খুব কাছের এক হুজুরনী আন্টির সাথে ডক্টর’স রুমে বসে সুখদুঃখের গল্প করছিলাম, সহসা হুজুর ডক্টর আসিয়া রাউন্ড দিতে নিয়ে গেলেন: গল্পটা মাটিজল হইলো। যাহোক, রাত্তিরে রাউন্ড দিয়ে আবার শুক্কুরবার সকালে আরেক দফা রাউন্ড, সেই সাথে হুজুর স্যার দশ ডাক্তারের কাজ আমার একজনের হাতে দিয়ে জুমার নামাজে চলিয়া গেলেন: আমি নিশ্চুপ…ইহাই ইন্টার্নি লাইফ! হুজুরের নামাজে সাহায্য করাটা আমার কর্তব্য, উনারাও আমাকে প্রয়োজনে সাপোর্ট করিবেন, আশা রাখি।

অতঃপর ড্রেসিং শেষে আরেক হুজুর রোগী আসিলো ব্লাড রিকুইজিশন দিতে হইবে, আশপাশ থেকে এটেন্ড্যান্টের কথা কানে এলো: রোগী রোজা…
– কি বাবা, আপনি রোজা নাকি?
– না না, আফা…. (মনে করছে ডাক্তারনী দিবে একটা ঝাড়ি, ইহারা আবার রোজা টোজা রাখে নাকি??)
– ঠিক আছে, রোজা রাখবেন সমস্যা নেই, অস্বীকার করার কি আছে? কিন্তু আপনার তো স্যালাইন চলছে, আবার ব্লাড নিতে চাইছেন, স্যালাইন দিলে, ব্লাড দিলে রোজা হয়না, ভেঙে যায়, বুঝতে পারলেন? কষ্ট করে কি লাভ? যেদিন স্যালাইন, ব্লাড না দিবেন, সেদিন রাখেন…
– না মানে আশুরার রোযা।
– ও আচ্ছা, মহররমের রোযা রাখলে ঠিকাছে, কিন্তু আশুরার রোযা আগামী কাল & পরশু, আজ না, আজ রাতে খেয়ে…

হুজুর এবং হুজুরের আশেপাশের নারীসমাজের চোখে ঐৎসুক্য: ‘হুজুর হয়ে’ উনারা হুজুরনী ডাক্তারের ফতোয়া বিশ্বাস করিলেন কিনা বোঝা গেলোনা….তবে মহিলারা কিঞ্চিৎ খুশি,

– ম্যাডামের বাড়ি কোথায়?
– বাড়ি ম্যালা জায়গায়, আপাতত রাজশাহীর মানুষই বলা চলে। আচ্ছা থাকুন, আসসালামু ‘আলাইকুম…

★ মোরাল অফ দ্য স্টোরি: স্যালাইন, রক্ত কিংবা শরীরে শক্তি সরবরাহ করে এমন কোন ঔষধ শরীরে দেয়া হলে রোজা ভেঙে যায়, তবে এছাড়া অন্য কোন ঔষধ ইন্ট্রাভেনাস কিংবা ইন্ট্রামাসকুলার দেয়া হলেও রোজা বহাল থাকে। ★

[বি: দ্র: নিজেকে হুজুর/হুজুরনী বলে সম্বোধন করেছি কেবল লেবাসের ভিত্তিতেই, মানুষ হাজার বছর ধরে ‘মোল্লা’/’হুজুর’ শব্দগুলোকে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের সম্বোধন বানিয়ে ফেলেছে, কিন্তু আমরা এই সম্বোধনটাকেই সম্মানের মনে করি। যদিও হাড়ির খবর আল্লাহই ভালো জানেন: কে শুধুই লেবাসী, আর কে লেবাসী, মুত্তাক্বী, আমলী ‘হুজুর’, আল্লাহ মাফ করুন।]