এক ডাক্তার ভাইকে সেদিন আরেক কলিগকে বলতে শুনছিলাম:
ভাই, বিয়ের প্ল্যান বাদ দিছি। কেবল ইন্টার্নি করি, পায়ের তলায় মাটি না দেখে কি মেয়েরা বিয়ে করে?? এমনেই চুল কম, পায়ের তলায় মাটি বানাতে ওটুকুও পড়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। বিসিএস দেবো, এফ সি পি এস শুরু করবো, তারপর….

কথাটা শুনে আমরা দুই বান্ধবী ভাবছিলাম: আলহামদুলিল্লাহ, আমরা পায়ের তলায় মাটি না দেখেই বিয়ে করেছিলাম। আল্লাহ মাটি ছাড়াই যে বারাকাহ দিয়েছেন তা গুণে শেষ করতে পারিনা।

আমার বিয়ের জন্য যখন পাত্রপক্ষের প্রস্তাব পেয়েছিলাম, তখন আমার বেটার হাফ ফাইনাল ইয়ারের স্টুডেন্ট ছিলেন। আম্মুব্বুকে বুঝিয়ে বলার পর ডাক্তার না ইঞ্জিনিয়ার এ বিষয়ে তারা দ্বিমত করলেও ‘পায়ের তলার মাটি’ নিয়ে চিন্তা করেননি, বলেছিলেন: একটা ইঞ্জিনিয়ার ছেলে, পাস করে বসে থাকবেনা, আজকে স্টুডেন্ট আছে, একসময় তো জব করবেই, রিযিকের অভাব হবেনা আল্লাহ চাইলে।

এই সত্যটুকু মেনে নেয়ার মত, এইটুকু তাওয়াক্কুল করার মত সৎ সাহস অনেক মা-বাবার তো নেই-ই, অনেক দ্বীনদার মেয়েরও নেই। আমি নিজেই দেখেছি, ইন্টার্ন করছে বলে পাত্রের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে দ্বীনদার মেয়েই, আরও যোগ্য হওয়া চাই। ভার্সিটি পড়ুয়া মেয়ের বাবা মাকেও দেখেছি, ছেলে বুয়েট পাস ইঞ্জিনিয়ার, কিন্তু স্যালারী ৬০ হাজারের কম বলে মেয়ে বিয়ে দেবেননা।

সবশেষে আমার বেটার হাফের একটা উক্তি বলেই শেষ করি, যেটা ও আজকাল মাঝে মাঝেই বলে: এমন অনেক কিছুই আগে কল্পনাও করিনি, কিন্তু এই এক বছরে আল্লাহ অকল্পনীয়ভাবে ম্যানেজ করে দিয়েছেন, দিচ্ছেন, আলহামদুলিল্লাহ। বিয়ে করলে যে রিযক্বে বরকত পাওয়া যায়, তার প্রমাণ আমি নিজেই।