তা-ই একেকটা গস্পেল হয়ে যায়। যেমন: Gospel of Mathew, Gospel of Mark, Gospel of Luke, Gospel of John, Gospel of Barnabas, Gospel of Mary Magdalene, Gospel of Truth, Gospel of Thomas……

দ্বিতীয় শতকের দিকে গস্পেল লেখার প্রচলন ‘কটেজ ইন্ডাস্ট্রি’র আকারে ছড়িয়ে পড়ে। বোঝেন তাইলে সত্য কতটুকু! তো একরকম অসংখ্য গস্পেল এর ছড়াছড়ি দেখে উনাদেরই একজন ধর্মপ্রচারক ইরেনাস কহিলেন: উহু, এত্ত এত্ত গস্পেল রাখা যাইবেনা৷ গস্পেলের সংখ্যা হবে ৪।

যো হুকুম, ৪ টাই রয়ে গেলো, বাকি সব বাতিল। সেই ৪ লেখকের গস্পেলই এখনো খ্রিস্টানসমাজে প্রচলিত: ম্যাথু, মার্ক, লিউক, জন। এগুলো নিয়েই নিউ টেস্টামেন্ট, কিন্তু তারও আসল ভার্শন বেচে নেই, সবচে পুরনো যেটা পাওয়া যায় তা-ও এগুলো লেখার ৩০০ বছর পরের এডিটেড ভার্শন। তারউপরও আরও ভার্শন আছে: RSV(Revised Standard Version), NIV(New International Version), New James Version আরও কত কি….

তো মজার বিষয় হচ্ছে, ৪ সংখ্যাটাই কেন তিনি বাছাই করা হলো? উনার লজিক: পৃথিবীর দিক সংখ্যা ৪, বাতাসের প্রকার ৪, এপোক্যালিপ্সের পশুর সংখ্যা ৪, সুতরাং গস্পেলের সংখ্যাও হইবে ৪। (এই মনে করেন ঠ্যালায়, ঘোরতে…..)

‘হাইস্যকর’ বটে! 

[ফুটনোট: ইসরাঈলিয়্যাত অর্থাৎ তাওরাত(Torah), ইঞ্জিল(Gospel) এসব গ্রন্থ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ব্যাপারে আমাদের মুসলিমদের মূলনীতি হলো: আমরা সেগুলো বিশ্বাসও করিনা, অবিশ্বাসও করিনা। যেহেতু এতে সঠিক তথ্য ও আন্দাজের মিশেল আছে, কোনটা সত্য কোনটা মিথ্যে আমাদেরকে জানা নেই, আল্লাহু আ’লাম।]