বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

খুলাফায়ে রাশেদার যুগ (৬৩২-৬৬১ খ্রীষ্টাব্দ)

এই সময়কাল হল আবূ বাকর (রা.)এর খিলাফত থেকে আলী (রা.) এর মৃত্যু পর্যন্ত। এই সময় ইসলামী সাম্রাজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটে এমনকি সিরিয়া, জর্ডান, মিশর, ইরাক এবং পারস্যদেশ পর্যন্ত ইসলাম পৌঁছে যায়। এর ফলে মুসলিমগণ এমন সব নতুন নতুন ব্যাবস্থা, সংস্কৃতি ও রীতিনীতির সাথে পরিচিত হতে শুরু করে শারী’আহ তে যার সুস্পষ্ট কোন সমাধানের উল্লেখ নেই। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য চার খলিফার প্রত্যেকেই ব্যাপকভাবে ইজমা এবং ইজতিহাদ এর উপর নির্ভর করতে শুরু করেন। আগেই বলা হয়েছে, ইজতিহাদ এর প্রশিক্ষণ রাসূল(সা.) তাঁর জীবদ্দশাতেই সাহাবাগণকে দিয়েছিলেন। আর তারই আলোকে এই সময় সাহাবাগণ ইজতিহাদ শুরু করেন। এভাবেই ফিক্বহশাস্ত্রের দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান-‘ইজমা’ ও ‘কিয়াস’ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়।

খুলাফায়ে রাশেদা একটি নির্দিষ্ট গঠনমূলক পদ্ধতিতে নতুন সমস্যাবলি সমাধান করতেন এবং একটিতে খুঁজে না পেলেই কেবল পরেরটিতে যেতেন। এগুলো হল-

(১) প্রথমেই সমস্যাটির সমাধান খুঁজতেন কুরআনে

(২) এরপর সুন্নাহয়

(৩) দ্বীনের জ্ঞানে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জনকারী সাহাবাদের নিয়ে শূরা করতেন এবং এখান থেকে ইজমায় আসার চেষ্টা করতেন

(৪) ইজমা সম্ভব না হলে অধিকাংশ সাহাবার মত গ্রহণ করতেন

(৫) অধিকাংশ সাহাবা কোন একটি মতের উপর একমত হতে না পারলে খলীফা তাঁর নিজের মত গ্রহণ করতেন এবং এটাই চূড়ান্ত সমাধান হিসেবে বিবেচিত হত। এই ক্ষমতা খলীফার ছিল।

এখানে দুটি প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক- এক, কেন সকল সাহাবাকে না নিয়ে শুধু গভীর পাণ্ডিত্য অর্জনকারী সাহাবাদের নিয়ে মিটিং হত এবং দুই, সকল মতের উপর খলীফার নিজের মত চূড়ান্ত করার অধিকার কি একনায়কতান্ত্রিক নয়?

প্রথমটির উত্তরে বলা যায়, তা আদৌ সম্ভব ছিল না কারণ, সাহাবাদের সংখ্যা ১০-১৫ জন ছিল না বরং হাজার হাজার ছিল এবং এত সংখ্যক সাহাবাকে নিয়ে মিটিং করা একেবারেই অবাস্তব ধারণা। এছাড়াও অনেক সাহাবী রাজধানী মাদীনা ছেড়ে বাইরে চলে গিয়েছিলেন এবং সেজন্য তাদের পক্ষে আসা সম্ভব হত না। উমার(রা.) তাঁর শাসনামলে দ্বীনের জ্ঞানে পণ্ডিত সাহাবাগণকে মক্কা ও মাদীনা ছেড়ে যেতে নিষেধ করেছিলেন। অবশ্য অন্যান্য গুণে গুণান্বিত সাহাবাগণকে (যেমন-খালিদ ইবনু ওয়ালিদ) তিনি এই অনুমতি দিয়েছিলেন।

দ্বিতীয়টির উত্তরে বলা যায়, এর নমুনা রাসূল(সা.) এর জীবদ্দশাতেই পাওয়া যায় এবং রাষ্ট্রনায়কের এই ক্ষমতা স্বয়ং রাসূলুল্লাহ(সা.) প্রয়োগ করেছেন। বদর যুদ্ধে বন্দীদের কী করা হবে তা নিয়ে যখন বিতর্ক চলছিল তখন আবূ বাকর(রা.) মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে মত দেন কিন্তু উমার(রা.) তাদেরকে হত্যা করার পক্ষে মত দেন। অধিকাংশ সাহাবাগণ ওইসময় তাদেরকে হত্যা করার পক্ষে ছিলেন কিন্তু রাসূলুল্লাহ(সা.) নিজের সিদ্ধান্তে তাদেরকে মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেন।

আগেই বলা হয়েছে এই সময়ে ব্যাপকভাবে ‘ইজমা’ ও ‘ইজতিহাদ’ এর প্রচলন হয়। তবে সাহাবাগণ যত্রতত্র ইচ্ছামত ইজতিহাদ করতেন না বরং এই ব্যাপারে তাঁদের কর্মপন্থা ছিল অত্যন্ত নিঁখুত। কোন বিষয়ে ইজতিহাদ করলে তাঁরা সর্বদাই বলতেন এটা কেবলই তাঁদের ব্যাক্তিগত মত, কিছুতেই চূড়ান্ত মত নয় এবং তাতে ভুলের সম্ভাবনাও তাঁরা স্বীকার করতেন। যখন কোন বিষয়ে তাঁদের কাছে সহীহ সূত্রে কোন হাদীস পৌঁছত এবং নিজের পূর্বমতের সাথে হাদীসের বিরোধীতা খুঁজে পেলে সাথে সাথে নিজের মত ছেড়ে দিয়ে হাদীস মেনে নেওয়ার মানসিকতা তাঁদের ছিল। এছাড়াও কোন একটি বিষয়ে একাধিক সাহাবী একাধিক মত দিলে প্রত্যেকের মতকে পূর্ণ সম্মান দেওয়ার ও এ নিয়ে দলাদলি না ছড়ানোর মানসিকতা তাঁদের ছিল ঈর্ষনীয় পর্যায়ের। আল্লাহ তাঁদের প্রত্যেকের উপর সন্তুষ্ট থাকুন।

রাসূলুল্লাহ(সা.) এর মত এই পর্যায়েও ইখতিলাফ ছিল খুবই সামান্য এবং তা নিয়ে কোন বিরোধ কিংবা দলাদলি সৃষ্টি হওয়ার প্রশ্নই ছিল না। এর পিছনে মূলত আরো কিছু কারণ বিদ্যমান ছিল। খলীফা সর্বদা শূরার মাধ্যমে ইজমায় আসার চেষ্টা করতেন। পণ্ডিত সাহাবাগণ মাদীনা ও তার আশেপাশেই ছিলেন সুতরাং সহজেই শূরা ও ইজমা সম্ভব ছিল। এছাড়াও ফতোয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেক সাহাবীর ছিল দারুণ অনীহা। তারা মূলত ভুল মত দেওয়ার ভয় থেকেই ফতোয়া দানে বিরত থাকতে চাইতেন। এসব ছাড়াও হাদীসের অপ্রতুলতা মতভেদ স্বল্প থাকার পিছনে একটি মুখ্য কারণ। মূলত ভুল হাদীস বর্ণনা করার ভয় ও অতিরিক্ত হাদীস বর্ণনার নিষেধাজ্ঞা থেকেই এই অপ্রতুলতার সৃষ্টি হয়।

খুলাফায়ে রাশেদার সময় ফিক্বহ এর কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। এগুলো হল-

(১) এই সময় ফিক্বহ ছিল ‘বাস্তবভিত্তিক’ (Realistic Fiqh)। অর্থাৎ কোন সমস্যার মুখোমুখি হলেই কেবল তার সমাধান খোঁজা হত, এর পূর্বে নয়। এছাড়াও সমস্যা সমাধানে কুরআন ও হাদীসের বক্তব্যের (Text) আক্ষরিক অর্থের (Literal Meaning) উপর নির্ভর করা ছিল এই যুগের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য।

(২) খলীফা কিংবা সাহাবাগণ এই সময় ফতোয়া দানের কোন সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন রচনা কিংবা সংকলিত করেননি। প্রত্যেকের ব্যক্তিগত পন্থা ও মতের উপর সম্মান দেখান এবং সাধারণ জনগণকে কুরআন অধ্যায়নের গুরুত্ব বোঝাতে চাওয়াই ছিল এর কারণ।

(৩) এই সময়ে কিছু শারী’আহ আইনের Modification হয়। কোন নির্দিষ্ট আইনের পিছনে যে কারণ ছিল তা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া (যেমন-অমুসলিমদেরকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য যাকাত দেওয়ার বিধান উমার রা. বিলুপ্ত করেন) এবং সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের (উমার রা. কর্তৃক তালাক আইনের পরিবর্তন) কারণে এমনটি করা হয়।

আগেই বলা হয়েছে পণ্ডিত সাহাবাগণ মক্কা ও মাদীনায় অবস্থান করলেও কিছু সাহাবী বাইরে ছড়িয়ে পড়েন এবং সেখানকার পরিবেশ, পরিস্থিতি ও প্রয়োজন অনুসারে ইজতিহাদ করতে থাকেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, মাদীনায় ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার এবং কুফায় (ইরাক) ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ নিজস্ব ইজতিহাদ বজায় রাখেন এবং এভাবেই পরবর্তী প্রজন্মের ‘উলামাদের মাঝে মতভিন্নতার এক নতুন দ্বার উন্মুক্ত হয়।

উমাইয়্যা খলীফাদের যুগ (৬৬১-৮০০ খ্রীষ্টাব্দের মাঝামাঝি)

আলী (রা.) এর মৃত্যুর পর মুয়াউইয়াহ ইবনু আবি সুফইয়ান (রা.) খলীফা হন এবং এর সাথে উমাইয়া শাসনের গোড়াপত্তন হয়। ফিক্বহ বিবর্তনের এই পর্যায়টি মুয়াউইয়াহ(রা.) এর খিলাফতের শুরু থেকে শেষ উমাইয়া খলীফার পতন পর্যন্ত প্রায় ১০০ বছর বিস্তৃত ছিল।

এই সময়কালে একদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অন্যদিকে উম্মাহর বিভক্তি, রাষ্ট্রব্যাবস্থা খিলাফত থেকে রাজতন্ত্রে পরিণত হওয়া, নতুন নতুন বিদ‘আতের উদ্ভাবন এবং হাদীস জালকারীদের আবির্ভাবের ফলে সমগ্র উম্মাহ বেশ বড়সড় ফিতনার মধ্যে পড়ে যায়। তাই এই পর্যায়ে ফিক্বহশাস্ত্রের বিকাশে বেশ কিছু ঘটনা খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে-

(১) উম্মাহর বিভক্তিঃ

এই সময়ে খারেজী এবং শীয়া সম্প্রদায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠে এবং অন্যদিকে আব্দুল্লাহ ইবনু আয যুবায়ের(রা.) কিছু সংখ্যক অনুসারী নিয়ে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এর সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে শহীদ হন। খারেজী ও শীয়া সম্প্রদায় ধীরে ধীরে ধর্মীয় গোষ্ঠী হিসেবে আত্নপ্রকাশ করে এবং অধিকাংশ সাহাবা ও খুলাফায়ে রাশেদীনের অবদান উপেক্ষা করে তাদের নিজস্ব ধর্মীয় নেতাদের মতানুযায়ী নিজস্ব ফিকহশাস্ত্রের সূচনা করে।

(২) উমাইয়্যা খলীফাদের পদস্খলনঃ

খলীফাগণ রাজদরবারে গান, নর্তকী, যাদুকর, জ্যোতির্বিদ, গণক ইত্যাদি হারাম প্রচলন করেন এবং এগুলোকে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেন। ‘বায়তুল মাল’কে খলীফাদের পারিবারিক সম্পত্তিতে পরিণত করা হয় এবং ইসলাম কর্তৃক অনির্ধারিত কর আরোপ করা হয়। এই পর্যায়েই প্রথম রাজতন্ত্রের সূচনা হয়। তৎকালীন ‘উলামাগণ এসব হারাম ও ফিতনা এড়াতে রাজদরবার ত্যাগ করে দূর-দূরান্তে চলে যান। এই সুযোগে খলীফাগণ নিজেদের সুবিধামত ফতোয়া চালু করতে থাকে।

(৩) ‘উলামাগণের বিচ্ছিন্নতাঃ

রাজদরবারের বিভিন্ন হারাম এড়াতে ও ভ্রান্ত গোষ্ঠীগুলির অত্যাচার থেকে বাঁচতে ‘উলামাগণ বিশাল ইসলামী সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তরে ছড়িয়ে পড়েন।এর ফলে তাদের মধ্যে শূরা এবং ইজমা দুইই অসম্ভব হয়ে পড়ে। কোন ‘আলিম যখন কোন নতুন এলাকায় যেতেন তখন সেখানকার মানুষ তাঁর কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন নিয়ে আসতেন এবং যেহেতু সেখানে শূরা ও ইজমা উভয়ই অসম্ভব ছিল তাই বাধ্য হয়েই তাঁকে ব্যাক্তিগত ইজতিহাদ করতে হত। এভাবে ইসলামী সাম্রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ‘উলামাগণের ইজতিহাদের ফলে অসংখ্য মত গড়ে উঠে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কুফায় আবূ হানিফা (র:) ও সুফইয়ান আস সাওরী(র:), মাদীনায় মালিক বিন আনাস (র:), বৈরুতে আল আওযায়ী (র:) এবং মিশরে আল লাইস ইবনু সাদ (র:) এর মত প্রভাব বিস্তার করে এবং সংশ্লিষ্ট মাজহাবের সূত্রপাত হয়।

(৪) জাল হাদীসের সূচনাঃ

যেহেতু খলীফাগণ রাষ্ট্রীয়ভাবে সুন্নাহর উপর নির্ভরযোগ্যতা কমিয়ে এনেছিলেন তাই এই সুযোগে হাদীস জালকারীদের উদ্ভব হয়। এদের সূচনা হয় ইরাক থেকে। এছাড়াও ইরাক ছিল প্রথমদিকের অধিকাংশ ভ্রান্তগোষ্ঠীর জন্মস্থান। এদের বিকৃতি থেকে হাদীসকে রক্ষার স্বার্থে ‘উলামাগণ এই সময়ে হাদীস গ্রহণের জন্য কড়াকড়ি শর্ত আরোপ করেন। একই কারণে তাঁরা বিভিন্ন ফতোয়ার ক্ষেত্রে প্রাপ্ত হাদীসের চেয়ে ইজতিহাদ এর উপর বেশী নির্ভর করতে থাকেন। এর কারণ কখনোই হাদীস অমান্য করা নয় বরং জাল হাদীসের উপর ভিত্তি করে ফতোয়া দানে বিরত থাকাই ছিল তাঁদের মূল লক্ষ্য।

ফিক্বহ বিবর্তনের এই পর্যায়ে ফক্বীহগণ দুইটি প্রধান অংশে বিভক্ত হয়ে পড়েন। একদলকে বলা হত ‘আহলুল হাদীস’ এবং অপরদলকে বলা হত ‘আহলুর রায়’। ‘আহলুল হাদীস’দের কেন্দ্র ছিল মাদীনাহ। তাঁরা বাস্তবধর্মী ফিক্বহী সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতেন এবং স্পষ্ট দলীল ছাড়া কোন ফতোয়া দিতেন না। যেহেতু মাদীনাহয় হাদীস সহজলভ্য ছিল তাই তাঁরা ফতোয়ার ক্ষেত্রে হাদীসের উপর অনেকাংশে নির্ভর করতেন। ইমাম মালিক বিন আনাস(র:) ছিলেন এই দলে। অপরপক্ষে, ‘আহলুর রায়’দের কেন্দ্র ছিল কুফাহ। তাঁরা Hypothetical সমস্যা নিয়ে বেশী আলোচনা করতেন এবং প্রায়ই “What if it were like this” এই ধরণের প্রশ্নের সমাধান খুঁজতেন। এজন্য তাঁদেরকে বলা হত ‘What Iffers’. কুফাহ থেকে যেহেতু হাদীস জালকারীদের উদ্ভব হয় তাই তাঁরা যেকোন হাদীসের শুদ্ধতা সম্পর্কে একেবারে নিশ্চিত না হয়ে তার ভিত্তিতে ফতোয়া দিতেন না। এজন্যই আবূ হানিফা(র:) হাদীস গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু ‘সহীহ’ হওয়াই যথেষ্ট মনে করতেন না বরং ‘মাশহূর’(প্রসিদ্ধ) হওয়ার শর্ত দিয়েছিলেন।

এতসব ফিৎনার কারণে ‘উলামাগণ উপলব্ধি করেন যদি সাহাবাগণের ফতোয়াগুলি সংরক্ষণ করা না হয় তবে পরবর্তী প্রজন্মের মুসলিমরা এসব অমূল্য জ্ঞানের খনি থেকে বঞ্ছিত হবে। তাই তাঁরা পূর্ববর্তী প্রজন্মের ফিক্বহ সংকলন করতে শুরু করেন যা পরবর্তীতে আরো ব্যাপক আকার লাভ করে।