হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফতকালে পারস্যের জওর রাজ্য অভিযানের দায়িত্ব দেয়া হয় সাহাবী হযরত হারেম ইবন হাইয়্যান (রা) এর উপর। দীর্ঘদিন উনি সেনাবাহিনী নিয়ে জওর রাজ্য অবরোধ করে রাখেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি ছিলেন কঠোর আবেদ পর্যায়ের: দিনভর শত্রুদের সাথে লড়াই করতেন, নিয়মিত রোযা রাখতেন, সূর্যাস্তের পর ইফতার করেই নামাযে দাঁড়িয়ে যেতেন। তো একদিন ইফতারের সময় খাওয়ার মত এক টুকরো রুটিও পেলেন না, এ অবস্থায়ই আবার রোযা রাখলেন, পরদিনও খাবার পেলেন না। এভাবে কয়েক সপ্তা কেটে যাওয়ার পর যখন অত্যধিক দুর্বল হয়ে পড়লেন, তখন ভৃত্যকে ডেকে জানতে চাইলেন:
বৎস! তোমার কি হলো যে আমি শুধু পানি খেয়েই রোযা রেখে চলেছি, তুমি খাবার কিছু দিচ্ছোনা!

ভৃত্য অবাক হয়ে জানালো যে সে প্রতিদিনই রুটি করে রেখে যায়, কিন্তু কোন অজানা কারণে তা মালিকের হাতে পৌঁছেনা। পরদিন এই রহস্য উদঘাটনের জন্য সে খাবার যথাস্থানে রেখে আড়ালে অপেক্ষা করতে লাগলো। দেখতে পেলো, শহরের দিক থেকে একটি কুকুর দ্রুতবেগে ছুটে এসে রুটি মুখে তুলে নিয়ে দ্রুতবেগে ছুটে চললো, একেবারে শহরের রক্ষাপ্রাচীরের কাছে গিয়ে একটা ড্রেনের মধ্যে দিয়ে মূল শহরে ঢুকে পড়লো।

এই কাহিনী ভৃত্য এসে হারেম রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জানানোর পর তিনি এটাকে গায়েবী মদদ মনে করলেন, কারণ শহরে ঢোকার এমন একটা গোপন পথ আছে তা তার জানা ছিলোনা। সেই রাতেই তিনি একদল জানবাজ সেনা নিয়ে ঐ ড্রেনপথে শহরে ঢুকে পড়েন, প্রহরীদের হত্যা করে শহরের দরজা খুলে দেন, বাহিরে অপেক্ষমান ইসলামী বাহিনী দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে তৎক্ষণাৎ শহরটি দখল করে ফেলে। মুসলমানগণ পারস্য জয়ে আরও একধাপ এগিয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! Allaah can help even with a Dog!

ইতিহাস আমাদের অনেক কিছু শেখায়, তা শিখে নিতে হয়। এখান থেকে আমরা কী কী শিক্ষা নিতে পারি?

♦ দারিদ্র‍্য, অভাব কিংবা বিপদে পড়েই অস্থির হয়ে যাওয়া উচিৎ না, ধৈর্য ও স্থৈর্যের সাথে কাজ করা উচিৎ, আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথেই আছেন।
♦ অধিন্যস্তদের সাথে সামান্যতেই দুর্ব্যবহার করা উচিৎ না, তাদের উপর রহম করলে বিনিময়ে আল্লাহর রহম পাওয়ার আশা করা যায়।
♦ যখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আপনার জন্য একটি দরজা বন্ধ করে দেন, হতাশ হবেন না, অভিযোগ করবেন না, আল্লাহর সিদ্ধান্তে আস্থা রাখুন, হয়তো তারওচে উত্তম কোন দরজা আল্লাহ আপনার জন্য খুলে দেবেন। মু’মিনের জন্য আল্লাহর সিদ্ধান্তের চে উত্তম সিদ্ধান্ত দেনেওয়ালা আর কে আছেন??
♦ দিনে সিয়াম আর রাতে ক্বিয়াম: নবী-রাসূল থেকে শুরু করে সাহাবায়ে আজমা’ঈন পর্যন্ত কিংবা তারও পরে এটাই ছিলো আমাদের সালাফদের বিশেষত্ব, সমস্যার সমাধান এর মাঝেই। আল্লাহ আমাকেসহ আমাদেরকে সেই পথের অনুসারী হওয়ার তাউফীক্ব দিন।

[তথ্যসূত্র: ইসলামের ইতিহাস (১ম খণ্ড)- মাওলানা আকবর শাহ খান নজিবাবাদী]