ছোটবেলায় ভাবতাম- হুজুরেরা সবসময় পাঞ্জাবী/জোব্বা পরে থাকে কেন ? কিংবা মাথায় শিমাঘ (স্কার্ফ) দেয় কেন ? অনেক ভেবেও বুঝতাম না আবার কাউকে জিজ্ঞেসও করতে পারতাম না। জিনিষটা যে খারাপ লাগত তা না। আমি প্রথম তাজউইদ শিখি ক্লাশ এইটে। যে হুজুরের কাছে শিখতাম তিনি বিশাল কাল পাগড়ীর উপর লাল-কাল শিমাঘ দিয়ে আসতেন। দেখতে ভালই লাগত। তখন ইসলামিক্যালি খুব সিরিয়াস না হলেও এই দেখতে ভাল লাগা থেকেই ক্লাশ এইটে প্রথম পাগড়ী বাঁধা শিখেছিলাম।

এর দীর্ঘদিন পর যখন দ্বীন নিয়ে টুকটাক জানতে শুরু করলাম তখন থেকেই পোশাকের ব্যাপারে আমার চিন্তাধারা পাল্টাতে শুরু করে। এই সময় আমি ছোটবেলায় মনের মাঝে জমে থাকা প্রশ্নের উত্তরটা পাই- আসলে মানুষের চিন্তাধারার প্রতিফলন ঘটে তার পোশাকে। মডেল আর ফ্যাশনবাজরা যাদের আইডল তাদের প্রিয় পোশাক স্কিন টাইট জিন্সই হবে, আর যাদের কাছে সুন্নাহর অনুসরণটাই মুখ্য তারা জোব্বা/পাঞ্জাবী/ঢিলেঢালা পোশাক পছন্দ করবেন-এটাই স্বাভাবিক। আমাকে যখন অনেকেই জিজ্ঞেস করে যে কেন বেশিরভাগ সময় জোব্বা পরি তার কারণও মূলত এটাই। অবশ্য আরামদায়কতাও একটা কারণ এর পেছনে। আর জোব্বা/পাঞ্জাবী পরে সালাতে দাঁড়ালে অন্যরকম একটা মানসিক স্থিরতা কাজ করে। এটা অন্যদের ক্ষেত্রে হয় কিনা জানি না কিন্তু আমার ক্ষেত্রে হয়। জোব্বা ছাড়াও শিমাঘ (স্কার্ফ) জিনিষটাও আমাকে অনেক আকর্ষণ করে এবং ব্যক্তিগত সংগ্রহে খুব পছন্দের একটা নীল-কাল শিমাঘ আছেও। কিন্তু অভ্যস্ত নই বলে খুব বেশি পরা হয় না। হুজুররা কেন শিমাঘ পরতে ভালবাসেন তার উত্তরও এখন পেয়েছি।

তবে মনে রাখতে হবে, তাক্বওয়ার লিবাসই উত্তম লিবাস।

৮ এপ্রিল, ২০১৪