ইউসুফ আলাইহিস সালামের জীবনী পড়ছিলাম। তো বহুদিন অনর্থক কারাভোগের পর বাদশাহর স্বপ্নের সত্য ব্যাখ্যার বিনিময়ে বাদশাহ যখন তাকে মুক্তি দেয়ার জন্য জেলখানায় দূত পাঠালেন, ইউসুফ আ: কী করলেন? সানন্দে বাইরে চলে এলেন? উহু…. সম্মানওয়ালা ব্যক্তি মুক্তির জন্য সম্মান বিসর্জন দেন না। তিনি দূতকে আবার বাদশাহর কাছে ফেরৎ পাঠালেন।

قَالَ ارْجِعْ إِلَى رَبِّكَ فَاسْأَلْهُ مَا بَالُ النِّسْوَةِ اللاَّتِي قَطَّعْنَ أَيْدِيَهُنَّ إِنَّ رَبِّي
بِكَيْدِهِنَّ عَلِيمٌ-

‘অতঃপর যখন বাদশাহর দূত তার কাছে পৌঁছলো, তখন ইউসুফ তাকে বলল, তুমি তোমার মনিবের (অর্থাৎ বাদশাহর) কাছে ফিরে যাও এবং তাঁকে জিজ্ঞেস কর যে, নগরীর সেই মহিলাদের খবর কী? যারা নিজেদের হাত কেটে ফেলেছিল। আমার পালনকর্তা তো তাদের ছলনা সবই জানেন।’ [ইউসুফ: ৫০]

এই ঘটনাটা বর্ণনা করতে গিয়ে আরেকজন সম্মানী ব্যক্তি কী বললেন, জানেন?

إنَّ الكريمَ ابنَ الكريمِ ابنِ الكريمِ بنِ الكريمِ: يوسفُ بنُ يعقوبَ بنِ اسحاقَ بنِ إبراهيمَ، وَلَو لبِثْتُ فى السجن مالبثَ ثم جاءنى الرسولُ. لأَجَبْتُ
‘নিশ্চয়ই সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির পুত্র সম্ভ্রান্ত, তার পুত্র সম্ভ্রান্ত, তার পুত্র সম্ভ্রান্ত- (তাঁরা হলেন) ইবরাহীমের পুত্র ইসহাক্ব, তাঁর পুত্র ইয়াকূব ও তাঁর পুত্র ইউসুফ। যদি আমি অতদিন কারাগারে থাকতাম, যতদিন তিনি ছিলেন, তাহলে বাদশাহর দূত প্রথমবার আসার সাথে সাথেই আমি তার প্রস্তাব কবুল করে নিতাম।’ [১]

এই বর্ণনাকারী কে? খোদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম। সুবহানাল্লাহ! সম্মানী ব্যক্তিরাই আসলে সম্মানীর সম্মান দিতে জানেন। অন্যের বড়ত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে নিজের ছোটত্বের কথা বললে নিজেকে ছোট হতে হয়না, বরং বড় মাপের মানুষরাই ছোট হতে জানেন। বিনয়ের অনুপম নমুনা বোধহয় এটিই….

সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ওয়া’লা আলিহি ওয়া সাহবিহি আজমা’ঈন ♥

[১. তিরমীযী, হাদীস নং ৩৩৩২, সনদ হাসান। ]