আচ্ছা বলুন তো, মুখের উপর ‘না’ বলে দেয়া কি কোন ভালো কাজ? একবাক্যে উত্তর আসবে- না। তবে সত্য হচ্ছে, এটি ভালো কি মন্দ, তা নির্ভর করবে প্রকাশভঙ্গির উপর। কখনো কখনো এটি শুধু ভালোই নয়, বরং টাইম ম্যানেজমেন্টের একটি অত্যাবশকীয় টুল।

➤ প্রকাশভঙ্গির উপর ভিত্তি করে আমাদের কমিউনিকেশনকে ৩ টি স্টাইলে ভাগ করা হয়-
১. Passive ২. Assertive ৩. Aggressive

একজন প্যাসিভ ব্যক্তিত্ব কাউকে না করতে পারেনা, অনুরোধে ঢেকি গিলতে গিয়ে এদের জীবনের আসল লক্ষ্য পূরণেই এরা পিছিয়ে পড়ে। অপরদিকে এগ্রেসিভ ব্যক্তিত্ব কেবল নিজের স্বার্থটাই বোঝে, চিৎকার চেচামেচি ও দোষারোপ করে কথা বলাই এদের অভ্যাস। সেখানে একজন এজার্টিভ ব্যক্তিত্ব অন্যের স্বার্থও দেখে, আবার নিজের প্রয়োজনে দৃঢ় হতেও জানে; ভদ্রভাবে হ্যা কে হ্যা, না কে না বলতে জানে। টাইম ম্যানেজমেন্টের জন্য আমাদের এই ‘এজার্টিভ স্টাইল’টিই অনুসরণযোগ্য।

➤ এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কিছু কাজ কিংবা অনুরোধকে কেন আমাদের ‘না’ বলতেই হয়?
কারণটা হচ্ছে, “Every ‘yes’ comes with ‘no’ to some other things. অর্থাৎ একটি কাজকে ‘হ্যা’ বলতে হলে অবশ্যই তার জন্য আর কিছু কাজ আমার জীবন থেকে ‘না’ এর খাতায় চলে যায়, কারণ আমাদের জীবন তো সংক্ষিপ্ত, সময়ও সীমাবদ্ধ। এখন আমাকেই নির্ধারণ করতে হবে, দুনিয়া ও আখিরাত দুই দিকের ফল বিবেচনায় কোন কাজটিকে আমি ‘না’ এর ঘরে ফলতে চাই, আর কোন কাজকে ‘হা’ এর ঘরে।

➤ এ বিষয়ে খুব পরিচিত একটি বই “Power of No” এর লেখক জেমস আল্টাশার বলেছেন- আপনি যখন কারো অনুরোধে ঢেকি গিলে কোন কঠিন কাজের দায়িত্ব নেন, তখন ফলাফলটি এমন দাড়ায়:
আপনি একসময় কাজটি ঘৃণা করতে শুরু করেন ⇨
যে ব্যক্তি কাজটি আপনাকে দিয়েছিলো তার প্রতিও মনে ঘৃণা জন্মাতে শুরু করে⇨
কাজের মান আশানুরূপ হয়না ⇨
ফলে সেই ব্যক্তিও একসময় আপনার উপর বিরক্ত হতে শুরু করে।

তারমানে ব্যস্ত মানুষদের জন্য ‘পরে তিতার চেয়ে আগে তিতাই শ্রেয়’। আর এ জন্যই আমাদের ‘না’ বলা শেখাটা দরকার।

➤ কেউ আমাকে কোন কাজে ডাকলে ‘হা’ বলার আগে আমরা ৪ টি বিষয় বিবেচনায় রাখতে পারি-
১. কাজটি করলে কি আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন?
২. কাজটি কি আমার জীবনের লক্ষ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট?
৩. কাজটি করার জন্য আমি কি সত্যিই যোগ্য/উপযুক্ত?
৪. কাজটি করার মত সময় কি আমার হাতে আছে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যদি হা-বোধক হয়, তবে আপনি ‘হ্যা’ বলতে পারেন, অন্যথায় ‘না’।

➤ এবার আসি, ‘না’ আমরা কিভাবে ভদ্রতা বজায় রেখেই বলতে পারি?
 তুমি তো সবসময় আমাকেই কঠিন কাজগুলো ধরিয়ে দাও। আমাকে বলে লাভ নেই, হাজার বার বললেও আমি এটি করবো না।

 সব কাজে কেন আমাকেই লাগবে? মগের মুল্লুক পেয়েছো নাকি?

এগুলো এগ্রেসিভ এপ্রোচ। এজার্টিভ এপ্রোচে কিভাবে ‘না’ বলা যায়, তার কিছু উদাহরণ দিই-

 আচ্ছা, ব্যাপারটা নিয়ে আমাকে আরেকটু চিন্তা করতে দাও, কেমন?
 তোমার আইডিয়াটি চমৎকার! আসলে আমি অমুক কাজের কথা দিয়ে না রাখলে অবশ্যই তোমাকে হেল্প কররে পারতাম।
 আমি জানি, তুমি খুব করে চাচ্ছো আমি যেন উপস্থিত থাকি। কিন্তু আমি মন থেকে চাইলেও ব্যস্ততার কারণে পারছিনা।
 এখন তো হাতে একদম সময় নেই। এক মাস পরে হলে হয় কি?
 আমি খুবই দুঃখিত, কিন্তু আমি আসলেই তোমাকে সাহায্য করতে পারছিনা।
 আমিতো এখন সময় দিতে পারছিনা, ‘অমুক’কে বলে দেখতে পারো, উনি এ কাজে বেশ অভিজ্ঞ বলে জানি।

এতক্ষণে বোধহয় আমরা শিখতে পারলাম, ভদ্রভাবে কি করে ‘না’ বলতে হয়। সালাফদের জীবনেও আমরা সময়সচেতনতার এরকম প্রচুর উদাহরণ পেয়ে থাকি। প্রখ্যাত যাহিদ তাবেয়ী আমের ইবন আবদে কায়েস রহ. কে একবার এক ব্যক্তি এসে বললেন, আমাকে একটু সময় দিন, আমি কিছু কথা বলবো। তিনি উত্তরে বললেন:

“তাহলে তুমি সূর্যকে থামিয়ে রাখো।”