আমাদের ছোট্টবেলা থেকে আমরা একটা বিষয় কমবেশি মাথায় নিয়ে বড় হয়েছি, যার আইকিউ যত বেশি, সে তত বেশি বুদ্ধিমান, জীবনে সফল হওয়ার সম্ভাবনা তার তত বেশি।ফলে যাদের একটু গাণিতিক মেধা কম, তাদের বুদ্ধিবৃত্তিই কম বলে ধরে নেয়া হতো। সময় এগিয়েছে, যুগের হাওয়া বদলে গেছে। গবেষকেরা ও সাইকোলজিস্টরা বহুদিন ধরে গবেষণা করে এখন বের করেছেন, বুদ্ধিবৃত্তি কেবল মেধার সাথে সম্পৃক্ত না, তারও চেয়ে বেশি সম্পৃক্ত আবেগ-অনুভূতি ও সমাজের সাথে খাপ খাইয়ে চলার যোগ্যতার সাথে। এই বিষয়টির নাম তারা দিয়েছেন, ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা ইমোশনাল কোশেন্ট (EQ/ EI) বা আবেগগত ও সামাজিক বুদ্ধিবৃত্তি। এখনকার গবেষণাগুলো বলছে, একজন মানুষের জীবনে, ক্যারিয়ারে ও সমাজে সফল হওয়ার জন্য আই কিউ ও ই কিউ উভয়ই প্রয়োজন; তবে এই দুটোর মধ্যে তুলনা করা হলে আই কিউ এর চেয়ে ই কিউ এর প্রয়োজনীয়তাই বেশি। বুদ্ধিসংক্রান্ত আধুনিক গবেষণায় তাই আই কিউ এর গুরুত্ব দিন দিন কমছে, ই কিউ এর গুরুত্ব বেড়ে চলছে।

তো এই ই কিউ বা ই আই এর এত বেশি গুরুত্বের কারণ কী? কারণ হচ্ছে, তা আমাদের জীবনকে ইতিবাচকভাবে ভাবতে সাহায্য করে, জীবনের প্রতিটি সমস্যায়, প্রতিটি পদক্ষেপে আমাদের মাঝে ইতিবাচক এনার্জির যোগান দেয়। চলুন তবে জেনে নিই, ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স আমাদের জীবনকে কোন কোন উপায়ে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।

ইকিউ-এ এগিয়ে থাকা ব্যক্তিরা মানুষের মনের গভীরে প্রবেশ করার ক্ষমতা রাখেন, সবার সাথে মানিয়ে ও সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলতে পারেন, আশেপাশের মানুষকে উৎসাহিত ও কর্মোদীপ্ত করতে পারেন, প্রয়োজনে পারস্পরিক সম্পর্কোন্নয়ন করতে পারেন, পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আবেগ নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারেন, মানুষকে মানবিক ও নৈতিক গুণাবলি দিয়ে মূল্যায়ন করেন। ব্যক্তির বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে ভেতরের সৌন্দর্যকে মূল্যায়নের ক্ষমতা থাকায় অন্যের সাথে তার ব্যবহার হয় মানবিক, আন্তরিক ও সঠিক। ইকিউ এর জন্য চারটি বিষয়ে চর্চা করতে হয় বা খেয়াল রাখতে হয়ঃ

emotional-intelligence
  1. নিজেকে চেনা ও বোঝা বা আত্মসচেতনতা (Self-Awareness),
  2. নিজেকে নিয়ন্ত্রণ  করা (Self-Management),
  3. অন্যদেরকে বা সমাজকে বোঝা (Social Awareness),
  4. সম্পর্ক বা সমাজকে ম্যানেজ করা (Relationship or Social Skills)

ইকিউ সম্পন্ন ব্যক্তিরা তাই সাধারণত বিনয়ী, আত্মবিশ্বাসী, সহানুভূতিশীল, খোলা মনের অধিকারী ও দয়াবান হয়ে থাকে এবং তাদের নিজেদের প্রকাশ করার ও সীমারেখা নির্ধারণ করার সামর্থ্য থাকে। তাদের সহ্য ক্ষমতা বেশি থাকে, খুব সহজে বিক্ষুব্ধ হন না, নিজের সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখেন, অন্যরা কী ভাবলো তা নিয়ে চিন্তিত হন না, নিজের আবেগের বিষয়ে নিজেই দায়িত্ব নেন, আবেগ অনুভব করানোর জন্য অন্যদের দোষারোপ করেন না। আবেগ ঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারায় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয় না এবং অযৌক্তিক ও উল্টো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না। কারো আবেগ না বুঝলে তাকে বোঝা সম্পূর্ণ হয় না এবং বিমর্ষ-হতাশা-নিপীড়িত বা উদ্বিগ্নতাসহ সুনির্দিষ্টভাবে অনুভূতি প্রকাশে ব্যাপক শব্দ ভান্ডার ব্যবহার করতে না পারলে নেতিবাচকতা স্পষ্ট হয়ে পড়ে। তাই ইকিউ সম্পন্নরা- চিন্তা করার জন্য সময় নেয়, সম্ভাব্য ফলাফল ও পাল্টা যুক্তিতর্কের বিষয়ে বিবেচনা করে, অন্যদের সাথে চাহিদা অনুযায়ী যোগাযোগ করে এবং অন্যদের মতামত গ্রহণ করে। তারা এমনভাবে নিজের ধারনাকে প্রকাশ করে যেন অন্যরা বুঝতে পারে, স্ট্রেস পুষে না রেখে এড়িয়ে যায়, অসন্তোষ দূর করে ফেলে, যা মনে একটি ভালো অনুভুতি দেয়, স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে। ফলে তারা ব্যর্থতাকে সাফল্যে রুপান্তর করতে পারেন, পড়ে যাওয়ার পরও ওঠে দাঁড়ান এবং দীর্ঘ সময় ভুলের মধ্যে থেকে উদ্বিগ্ন ও লজ্জিত হয়ে পিছিয়ে পড়েন না। কিউ সম্পন্নরা উত্তেজিত হবার বিষয়টি পর্যালোচনা করে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায়ও এ জ্ঞানকে কাজে লাগায়।

অন্যদিকে ইমোশনাল ইনটেলিজেন্স যাদের কম তারা খুব দ্রুত মতামত দেন, পক্ষপাত করেন, মতামতের বিষয়ে প্রমাণ জড়ো করেন, মনে অসন্তোষ পুষে রেখে নেতিবাচক আবেগ তৈরি করেন, বিপরীত কোনো প্রমাণকে উপেক্ষা করেন। নিজের মতের সমর্থনে তর্ক করেন, খুব সহজেই মানসিক চাপ অনুভব করেন, নিজেকে প্রমাণ করতে সমস্যায় পড়েন, আবেগিয় শব্দভান্ডার কম থাকে, দ্রুত অনুমান করেন ও তা প্রতিহত করেন। এ ধরনের স্বভাবের ফলে তারা জনপ্রিয় দলনেতা হতে পারেন না, আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, হঠাৎ রেগে যান, রাগের মাথায় সিদ্ধান্ত নেন, দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব বা ফলাফল চিন্তা না করে সাময়িক বা তাৎক্ষণিক ফলকে গুরুত্ব দেন, সামাজিক জটিলতাকে বুদ্ধিমত্তার সাথে পরিচালনা করতে পারেন না, পরামর্শ ছাড়াই ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পছন্দ করেন। ইতিবাচক ফলাফল অর্জিত হলে নিজে কৃতিত্ব নেন আর ফলাফল নেতিবাচক হলে অন্যকে দায়ী করে তার উপর দোষ চাপায়ে দেন। এরা মানুষের সম্মুখে ভুল বার্তা প্রকাশ করেন, অন্যরা প্রায়ই তাদেরভুল বোঝে, দুঃখ- হতাশা-খারাপ অনুভব করার আবেগ প্রকাশ করে ব্যক্তিত্বহীন হয়ে পড়েন; সুখ ও ইতিবাচকতার মুখোশ পরে থাকতে চেয়ে আরো পিছিয়ে পড়েন। ইতিবাচক ও নেতিবাচক আবেগকে উপযুক্ত পরিস্থিতিতে ইচ্ছাকৃতভাবে কাজে লাগাতে পারেন না।

মনোবিদ স্টিফেন কোভে ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বোঝাতে গিয়ে খুব সুন্দর একটা উদাহরণ টেনেছেন। ধরুন – সকালবেলা, অফিস যাবার আগে আপনি চা খাচ্ছেন এবং আপনার ছোট্ট মেয়ে গল্প করতে করতে চায়ের কাপটা আপনার কাপড়ের ওপর ফেলে দিল। আপনি রেগে গেলেন, মেয়েকে বকাবকি করলেন, মেয়ের দিকে খেয়াল না করায় স্ত্রীর সঙ্গেও রাগারাগি করলেন, কাপড় আবার ইস্ত্রি করে পড়া ও দেরি হওয়ায় রাগের মাথায় কিছু জরুরি কাগজ অফিসে নিতে ভুলে গেলেন, তাড়াহুড়ো করে গাড়ি চালালেন, স্পীড বেশি হবার কারনে পুলিশের কাছ থেকে কেস পেলেন ইত্যাদি। একটা খারাপ দিন পার করে সারাদিন শেষে বাড়ি ফিরে দেখলেন মেয়ের মুখ কালো, স্ত্রীও কেমন যেন চুপচাপ।

চিন্তা করে দেখেন, এই বিষয়গুলোই একটু অন্যভাবে হ্যান্ডেল করলে ফলাফলগুলো অন্যরকম হতে পারত। কাপড়ে চা পড়ে যাওয়ার পর সারাদিনের বাকি বাজে ঘটনাগুলো হয়ত হতো না, শুধুমাত্র যদি ঐ মুহূর্তে মেজাজটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যেত, যদি মেয়ের দিক থেকে ভাবা যেত, কারন সে তো আর ইচ্ছে করে করেনি কাজটা। শুধু বললেই হতো, ঠিক আছে, কিছু হয়নি। এরপর সাবধানে থেকো। তাতে কিন্তু বাকি দিনটাও ভালো যেতো। এখানেই একজন উচ্চ ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সসম্পন্ন ব্যক্তির সাথে অন্যদের তফাত।

তবে হ্যা, জীবনে সফল হতে হলে যেমন ই আই এর প্রয়োজনীয়তা বেশি, বিশেষ করে উচ্চ ই আই ছাড়া একজন সফল লীডার কিংব্যা ম্যানেজার হওয়া যায়না, সফল লীডারশিপের জন্য নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা ও অন্য সবার আবেগ-অনুভূতি বুঝে চলা খুব খুব জরুরি। তাই বলে উচ্চ আইকিউ সম্পন্ন ব্যক্তিরা যে কোন সেক্টরেই সফল হতে পারবেন না তা কিন্তু নয়। কোন বিশেষ বিষয়ে পারদর্শী হতে হলে, রিসার্চের কাজে, একাডেমিক্যালি ভালো ফলাফলের জন্য, কোন বিষয়ে স্কিল বা দক্ষতা অর্জনের জন্য সেই বিষয়ক আউকিউ অনেক বেশি সহায়ক। যেমন- ভালো গাণিতিক মেধা ছাড়া কারও পক্ষে গণিতজ্ঞ হওয়া কঠিন। বিশেষ করে একাডেমিশিয়ানদের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভালো আই কিউ অনেক বেশি কাজে দেয়।  

অনেক তো হলো ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে জানা, এতক্ষণে অনেকেই হয়তো হতাশ হয়ে পড়েছেন, যাদের ই কিউ কম, তাদের করণীয় কী? হ্যা, মজার বিষয় হচ্ছে, আই কিউ সাধারণত গড-গিফটেড, নিজে অর্জন করার সুযোগ কম। কিন্তু ইকিউ অনুশীলনের মাধ্যমে অর্জনের সুযোগ রয়েছে। ইউ কিউ এর যে মূল ৪ টি উপাদান রয়েছে, সচেষ্ট অনুশীলনের মাধ্যমে এই চার সেক্টরে আত্মোন্নয়ন ঘটিয়ে নিজের ইকিউ লেভেল বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে কিন্তু। আর এই ই কিউ কি কেবল আমাদের ব্যবসায়িক কিংবা দুনিয়াবি জীবনের উন্নতির জন্যই??

উহু, একটু অন্যভাবে চিন্তা করুন এবার। আমাদের চারপাশের মানুষগুলোর কথা একটু মনে করি, কোন মানুষগুলোকে আমাদের জীবনে সবচে অসহ্য মনে হয়? কোন মানুষগুলোকে দেখা যায়, সব ইতিবাচক বিষয়ের মধ্যেও একটা কিছু নেতিবাচক টেনে এনে ঝামেলা পাকানোর চেষ্টা করে? কোন মানুষগুলোর সবকিছু ঠিক থাকার পরও একটা বিষাক্ত পরিবেশ তৈরি করে রাখে চারপাশে? মিলিয়ে দেখুন, এদের মাঝেই এই ইকিউ এর পরিমাণ কম। যে মানুষগুলোকে আমরা সবসময় ইতিবাচক দেখি, যে মানুষগুলো সমস্যা জিইয়ে না রেখে সমাধানের পথে এগোয়, যে মানুষগুলো সব পরিস্থিতিতে মানিয়ে চলার চেষ্টা করে, এদেরই কিন্তু ইকিউ এর পরিমাণ বেশি, অর্থাৎ এরাই সত্যিকারের বুদ্ধিমান। আমরা তো এই ইতিবাচক মানুষগুলোকেই চাই, নিজেদেরকেও তেমন বানাতে চাই, তাই নয় কি? আমরা কি নিজেকে অন্যদের কাছে বিরক্তিকর একটা মানুষ হিসবে উপস্থাপন করতে চাই? আমাদের পুরো জীবন চালনার জন্য যে সংবিধান আল্লাহ দিয়েছেন, তা হচ্ছে আল-কুরআন। খেয়াল করলে দেখবেন, পুরো কুরআনে আল্লাহ তা’আলা উত্তম মুমিনের যেসব বৈশিষ্ট্য বার বার করে মনে করিয়ে দিচ্ছেন, সেগুলো বাস্তবজীবনে চর্চা করতে পারলে আসলে আমাদের ইকিউ অটোম্যাটিকই বেড় যাবে। মানুষের মেধাগিত যে বুদ্ধি, তা ব্যক্তিভেদে কমবেশি হতে পারে, কিন্তু আবেগ- অনুভূতিগত বুদ্ধি কম হলেও তা চর্চা করে উৎকর্ষের শীর্ষে পৌছার সুযোগ রয়েছে। আমি আমার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই বলি, ছোটবেলা থেকে আমি কুরআন কিংবা হাদিসে যে নির্দেশনাটা পড়েছি, পারি আর না-পারি, চেষ্টা করেছি সেটা অনুশীলন করতে। একটু একটু করে কুরআন-হাদিসের আলোকে নিজেকে বদলাতে বদলাতে জীবনের এই পর্যায়ে এসে দেখছি, আমাদের কাঙ্ক্ষিত এই বৈশিষ্ট্যগুলোই আসলে মনো-রসায়নের যাবতীয় জটিল আলোচনার সারকথা। ছোট্ট একটা উদাহরণ দিই, হাদীসে বলা হচ্ছে, খাবারের দোষ না ধরতে, রাসূলুল্লাহ সা। কোন খাবার পছন্দ না হলে সেটা এড়িয়ে যেতেন কিন্তু সেটার দোষ চর্চা করতেন না। আবার আমরা দেখতে পাই উনার পারিবারিক জীবন, স্ত্রীরা একে অপরের উপর হিংসের বশবর্তী হয়ে কোন ভুল আচরণ করে ফেললেও তিনি তা নিয়ে ক্ষেপে যাননি, বরং অল্পকথায় উত্তম নাসীহার মাধ্যমে বিষয়টার সমাধান করে ফেলেছেন। মিলিয়ে দেখলে খেয়াল করা যায়, এগুলোই কিন্তু একজন উচ্চ ইকিউ সম্পন্ন ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য, তারা অনাকাঙ্ক্ষিত কোন সমস্যা নিয়ে অযথা হাউকাউ করেনা। যে বিষয়গুলো বিজ্ঞান গবেষণা করে আজ বের করছে, রাসুলুল্লাহ সা তা ১৪০০ বছর আগে নিজ জীবনে ইমপ্লিমেন্ট করে দেখিয়ে গেছেন, একটি জাহেল জাতিকে পুরোপুরি সেই ফর্মূলায় স্বর্ণ বানিয়ে দেখিয়ে গেছেন, সুবহানাল্লাহ! রাসূলুল্লাহর প্রত্যেকটি আচরন ইমোশনাল ইন্টেলিজন্সের উজ্জ্বল উদাহরণ। একটুও বাড়িয়ে বলছিনা, এখানে লিখতে গেলে একটা বই হয়ে যাবে, আপনি নিজে সীরাহ অধ্যয়ন করেই দেখুন, যে মানুষটা পৃথিবীর সবচে সফল লীডার ছিলেন, তার প্রতিটি কথা, প্রতিটি কাজ, প্রতিটি আচরন কি পরমান ইকিউ সম্পন্ন ছিলো। তাহলে ইকিউ চর্চা করার জন্য আমাদের মুসলিমদের জন্য সবচে উজ্জ্বল আদর্শই তো হচ্ছেন রাসূলুল্লাহ সা, যার চরিত্রই ছিলো আল-কুরআন। আল-কুরআনের সূরা হুজুরাতের ১১ ও ১২ নং আয়াত উল্লেখ করে আজকের আলোচনা শেষ করতে চাই-

“হে ঈমানদারগণ! কোন মুমিন সম্প্রদায় যেন অপর কোন মুমিন সম্প্রদায়কে উপহাস না করে; কেননা যাদেরকে উপহাস করা হচ্ছে তারা উপহাসকারীদের চেয়ে উত্তম হতে পারে এবং নারীরা যেন অন্য নারীদেরকে উপহাস না করে; কেননা যাদেরকে উপহাস করা হচ্ছে তারা তারা উপহাসকারিণীদের চেয়ে উত্তম পারে। আর তোমরা একে অন্যের প্ৰতি দোষারোপ করো না এবং তোমরা একে অন্যকে মন্দ নামে ডেকো না; ঈমানের পর মন্দ নাম অতি নিকৃষ্ট। আর যারা তওবা করে না তারাই তো যালিম৷”

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা অধিকাংশ অনুমান হতে দূরে থাক; কারণ কোন কোন অনুমান পাপ এবং তোমরা একে অন্যের গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না এবং একে অন্যের গীবত করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে চাইবেয়(২) বস্তুত তোমরা তো একে ঘৃণ্যই মনে কর। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর; নিশ্চয় আল্লাহ্ তওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু।”

এই দুটো মাত্র আয়াতে মুমিনের যে বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখ করা হয়েছে, তার প্রত্যেকটিই ইমোশনালি ইন্টেলিজেন্ট মানুষের বৈশিষ্ট্য। এবার হিসেব মিলিয়ে দেখি, মু’মিন হিসেবে এই গুণগুলো অর্জন করার দায়িত্ব আমাদের প্রত্যেকেরই নয় কি??