রমযানের আর প্রায় ৩৫ দিন বাকি আছে। আমাদের উচিত এখন থেকেই এ নিয়ে সিরিয়াসলি চিন্তাভাবনা শুরু করা। রমযান আসার আগে আমরা মারাত্মক কিছু ভুল ধারণা করতে শুরু করি। রমযানের প্রস্তুতি নিয়ে কিছু লিখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তার আগে এই ধ্বংসাত্মক চিন্তাগুলো জানা এবং মন থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করা খুবই জরূরী। আমরা সচরাচর যেসব ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করি-

(১) রমযানে যেহেতু শয়তান বাঁধা থাকে তাই এই রমযান থেকে একেবারে নিজেকে চেঞ্জ করে ফেলব। নিয়্যাত খুবই ভাল নিঃসন্দেহে কিন্তু সমস্যা হল এই “নিজেকে চেঞ্জ” করে ফেলার জন্য প্র্যাক্টিকাল কোন টিপস আমরা ফলো করতে চাই না। অন্যভাবে বললে, রমযানের আগেই আমরা কোন Action Plan তৈরী করি না। যার ফলে জীবনের প্রতিটা রমযান একইরকম ব্যর্থতা আর ভাল ভাল নিয়্যাতের আবর্তে ঘুরপাক খায়।

(২) রমযান কুরআনের মাস। স্বাভাবিকভাবেই যারা সারাবছর কুরআন খুলেও দেখেন না তারাও এই মাসে ধুলা ঝেড়ে কুরআন খুলে বসেন। অনেকেই নিয়্যাত করেন যে প্রতিদিন ১ পারা করে পড়ে ৩০ দিনে কুরআন খতম দিবেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, প্রথম কয়েকদিন ঠিক ঠিক চলার পর একদিন মনে হয়- “আজ হাফ পারা পড়ি, কাল পুষিয়ে দিব। এরপর পরদিন আবার কিছু বাকি, আবার আগামীকাল পুষিয়ে নেওয়া…এভাবে রমযানের মাঝামাঝি আসতেই এত বেশি পরিমাণে কুরআন “পুষিয়ে নেওয়া” থেকে যায় যে তখন মনে হয় “শেষতো করা যাবেই না, থাক বাদ দিই। রমযানের পরে পড়ব।” সেই পড়া আর হয় না। বছর ঘুরে আরেক রমযান আসে, আবার একই Cycle চলতে থাকে। কুরআন অধ্যয়ন সম্পর্কে Realistic Goal তৈরী করতে না পারাই এই সমস্যার অন্যতম কারণ।

(৩) আমরা ভাবি, রমযানে অনেক অনেক ইবাদত করব আর এর ফলে রমযানের পরে অটোম্যাটিক অনেক বড় আবেদ হয়ে যাব। মনে রাখতে হবে, রমযান শুধু আমাদেরকে ট্র্যাকে উঠিয়ে দিতে পারে কিছুটা সদিচ্ছা আর আমলের Acceleration দিয়ে। কিন্তু গাড়ি চালাতে হবে আমাদেরকেই। সচেতনভাবে রমযানের প্রতিটা দিন সুচিন্তিত পন্থায় কাটাতে পারলে আশা করা যায় রমযানের পরেও আমাদের আমল অব্যহত রাখতে পারব। অর্থাৎ রমযান আমাদের আত্মশুদ্ধির শুধুই শুরু, শেষ না কখনই।

আল্লাহু আ’লাম।

১৫ মে, ২০১৪