বাস্তবতা হল জ্ঞান যত সহজলভ্য হচ্ছে মূর্খতা আর আবেগ ততই বাড়ছে। অনেক ইয়াং ইসলামিস্তো ব্রাদার এতটাই আবেগ দিয়ে চলছেন যে, তারা এখন একটা মানহাজ অনুসরণ করেন তো কিছুদিন পর ইন্টারনেটে একটা আর্টিকেল পড়েই মুহূর্তের মধ্যে পল্টি খান। যে মতাদর্শ তিনি নিজে পরিহার করতেন, আর্টিকেল কিংবা লেকচারের বদৌলতে এক মুহূর্তে সেই মতাদর্শের একজন মুকাল্লিদ বনে যান। কিছুদিন পর আবার ভিন্নধারার কিছু পড়লে এরা “এমনটাতো ভাবিনি!” মনে করে মাথা চুলকাতে বসেন এবং এর সমাধানে বড়জোর ইউটিউবে কিছু লেকচার ঘাঁটাঘাটি করেন। বাই চান্স, তাদের নিত্য পরিবর্তনশীল মানহাজের সপক্ষে কোন ‘আলিমের বক্তব্য পেলেই তারা ভেবে বসেন,”এইতো পাইছি! কইছিলাম না এটাই ঠিক?”

এরা প্রচণ্ড আবেগ দিয়ে চলে। এদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল কুরআন-হাদীস-সিরাহ থেকে র‍্যানডম ঘটনা কোট করা আর বর্তমানে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার “যুগের সাথে প্রাসঙ্গিক” সমাধান দান করা। অথচ শুধুমাত্র কুরআন-হাদীস-সীরাহ এর টেক্সটই যে যথেষ্ট নয় ফতোয়া বের করার জন্য বরং একটা ফতোয়া দিতে হলে কতশত বিষয় যে ‘আলিমদের মাথায় রাখতে হয় তার কোন ধারণাই তাদের নাই। এরা নেট ঘাঁটাঘাটি করে যে মানহাজ নিজেদের বলে স্থির করে তার পক্ষের ‘আলিমদের ছাড়া বাকি সব ‘আলিমকেই প্রত্যক্ষ/পরোক্ষভাবে এভয়েড করে। তবে কোন একটা ইস্যুতে তাদের মত যদি ভিন্ন মতধারার ‘আলিমদের সাথে মিলে যায় তবে তারাই গলা ফাটিয়ে বলে, “দ্যাখ! তোদের ‘আলিমরাই কইতেছে আর শুধু আমাদের দোষ !” এদেরকে কোন বই পড়তে বললে বা কোন ‘আলিমের মত বললে এদের কমন একটা কথা হল, “আপনি আগে অমুক লেকচারটা দেইখা আসেন।” এই “অমুক লেকচার” তারা কথায় কথায় দেখতে বলেন এবং কাউকে কিছু বলার সুযোগ দেওয়াটাও তাদের কাছে গর্হিত অপরাধ বলে বিবেচিত।

এদের এমন আচরণের মূল কারণ জ্ঞানের অভাব। তবে জ্ঞান অর্জন করতে বললেই আবার শুনতে হয়, “আপনি আগে অমুক লেকচারটা দেইখা আসেন।”

১৫ মে, ২০১৪