একটা টেলিফিল্ম নিয়ে টাইমলাইনে আলোচনা তুঙ্গে, অবশ্য কাহিনী শুনে বুঝলাম: আসলেই দর্শকের হৃদয় ছুয়ে যাওয়ার মত কিছু উপাদান আছে। না না, মিডিয়ার প্রোডাকশন, মিউজিকসহ ফিত্নাময় কিছু বিষয় তো থাকারই কথা, দেখার জন্য উদ্বুদ্ধ করছিনা, আল্লাহ মাফ করুন। কিন্তু প্লটটা শুনে মনে মনে আমি নিজেই হারিয়ে গিয়েছিলাম আমার ছেলেবেলায়:
মধ্যবিত্ত ঘরের বড় ছেলে ছিলো আমার ভাইয়া, আমি বড় না হলেও মেজো, বাবা মা খেয়ে না খেয়ে অনেক কষ্টে মানুষ করেছেন: ভাইয়ার মধ্যে এই দায়িত্ববোধটুকু শতভাগ দেখেছি, নিজে মেয়ে হলেও বোধটুকু ফীল করেছি। মধ্যবিত্তের টানাপোড়ন: বিষয়টা কষ্টের কিন্তু আমার মনে হয় মানুষের দুটি চোখের পাশাপাশি আরেকটা থার্ড আই থাকার জন্য, জীবনকে বোঝার জন্য, রিয়েলিটিগুলো মেনে নেয়ার জন্য এই টানাপোড়নটা জরুরী, খুব বেশিই জরুরী, যারা লাইফের এই পার্টটা মিস করেছেন, তারা আসলেই খুব বেশি বঞ্চিত হয়েছেন, লাইফ লেসনের বড় একটা চ্যাপ্টার মিস করেছেন….
সেই যে আব্বুর চাকরিটা সিলি রিজনে চলে যাবার পর থেকে আমাদের তিনভাইবোনকে নিয়ে সংসার পাড়ি দিতে আম্মুর সংগ্রাম, কখনো একবেলার বাজার দিয়ে তিনবেলা চালানো, কখনো আব্বুর কাছে কলেজে যাওয়ার ভাড়া চেয়ে না পেয়ে আম্মুর ভাঁড়ার খুঁজে টাকা নেয়া, পারতপক্ষে প্রাইভেট টিউটর ছাড়াই পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া, বড় কোন শপিং মলে গিয়েও ছ’বছরের ছোট্ট ভাইটির দামি খেলনার জন্য আবদার না করা, রাস্তায় নেমে লোকাল বাস কিংবা রিকশা থাকতে সিটিং বাস কিংবা সি এন জি এড়িয়ে চলা, রোডসাইড রেস্টুরেন্টগুলোর পাশ দিয়ে হেটে গিয়েও কখনো উকি দেয়ার কথাও চিন্তা না করা, ঈদের কাপড় কেনার জন্য শোরুমে আর ফিক্সড প্রাইজের দোকান এড়িয়ে দরকষাকষির দোকান বেছে নেওয়া, বৃত্তির টাকাগুলো হাতে পাওয়ার আগেই প্ল্যান করে রাখা: গরমে আম্মুব্বুর খুব কষ্ট হয়, আই পি এস লাগানোর সামর্থ্য নেই, এবারের টাকা দিয়ে একটা চার্জার ফ্যান কিনে সারপ্রাইজ দেবো আম্মুব্বুকে, উনাদের হাত পাখা ঘোরানোর কষ্টটা যদি একটু কমে, সারাদিন পড়াশোনা করে একটি স্বপ্ন নিয়ে ঘুমোতে যাওয়া: কবে যে বড় একটা চাকুরি পাবো, আম্মুর হাতে স্যালারির পুরোটা তুলে দেবো, আমার মা যে কখনো বিলাসী জীবনের সুখ পাননি….

“এর দুঃখের কথা জানবে না কেউ শহরে ও গ্রামে,
এর কথা ঢাকা পড়ে থাকবেই কালো রাত্রির খামে….”