মনে করুন, খুব দরকারি জটিল একটি কাজ অনেকদিন ধরে পড়ে আছে। করি করি করেও হাত দেয়া হচ্ছেনা করতে পারবেন না ভেবে….

অথবা, একটি এসাইনমেন্ট করা বাকি আছে, যার ২০-৩০% হয়তো আপনার আয়ত্ত্বে আছে, বাকিটুকু এত ঝামেলার যে করা সম্ভবই না, তাই পড়ে আছে।

কিংবা আপনি কিছুদিন নেটওয়ার্কের বাইরে ছিলেন, ফিরে আসার পর দেখছেন মেসেঞ্জার কিংবা জিমেইলে একগাদা মেসেজ জমা হয়েছে। কয়টার উত্তর দেবেন?

অনেকগুলো দু’আ কিংবা সুরাহ মুখস্থ করার প্ল্যান করেছেন, কিন্তু সময় করে তা নিয়ে বসা হচ্ছেনা।

শুধুমাত্র এই গড়মসির কারণেই আমাদের অনেক দরকারি কাজ অসমাপ্ত রয়ে যায়, অনেক মূল্যবান সময় ভাবতে ভাবতেই হাতছাড়া হয়ে যায়। একটুখানি উঠে দাড়ানো দরকার, তাই না? এর আগে এক পর্বে এ বিষয়ে ‘পোমোডোরো টেকনিক’ আর ‘টু-মিনিট থিওরি’ নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। এ পর্বে যেটি আলোচ্য, সেটি আরও এই দুইটি টেকনিকের মাঝামাঝি- ২ মিনিটের বেশি, ২৫ মিনিটের কম….

পনির চিনেন না, এমন কেউ আছে কি? তবে সুইজারল্যান্ডে এক প্রকারের পনির পাওয়া যায়, সেটা একটু অন্যরকম। পনিরের ভেতরে ছোট-বড় গোল গোল ছিদ্র থাকে। এই বিশেষ ধরণের পনির ‘Swiss Cheese’ নামে পরিচিত। প্রখ্যাত মার্কিন লেখক এলেন লেকিন তার “How to Gain Control of Your Life & Your Time” (বইটি তিন মিলিয়নেরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে) বইয়ে এই সুইস চিজের সাথে তুলনা করে টাইম ম্যানেজমেন্টের একটি মডেল তুলে এনেছেন- “সুইস চীজ মডেল”। গড়িমসি কাটানোর উপায় হিসেবে এই মডেলটি খুব প্রসিদ্ধ।

IMG_20191014_075215

সুইস চীজের একটি টুকরো যদি আপনার পুরোটা কাজ হয়, ভেতরকার ছিদ্রগুলোর মত প্রথমে একটিমাত্র ছিদ্র করুন, ধীরে ধীরে পুরোটা চীজই শেষ হয়ে যাবে। এজন্য কী করতে হবে?
– কাজের ফাকে যখনই আপনি ৫ বা ১০ মিনিট সময় ফাকা পান, জটিল বা বড় কাজটির সামান্য একটু করে ফেলুন। যেমন- এসাইনমেন্টের একটি সহজ অংশ লিখে রাখুন, ইনবক্সের অনেক মেসেজের ভেতর ২/৩ টি মেসেজের রিপ্লাই দিয়ে ফেলুন, প্রায় অসম্ভব কাজটির ছোট্ট যে অংশটুকু আপনার সাধ্যে আছে সেটুকু করে ফেলুন, একটি ছোট দু’আ বা অর্ধেক মুখস্থ করে ফেলুন, কুরআনের একটি আয়াত হিফজ করে ফেলুন।

ফাকা সময় কখন? মনে করুন, লেকচার ক্লাসে গিয়ে দেখলেন ১০ মিনিট সময় বাকি আছে। খাবার ক্যান্টিনে খেতে বসলেন, ১০ মিনিট পর খাবার পাবেন। কারো সাথে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করছেন, সে আসতে দেরি করছে। অফিসে যাওয়া-আসার পথে লম্বা জ্যামে পড়েছেন, ঐ সময়টুকু কাজে লাগান। অফিসে কাজের ফাকে সবাই চা খাওয়ার পরেও আরেকটু সময় হাতে আছে। বাচ্চাকে পায়ে দুলিয়ে ঘুম পাড়াচ্ছেন, রান্নাঘরে রান্না চড়িয়ে অপেক্ষা করছেন- এরকম অসংখ্য ছোট ছোট ফাকা সময় আমরা প্রতিদিন অবহেলায় কিংবা শুধু ফেইসবুকিং করেই কাটিয়ে দিই।

তো এই মডেলের মূলকথা হচ্ছে, পুরোটা পেইন একসাথে নিতে হবেনা, যেটুকু পারেন সেটুকুই শুরু করুন। সুইস চীজের প্রথম হোলটি পাঞ্চ করুন, আবার ফাকা সময় পেলে আরেকটি, এরপর আরেকটি… একসময় পুরোটা কাজই শেষ হয়ে যাবে। আপনি একটু চেষ্টা করে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করলে বাকিটা আল্লাহই এগিয়ে নেবেন। আমি নিজে এই থিওরিটা না জেনেই প্রয়োগ করেছি বহুদিন, এখন তা জেনে করছি। ফাকে ফাকে একটু একটু করেই অনেক বড় বড় কাজ শেষ করে ফেলা যায়, আলহামদুলিল্লাহ।

আসুন, প্রতিটি সময় হিসেব করে খরচ করি। সুফিয়ান আস-সাওরী রহিমাহুল্লাহ বলেছিলেন-

“যে সময় নষ্ট করে, সে তার ফসলের ক্ষেত নষ্ট করে। আর যে ক্ষেত নষ্ট করে, তাকে ফসল কাটার সময় পস্তাতে হয়।”