আর-রহমান এবং আর-রহিম আল্লাহর নামে

অধ্যায় ৮: চোরাফাঁদ গুলো এড়িয়ে চলার কিছু উপায়

বহু উপায় রয়েছে যার মাধ্যমে একজন ত্বলিবুল ‘ইলম এসমস্ত বিভ্রান্তি ও ভুল থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে পারে। যেমন-

১. একজন ত্বলিবুল ইলমের অবশ্যই জ্ঞানার্জনের আদবের উপর লেখা বইগুলো অধ্যয়ন করা উচিৎ। বহু আলেম এ বিষয়ে লিখে গেছেন। এ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিচে উল্লেখ করা হল:

  • ইবনে আব্দিল বার- “জামি বায়ান আল ইল্ম ওয়া ফাদলুহু”(জ্ঞান ও এসংক্রান্ত আদাব উন্মোচক একটি সংকলন)
  • আল-খতিব আল বাগদাদি- ‘আল জামি ফি আদাব আল-রাঊই ওয়া আখলাক আল-সামি”(বক্তা ও শ্রোতার অনুসৃত আদাবসমূহের সংগ্রহ)
  • ইবনে আল জাওযি- “সায়দ আল খাতির’ (মনস্তত্ব সাধনা)
  • আল সাম’আনি- “আদাব আর ইমলা ওয়া আল ইসতিমলা”( লেখা ও দিক নির্দেশনা প্রদানের আদাব)
  • আল-নাওয়াউই- তাঁর আল মাজমু গ্রন্থের ভুমিকা।
  • আল গাজালি- তাঁর “ইহয়া উলুম আল দ্বীন” গ্রন্থের ভুমিকা
  • ইবনে জামা’আহ- তাযকিরাহ আল-স্বামী ওয়া আল-মুতাকাল্লাম ( বক্তা এবং শ্রোতার জন্যে স্মরণিকা)
  • আয-যাহাবি- “বায়ান যাঘাল আল ইল্ম” ( মিথ্যা জ্ঞান উন্মোচন)
  • আশ-শাওকানি- মুনতাহা আল আরব ফি আদাব আত-তালাব (লক্ষে পৌছাঃ জ্ঞান অন্বেষণের আদাব)
  • শায়খ বাকর আবু যায়দ- “হিলইয়াহ ত্বলিবুল ইলম” ( জ্ঞান অন্বেষকের অলংকার)

২. একজন ছাত্রকে সবসময় নিজেকে আত্মজিজ্ঞাসায় নিয়োজিত রাখা উচিৎ। যখনই সে কিছু করে তখন তার স্বীয় বিবেককে জাগরুক রাখা প্রয়োজন এবং নিজেকে জিজ্ঞেস করা প্রয়োজন যে কী তাকে এমনটি করতে উদ্বুদ্ধ করল।  নিজ সম্পর্কে তার অসচেতন থাকার কোন সুযোগ নেই। বিবেচনাবর্জিত এবং তাড়াহুড়োপ্রবণ হয়ে কোন জিনিসে তার জড়িয়ে পড়া উচিৎ নয়।  প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়ে তার চিন্তা গবেষণা করা উচিৎ যেন সুন্নাহর ইত্তেবার নাম করে নিজের প্রবৃত্তি পূজায় সে লিপ্ত না হয়ে যায়।

৩. একজন ত্বলিবুল ‘ইলম এর উচিৎ নির্ভরযোগ্য ‘আলিমের কাছ থেকে ইলম হাসিল করা। একান্ত বাধ্যগত ও বিনম্রতার সাথে তাদের সামনে বসা উচিৎ যাতে সে তাদের নিকট থেকে ‘ইলম ও আচরণ- উভয়টিই লাভে সমর্থ হয়।

৪.  একজন ত্বলিবুল ‘ইলম এর উচিৎ আরেকজন ত্বলিবুল ‘ইলমের সাথেই সময় কাটানো। তাদের পরামর্শ দেওয়া এবং তাদের থেকে পরামর্শ গ্রহন করা। এসমস্ত ছাত্রদের উচিৎ পারষ্পরিক আয়নার মত কাজ করা এবং একে অপরের ত্রুটি বিচ্যুতি গুলো ধরিয়ে দেওয়া।

৫.একজন ছাত্রের ইলম অন্বেষণের যাত্রায় সুন্দর ও সুষ্ঠু পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিৎ। জ্ঞানের উদগ্র বাসনা যাতে তাকে বিক্ষিপ্ত তথ্যানুসন্ধানেই সীমাবদ্ধ করে না রাখে। কারণ এটি যদিও তাকে কিছু শেখাবে কিন্তু সে কখনোই প্রকৃত জ্ঞানরাজ্যে পদচারণ করতে পারবে না।

৬. একজন ত্বলিবুল ‘ইলমের অবশ্যই কবিরা ও সগীরা গুনাহ এড়িয়ে চলা উচিৎ।  তার হওয়া উচিৎ এমন যেমনটি ইবনুল মুবারক(রাহিমাহুল্লাহ) তার কবিতায় বলেন,

“ছোট আর বড় পাপ কর ত্যাগ, ইহাই ধার্মিকতা

যেন কন্টকাকীর্ণ পথের পথিক চেয়ে দেখছে সতর্কতায়

নুড়িপাথরে গড়ে পর্বত,পড়ে যেওনা ছোট পঙ্কিলতায়”

উপসংহার:

আমরা আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই যেন কুরআন-সুন্নাহ অনুসারে চলতে পারি। তিনি যেন আমাদের সত্যকে সত্যের মত করেই চেনার তৌফিক দান করেন এবং আমাদের তা অনুসরণের শক্তি দেন এবং তিনি যেন প্রকৃত মিথ্যা কে চেনার এবং তা এড়িয়ে চলার তৌফিক দান করেন।

সকল প্রশংসা জ্ঞাপন করছি আল্লাহর দরবারে, আল্লাহর শান্তি, বরকত বর্ষিত হোক  রাসুল মুহাম্মাদ , তার পরিবার এবং সাহাবীগণের উপর।

[সমাপ্ত]