বাচ্চাদেরকে আমরা একটা জিনিস শেখাই, যে দু’আ করে আল্লাহর কাছ থেকে আমাদের প্রয়োজনীয় জিনিস আদায় করে নেয়া… ছোট্ট থেকে ছোট্ট জিনিসও আল্লাহর কাছে চেয়ে নিতে হয়। ঈমান শেখানোর জন্য এটা খুবই ভালো উপায়, কিন্তু সেই সাথে দু’আর ব্যাপারে আমাদের আরেকটা বিষয়ও জানিয়ে দেয়া উচিৎ। সেটা কী?

ইখলাসের সাথে করা আমাদের প্রতিটি দু’আরই উত্তর আল্লাহ দেন। তবে এই উত্তর দেয়াটা কয়েকভাবে হতে পারে-

➤ তুমি যা চাইছো, তা আল্লাহ সাথেই দিয়ে দেবেন।

➤ তুমি যা চাইছো, তা আল্লাহ দিবেন, কিন্তু এখনই না, আরও কিছুটা সময় পরে, যেন এই মাঝের সময়টুকুতে তোমার জন্য কিছু ‘লেসন’ থাকে।

➤ তুমি যা চাইছো, তা তোমার কাছে উত্তম মনে হলেও আল্লাহর কাছে নয়, কারণ আমি-তুমি তো কেবল বর্তমান আর অতীতটাই জানি, আল্লাহ তা’আলা ভবিষ্যৎও জানেন। তাই কোনটা তোমার জন্য এরচেয়েও ভালো, সেটাও তিনিই ভালো জানেন, তোমাকে একটু পরীক্ষা নিয়ে সেই উত্তমটা দিতে চান।

➤ তুমি যা চাইছো, আল্লাহ তা তোমাকে দিবেন না, কিন্তু তোমার দু’আর বদৌলতে এমন একটি বড় বিপদ থেকে তোমাকে বাচিয়ে দেবেন, যেটি তোমার জন্য অকল্পনীয় ক্ষতির কারণ হতো।

➤ তুমি যা চাইছো, তা আল্লাহ দুনিয়ায় তোমাকে না দিয়ে তোমার সবরের পরীক্ষা নিবেন, এবং আখিরাতে তোমাকে এর বিনিময় বহুগুণে ফিরিয়ে দেবেন। আর আল্লাহর এই উত্তরটা আপাত দৃষ্টিতে আমাদের কাছে সবচেয়ে অপছন্দের হলেও এটিই আমাদের জন্য সবচেয়ে বেশি লাভজনক, কেননা হাশরের ময়দানের বিভীষিকা দেখে মানুষ আফসোস করতে থাকবে, দুনিয়ায় যদি তার গায়ের চামড়া তুলে নিয়েও তার বিনিময়ে জাহান্নামের আগুন থেকে বাচানো হতো!

✪✪✪
এই যে পরের কথাটুকু, এটুকু আগের কথার চেয়ে হতাশাজনক হলেও দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। আগের অংশটুকুতে বিশ্বাস না থাকলে আমাদের ঈমানই পূর্ণ হবেনা, আর পরের অংশটুকু না শেখানো হলে অর্জিত ঈমানও একসময় ‘ঝুকি’র মুখে পড়ে যেতে পারে, আমাদের ‘তাওয়াক্কুল’ ঝুকির মুখে পড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে আমাদের বাচ্চারা তো আরও ভালনারেবল। তা কেমন?

মনে করুন, আপনার সন্তানটি একটা বিষয় নিয়ে আল্লাহর কাছে অনেক দু’আ করার পরও দেখলো যে তার চাওয়াটা পূরণ হচ্ছেনা৷ আবার হতে পারে তার খুব আপন কেউ অসুস্থ কিংবা মৃত্যুশয্যায় শায়িত, সে সব রকম দু’আ করার পরও উন্নতি হচ্ছেনা। ফলে কী হবে? তার মনে দু’আর ক্ষমতা কিংবা আল্লাহর ক্ষমতা নিয়েই সন্দেহ দানা বাধতে শুরু করবে।

এজন্য সন্তান্দেরকে কিংবা বড়দেরকেও ‘আশা’ দিতে হবে, ঈমান শেখাতে হবে; সেই সাথে এমন কিছু উপাদান অবশ্যই দিতে হবে যেন দুর্যোগের মুখে ঈমান টিকিয়ে রাখার শক্তি অর্জন করতে পারে। আর শেষ জামানার এই যুগে মানুষের ঈমান অর্জন করাকে কিন্তু কঠিন বলা হয়নি, বরং ঈমান ‘টিকিয়ে রাখা’কেই হাতে আগুন রাখার মত কঠিন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই শুধু ঈমানের শিক্ষা দিলেই যথেষ্ট নয়, ঈমান ধরে রাখার মত শক্তিটুকুও সরবরাহ করতে হবে, যা তাকে সাহস যোগাবে দুর্যোগে ও ঝড়ে…..