দূরদর্শিতার একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে মানুষের সাইকোলজি বোঝা, একটা বিষয় দিয়েই কাউকে জাজ না করে তার ভেতরটা অনুধাবনের চেষ্টা করা। ভুরি ভুরি সাইকোলজির বই পড়লেও কেউ তা না পারতে পারেন, আবার আল্লাহ তা’আলা বাই ডিফল্ট কিছু মানুষকে এই গুণটা দিয়ে দেন। রাসূলুল্লাহ কিংবা আসহাবে রাসূলদের কিছু ঘটনা শুনে অবাক হতে হয়, উনারা কতখানি দূরদর্শী ছিলেন। সিদ্দীকে আকবর হযরত আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু মৃত্যুর পূর্বে পনের দিন জ্বরে বিছানায় পড়ে ছিলেন। যখন বুঝতে পারলেন তার সময় ঘনিয়ে এসেছে, খিলাফতের দায়িত্ব কোন দায়িত্বশীল উপযুক্ত নেতার হাতে বুঝে দিয়ে যাওয়া দরকার, ডাক দিলেন সাহাবা আব্দুর রহমান বিন আওফ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে…


– আচ্ছা, উমর সম্পর্কে আপনার মতামত বলুন তো।
– উমরের মেজাজে কঠোরতা বেশি।
– দেখুন, উমরের মেজাজে কঠোরতার কারণ হচ্ছে, আমি কোমল স্বভাবের ছিলাম। আমি স্বয়ং এটা অনুধাবন করতে পেরেছি যে, যেসব বিষয়ে আমি কোমলতা অবলম্বন করতাম, তাতে উমরের অভিমত কঠোরতার দিকে আসক্ত মনে হতো। কিন্তু যেসব ব্যাপারে আমি কঠোরতা অবলম্বন করেছি, তাতে উমর সর্বদা কোমলতার দিকই অবলম্বন করতো। আমার ধারণা, খিলাফতের দায়িত্ব তাকে নরমদিল ও সংযত বানাবে।

অতঃপর উসমান ও আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুমার কাছে মত চাওয়া হলে উনারাও জানালেন: উমরের অন্তর তার বহির্ভাগ অপেক্ষা উত্তম। আমাদের মধ্যে কেউ তার সমকক্ষ হতে পারবেনা।

সাহাবাদের এই কথোপকথন শুনলে আন্দাজ করা যায়, ফারূকে আযম উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর চারিত্রিক কঠোরতার বিষয়টি উনাদের অনেকেরই হয়তো ব্যক্তিগতভাবে কিছুটা অপছন্দ ছিলো। কিন্তু কি অদ্ভূত সুন্দর! একটা জাতির নেতা নির্বাচনের ফায়সালায় উনারা নিজেদের কিঞ্চিৎ বিপরীত মনোভাব সত্ত্বেও ঠিকই এটা উপলব্ধি করেছিলেন যে, এই মানুষটি কঠোর হলেও সার্বিক বিবেচনায় খিলাফতের দায়িত্ব নেয়ার জন্য উনিই সবচে উপযুক্ত, কিংবা যে কঠোর হতে জানে, যার মাঝে আল্লাহভীতি আছে, তার উপর দায়িত্ব অর্পিত হলে সে প্রয়োজনে কোমল হতেও পারবে, কিছু ক্ষেত্রে কঠোরতাও শাসনতন্ত্র পরিচালনায় জরুরী, তার বাহিরটা দেখে কঠোর মনে হলেও তার ভেতরটা তারচে বেশিই সুন্দর।

সুবহানাল্লাহ! এইটুকু দূরদর্শী চিন্তা এ যুগে কজন করতে পারে? যেখানে আমরা নিজের অপছন্দের একটা কোয়ালিটি কারোর মাঝে পেলেই সে অন্যবিষয়ে ভালো হলেও চিন্তাভাবনা ছাড়াই বলে বসি: নাহ, ওকে দিয়ে হবেনা।