“ফজরের নামাজে একদম উঠতে পারিনা, কী যে করি! আল্লাহ নিশ্চয়ই মাফ করবেন, তিনি তো….”

আপনি যদি এমনটি ভেবে থাকেন, তবে একটু কষ্ট করে প্রশ্নগুলো মিলিয়ে দেখুন:

♦ আপনার অফিস যদি সকাল ছ’টা/সাতটায় হয়, এ পর্যন্ত কয়দিন ঘুমের কারণে অফিসে যেতে দেরি করেছেন?

♦ আপনি যদি স্কুল, কলেজ কিংবা ভার্সিটির স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন; তবে সকালবেলায় হয়েছে, এমন কয়টি পরীক্ষা জীবনে ঘুমের কারণে মিস করেছেন?

♦ আপনি যদি বাস/ট্রেন/প্লেনে সফর করে থাকেন দূরপথে, জীবনে কতবার টিকেট কেটেও ঘুমের কারণে সকালের বাস/ট্রেন/ফ্লাইট মিস করেছেন?

♦ আপনি যদি রিলেশানশিপ এ থাকেন কিংবা বিবাহিত হয়ে থাকেন, সকালবেলা বয়ফ্রেন্ড/গার্লফ্রেন্ড/স্পাউজ দূর থেকে দেখা করতে এসেছে, আপনি ঘুমের কারণে দেখা করতে যেতে পারেননি, এমন কয়বার হয়েছে জীবনে?

♦ আপনার যদি এমন কোন অসুখ হয়ে থাকে, যার জন্য ডাক্তার দেখাতে কিংবা টেস্ট করাতে ভোরবেলা লাইন দিতে হয়েছে, ঘুমের কারণে মিস করেছেন, এমন কতবার হয়েছে?
.. .. ..

প্রশ্নগুলোর কোনটির উত্তর যদি এমন হয়, যে আপনি অনেকবার করেছেন, অগণিতবার করেছেন; তাহলে আপনার দাবি সত্য। যদি বিপরীত হয়ে থাকে, তবে আপনি ফজরের নামাজে ওঠার জন্য চেষ্টা করেও পারেননা, এই দাবি মিথ্যে, চূড়ান্ত মিথ্যে। এবার আরেকটি প্রশ্ন মিলিয়ে নিশ্চিত হউন:

♦ একটা পরীক্ষা, অফিস, ফ্লাইট, এপয়েন্টমেন্ট মিস করার জন্য আপনার মন কতখানি খারাপ হয়েছে? সারাদিন কতবার মনে পড়েছে ঘটিনাটি? কতবার আফসোস করেছেন? কতখানি সতর্কতা অবলম্বন করেছেন, যে জীবনে আর এমন ভুল দ্বিতীয়বার করবেন না? পরের বার কতজনকে বলে রেখেছেন ডেকে দেয়ার জন্য? মোবাইলে কয়টি এলার্ম দিয়েছেন সতর্কতা হিসেবে?

.. .. ..

এবার ভেবে দেখুন, এক ওয়াক্ত ফজরের নামাজ মিস গেলে আপনার কতটুকু খারাপ লেগেছে? দিনে কতবার মনে পড়েছে? কতবার আফসোস করেছেন? পরের দিনের জন্য কতখানি সতর্কতা অবলম্বন করেছেন? কয়টি এলার্ম দিয়েছেন? কয়জন নামাজীকে বলে রেখেছেন ডেকে দেয়ার জন্য??

.. .. ..

দুই গ্রুপের উত্তরে যদি আকাশ পাতাল ফারাক হয়, তবে তারমানে এটাই দাঁড়ায় যে:

“আপনি ফজরের নামাজকে এখনো আপনার অফিস, পরীক্ষা, ফ্লাইট, স্পাউজ কিংবা চিকিৎসার সমান গুরুত্ব দিতে পারেননি(অথচ হাদীসে এসেছে, ফজরের শুধু দুই রাকাত সুন্নাত নামাজের মূল্যই গোটা দুনিয়া আর এর মধ্যে যা কিছু আছে সমস্ত কিছুর চেয়ে বেশি, সেখানে ফরযের মূল্য কতখানি?) ; আপনি অফিসের বস, শিক্ষক, স্পাউজকে যতখানি ভয় পান কিংবা ভালোবাসেন, আপনার সৃষ্টিকর্তা, লালনকর্তা, পালনকর্তা, রিযিকদাতা, জীবনদাতা, মৃত্যুদাতা, প্রতিমুহুর্তের আশ্রয়দাতা, গোটা ইউনিভার্সের নিয়ন্ত্রণকর্তা মহান আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীনকে ততখানি ভয় পেতে কিংবা ভালোবাসতে এখনো পারেননি। তাহলে প্রস্তুত থাকুন, ওয়াল্লাহি, আপনাকে আল্লাহর সম্মুখে অবশ্যই দণ্ডায়মান হতে হবে, আপনার প্রতিটি মিথ্যে অজুহাতের চুলচেরা বিশ্লেষন রাজাধিরাজের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আপনাকেই করতে হবে। আপনি যদি দুনিয়াবি একটা এক্স্যামের জন্য দিনের পর দিন মাঝরাত্রি পর্যন্ত জেগে পড়েন আর ফজরের সময় ঘুমিয়ে থাকেন, অফিসের বসের ভয়ে ঠিক ঠিক অফিসে পৌঁছেন, কেবল নামাজের খাতায়ই এবসেন্ট মার্ক পড়তে থাকে, তবে কেবল শ্বাসটুকু বন্ধ হওয়ার জন্য অপেক্ষায় থাকুন, কাঠগড়ায় আপনাকে দাড়াতেই হবে।
.. .. ..

আপনি প্রস্তুত তো???