আমাদের অনেকের মধ্যেই একটা সাধারণ ধারণা আছে যে কোন ‘আলিম যদি খুব সুন্দর আর দামী পোশাক-আশাকে থাকেন কিংবা অনেক জমকালো স্টেইজে বক্তব্য দেন তবেই সে “পশ স্কলার”। সত্য কথা হল আল্লাহই ভাল জানেন কে কোন নিয়্যাতে দ্বীনের কথা বলছেন। কিন্তু আমরা যদি এমন কিছু স্কলারের জীবনের স্ট্রাগলের দিকে তাকাই তবে অবাক হয়ে যাব যে, তাঁরা কোন পর্যায়ের প্রতিকূলতা ফেস করে এই পর্যন্ত এসেছেন অথচ আমরা তাদেরকে কত শত ট্যাগ দিচ্ছি কত সহজেই !

শায়খ তৌফিক চৌধুরী তাঁর সংগ্রামের কথা বলছিলেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ায় মেডিক্যালে ৪র্থ বর্ষে পড়ার সময় মেডিক্যাল ছেড়ে দিয়ে মাদীনাহ ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। সাথে নিয়ে যান তাঁর স্ত্রীকে আর মাত্র ২০০ ডলার। ১০ রিয়াল দিয়ে কেনেন একটা ছেঁড়া জুব্বা আর সেটা ছোট করতে লাগে আরও ৬ রিয়াল। এই একমাত্র ছেঁড়া জুব্বা পরে তিনি ৮ মাস কাটান। ৫০০ রিয়াল দিয়ে বাসা ভাড়া নেওয়ার সামর্থ্য তাঁর ছিল না। তাই সেখানে একটা পুরনো বাসা নেন, যেটা ছিল ইঁদুরে ভর্তি। অত্যন্ত গরমের সময় মাটিতে কার্পেটে পানি ঢেলে সেই ভেজা কার্পেটে শুয়ে ঘুমাতেন। কোন এসিতো দূরের কথা, একটা ফ্যান কেনার সামর্থ্যও তাঁর ছিল না। ফ্রীজ কেনারও সামর্থ্য ছিল না। এক প্রতিবেশি তাঁদেরকে ভাঙ্গা-নষ্ট ফ্রীজ দিয়ে যায় যেটা কখনো চলত আবার কখনো বন্ধ হয়ে যেত। অবশ্য ফ্রীজের প্রয়োজন খুব বেশি ছিল না কারণ, একটানা ৮ মাস তাঁদের একমাত্র খাদ্য ছিল পাউরুটি আর টমেটো সস। তাঁদের এক আত্মীয় হাজ্বের সময় তাঁর জন্য ১০০ রিয়াল উপহার নিয়ে আসেন। তা নিয়ে শায়খ তৌফিক দৌড়ে একটা মুরগি কিনে নিয়ে আসেন-আহহ! ৮ মা—স পর একটা মুরগি!! তিনি গোগ্রাসে খেতে শুরু করলে কিছুক্ষণ পর তাঁর স্ত্রী তাঁর সামনে থেকে সেটা ছিনিয়ে নিয়ে বলেন-‘পরের সপ্তাহে অনাহারে থাকতে হবে যে এখন কিছু না রাখলে’! শায়খ বলেন, ‘আমার স্ত্রীর ঐ কথা আর ঐ মুহূর্ত এখনও আমার চোখে ভাসে’।

কম-বেশি একই ধরণের সংগ্রাম অনেক স্কলারের জীবনেই আছে। কারোরটা আমরা জানি, কারোরটা আমরা জানি না। তাই স্কলারদেরকে ট্যাগ দেওয়ার আগে একটু যেন ভাবি আমরা তিনি যেই দল-মত-সংগঠন-মানহাজ-মাযহাব এরই হোক না কেন। তাঁদের সংগ্রাম আর ‘ইলমকে যেন আমরা খাটো করে দেখার মত ধৃষ্টতাও না দেখাই। আল্লাহু মুস্তা’আন।

৬ জানুয়ারী, ২০১৫