আর রহমান এবং আর রহিম আল্লাহর নামে

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যাঁর অসীম অনুগ্রহে আমরা সূরা কাহফে আলোচিত চারটি ঘটনার মধ্যে প্রথম দুটির শিক্ষা আলোচনা করতে পেরেছি। এই পর্বে আমরা তৃতীয় ঘটনাটি এবং সম্ভবত সর্বাপেক্ষা জনশ্রুত ঘটনা অর্থাৎ মূসা (আ) এবং খিদর (আ) এর যাত্রাপথের ঘটনাটির মাঝে নিহিত শিক্ষা আলোচনা করব। এই ঘটনাটি সূরা কাহফের ৬০-৮২ আয়াতে আলোচিত হয়েছে। এই ঘটনার মূলকথা হল- “জ্ঞানের পরীক্ষা”। এই ঘটনা উল্লেখ করার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদেরকে আরও শেখাতে চান-

(১) জ্ঞানার্জন ও ‘আলিমদের সান্নিধ্যের জন্য দূর-দূরান্তে সফরের গুরুত্বঃ

সহীহ বুখারীতে উল্লেখ আছে- মূসা (আ) একদিন বনী ইসরাঈলের মাঝে ওয়াজ-নসীহত করলেন। এতে উপস্থিত লোকদের চক্ষু আর্দ্র হল এবং অন্তর আল্লাহর ভয়ে কম্পিত হয়ে গেল। তখন একজন তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, “দুনিয়ায় আপনার চেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি আর কেউ আছেন?” জবাবে মূসা (আ) বললেন, “না”। এমন উত্তরে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হলেন এবং তাঁর কাছে ওয়াহী পাঠালেন এই মর্মে যে- “দুই সমুদ্রের মিলনস্থলে আমার এক বান্দা আছে যার নাম খাদির [অবশ্য তিনি খিদর নামেই অধিক পরিচিত], সে তোমার চেয়ে বেশি জ্ঞানী।” মূসা (আ) আল্লাহকে বললেন, “আপনি আমাকে এমন একটা নিদর্শন দেন যেন আমি সেই স্থান চিনতে পারি।” তখন আল্লাহ বললেন, “বড় বাক্সে একটি মৃত মাছ নাও। যে স্থানে মাছটি জীবিত হয়ে হারিয়ে যাবে সেটাই হচ্ছে তোমার কাঙ্খিত স্থান।” এরপর মূসা (আ) তাঁর যুবক ভৃত্যকে নিয়ে [যার নাম ইউশা ইবনে নূন] আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী যাত্রা শুরু করেন।

মূসা (আ) আল্লাহর নবী ও রাসূল ছিলেন, তাঁর কাছে ওয়াহী আসত। কিন্তু তবুও আল্লাহ তাঁকে জ্ঞানার্জনের জন্য সফরের নির্দেশ দিলেন। এই ঘটনা থেকে জ্ঞানার্জনের জন্য, বিশেষত দ্বীনি জ্ঞানার্জনের জন্য সফরের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সহজেই উপলব্ধি করা যায়। এছাড়াও মহান ধার্মিক ব্যক্তিত্ব ও ‘আলিমগণের সাহচর্যে থাকার গুরুত্বও এখানে অনুমেয়, যদিও তার জন্য দীর্ঘ সফরের প্রয়োজন হয়।

(২) অধীনস্থ লোকদের সাথে উত্তম আচরণ করাঃ

মহান আল্লাহ বলেন-

“(স্মরণ করো) যখন মূসা তার যুবককে বলেছিল…” [১৮:৬০]

এখানে মূসা (আ) এর ভৃত্যকে আল্লাহ ভৃত্য বলে সম্বোন্ধন না করে“তার যুবক” বলে সম্বোন্ধন করে আমাদেরকে শিখিয়েছেন অধীনস্থ লোকদের সম্মান করতে, ভালবাসতে, তাদের তাচ্ছিল্যমূলক নামে না ডেকে তাদেরকে আমাদেরই ভাই গণ্য করতে।

এছাড়াও ইউশা ইবনে নূন যখন মূসা (আ) কে জানালেন যে, মাছটি যখন জীবিত হয়ে সমুদ্রে চলে গেছিল তখন তিনি সেটা তাঁকে জানাতে ভুলে গেছিলেন তখন মূসা (আ) এজন্য তাঁকে কোনরূপ দোষারোপ কিংবা রাগারাগি করেননি। অধীনস্থ লোকদের সাথে এহেন সদাচরণের গুরুত্ব ও নির্দেশ অনেক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

(৩)সফরে খাদ্যদ্রব্য এবং ব্যবহার্য জিনিষপত্র সাথে নেওয়া উত্তমঃ

মহান আল্লাহ বলেন-

যখন তারা সেই স্থান অতিক্রম করে গেল তখন মূসা তাঁর সাথের যুবককে বলল, ‘আমাদের খাদ্য নিয়ে আসো। আমরা বড় ক্লান্ত হয়ে পড়েছি’। [১৮:৬২]

এই আয়াত থেকে আল-কুরতুবি (রহিমাহুল্লাহ) একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা উদঘাটন করেছেন আর তা হল- ‘সফরে খাদ্যদ্রব্য এবং ব্যবহার্য জিনিষপত্র সাথে নেওয়া’। কিছু সুফী সাধকদের দেখা যায় কোনরকম প্রস্তুতি ছাড়াই দীর্ঘ সফরে বের হয় এবং দাবী করে এটাই আল্লাহর উপর ভরসার নমুনা। তাদের এই দাবী মিথ্যা। কারণ, আল্লাহর নবী এবং রাসূল হওয়ার পরেও মূসা (আ) খাদ্যদ্রব্য এবং ব্যবহার্য জিনিষপত্র সাথে নিয়ে রওনা দিয়েছিলেন আর নবী-রাসূলদের চেয়ে অধিক আল্লাহর উপর ভরসাকারী আর কে হতে পারে?

(৪) সর্বদা আল্লাহকে স্মরণ (যিকর) করাঃ

আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল হওয়াই পাপের অন্যতম একটি কারণ। এজন্য সদাসর্বদা আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে। আল্লাহর স্মরণ না থাকলে শয়তান বান্দাকে অনেক ভাল কাজ থেকে গাফেল করে দেয়। আমাদের উচিত সমস্ত ভাল কাজের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং মন্দ কাজের দায়ভার শয়তানের উপর আরোপ করা। এই শিক্ষা আমরা পাই ইউশা ইবনে নূন এর এই কথাটি থেকে-

“…একমাত্র শয়তানই আমাকে তা (আপনাকে) জানানোর কথাটি ভুলিয়ে দিয়েছে…”

[১৮:৬৩]

(দ্বীনের জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী ছাত্রদেরকে তাদের শিক্ষকদের সাথে বিনয়ী, শ্রদ্ধাশীল ও দয়ালু হতে হবেঃ

মূসা (আ) ছিলেন একজন বিশেষ নবী ও রাসূল। মর্যাদায় তিনি খিদর এর চাইতে উপরে ছিলেন। কিন্তু তবুও অজানা জ্ঞান অর্জনের জন্য খিদর (আ) কে তিনি বিনয় ও শ্রদ্ধার সাথে অনুরোধ করেন তাঁকে সফরসঙ্গী করার জন্য। মূসা (আ) বলেন-

“মূসা তাঁকে বললেনঃ আমি কি এ শর্তে আপনার অনুসরণ করতে পারি যে, সত্যপথের যে জ্ঞান আপনাকে শেখানো হয়েছে, তা থেকে আমাকে কিছু শিক্ষা দেবেন?” [১৮:৬৬]

(৬) দ্বীনের জ্ঞানার্জন ‘সবর’ অর্জনের পূর্বশর্তঃ

মূসা (আ) এর অনুরোধের প্রেক্ষিতে খিদর বলেন-

“তিনি বললেনঃ ‘আপনি কিছুতেই আমার সাথে ধৈর্য্যধারণ করতে পারবেন না। যে বিষয় বোঝা আপনার আয়ত্তাধীন নয়, সে বিষয়ে আপনি ধৈর্য্যধারণ করবেন কেমন করে?’ ” [১৮: ৬৭-৬৮]

খিদর এর এই কথায় বোঝা যায়, কোন বিষয়ে ধৈর্য্য ধারণ করতে হলে সে বিষয় সম্পর্কে ভাল জ্ঞান ও ধারণা অর্জন করা দরকার। দ্বীনের পথে চলার ক্ষেত্রেও এই কথাটি সত্য। দ্বীনের পথে চলতে বহু বাধা-বিঘ্ন আসবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দ্বীনের জ্ঞান যে ব্যক্তির মধ্যে থাকবে এসব বাধা-বিঘ্ন কিছুই তাকে এই জ্ঞানার্জন ও দ্বীন পালন থেকে সরিয়ে দিতে পারবে না।

(৭) জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি বর্জনীয়ঃ

দুনিয়াবী এবং দ্বীনি কোন প্রকার জ্ঞানই ধীরস্থিরতা এবং সবর ছাড়া অর্জন করা যায় না। তড়িঘড়ি শুধুমাত্র একজন ছাত্রের জ্ঞানার্জনের জন্য বাধাই নয়, এর কারণে অনেক ছাত্র জ্ঞানার্জনের পথ থেকে ঝরেও পরে। দ্বীনের জ্ঞানের ক্ষেত্রে এই কথাটি আরও সত্য। দ্বীনের জ্ঞানার্জন কোন শর্টকোর্স নয়, এর জন্য প্রয়োজন সুদীর্ঘ অধ্যবসায় আর লেগে থাকার মানসিকতা। এছাড়াও একজন ছাত্রের উচিত নয় যেকোন বিষয়ে পাঠদান সম্পন্ন হওয়ার আগেই শিক্ষককে তড়িঘড়ি করে প্রশ্ন করা। সম্পূর্ণ বিষয়টি শিক্ষকের কাছ থেকে বুঝে নেওয়ার পর শিক্ষকের অনুমতিক্রমে প্রশ্ন করাই আদর্শ ছাত্রের বৈশিষ্ট্য। খিদর এর দ্বারা কৃত আপাত দৃষ্টিতে ‘হারাম’ [বাস্তবে সেগুলোর পেছনে ছিল হিকমাহ, যা আল্লাহ ওয়াহীর মাধ্যমে খিদরকে জানিয়েছিলেন] কাজগুলিকে মূসা (আ) প্রশ্নবিদ্ধ করলে খিদর এই শিক্ষাটি মূসা (আ)কে দিয়েছিলেন এই বলে-

“তিনি বললেনঃ যদি আপনি আমার অনুসরণ করেনই তবে কোন বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবেন না, যে পর্যন্ত না আমি নিজেই সে সম্পর্কে আপনাকে কিছু বলি”। [১৮:৭০]

(৮) ভুলভ্রান্তির জন্য শিক্ষকের কাছে নিঃসংকোচে ক্ষমা চাইতে হবেঃ

জ্ঞানার্জনের পথে একজন ছাত্রের ভুলভ্রান্তি হতেই পারে, কিন্তু শিক্ষক সংশোধন করে দেওয়ার সাথে সাথে সেই ভুল নিঃসংকোচে স্বীকার করে নিয়ে নিজেকে সংশোধন করাই আদর্শ ছাত্রের বৈশিষ্ট্য। ঠিক এই গুনটাই দেখা যায় মূসা (আ) এর ভেতর যখন তিনি খিদরকে বলেছিলেন-

“মূসা বললেনঃ আমাকে আমার ভুলের জন্যে অপরাধী করবেন না এবং আমার কাজে আমার উপর কঠোরতা আরোপ করবেন না” [১৮:৭৩]

এছাড়াও মূসা (আ) বলেছিলেন-

“…আমি এরপর আপনাকে কিছু জিজ্ঞেস করলে আমাকে আপনার সাথে রাখবেন না। আপনি ইতিমধ্যেই আমার কাছে যথেষ্ট অজুহাত শুনেছেন”। [১৮:৭৬]

(৯) বিপদের সময় ধৈর্য্য ধারণ মু’মিনের বৈশিষ্ট্যঃ

আমাদের উপর আপতিত প্রতিটি দুর্যোগের পেছনে রয়েছে আল্লাহর নির্ধারিত কল্যাণ। কখনও কখনও হয়ত আমরা এই কল্যাণ নাও বুঝতে পারি কিন্তু আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে যে, দুনিয়া অথবা আখিরাতে এই আপাত অকল্যাণের পেছনের কল্যাণ আমাদেরকে আল্লাহ দান করবেন। এজন্য দুর্যোগের সময় হা-হুতাশ না করে বরং আল্লাহর উপর ভরসা করে আল্লাহর প্রশংসাজ্ঞাপন করতে হবে।

আলোচ্য ঘটনায় দেখা যায়, খিদর লোকভর্তি একটি নৌকা ফুটো করে দিয়েছিল। এই ঘটনার পেছনের কল্যাণ তারা দুনিয়াতেই টের পেয়েছিল আর তা হল অত্যাচারী রাজা তাদের নৌকাটি দখল করতে পারেনি। আবার একটি ছোট্ট বাচ্চাকে খিদর হত্যা করেছিল কারণ ওয়াহীর মাধ্যমে সে জানতে পেরেছিল যে এই বাচ্চাটি বড় হলে তার বাবা-মাকে দ্বীন থেকে ফিরিয়ে নিবে। বালকটিকে হত্যার কারণ তার বাবা-মা ইহকালে জানতে পারেনি তবে পরকালে আল্লাহ তাদেরকে জানিয়ে দিবেন এবং তখন তারা এর হিকমাহ বুঝতে পারবেন। এই দুটি ঘটনা আমাদেরকে শেখায় আপাত অকল্যাণের পেছনের কারণ ও কল্যাণ আমরা হয় দুনিয়ায় অথবা আখিরাতে অবশ্যই জানতে পারব ইনশাআল্লাহ। এই বিশ্বাসই একজন মুমিনকে দুনিয়ায় সকল পরিস্থিতিতে শক্ত থাকার প্রেরণা যোগায়।

(১০) কিছু ফিক্বহী বিধান উদ্ভাবনঃ

এই ঘটনাটি থেকে ‘আলিমগণ কয়েকটি ফিক্বহী বিষয় উদ্ভাবন করেছেন। সেগুলো হল-

  • “দুটি মন্দের মধ্যে অপেক্ষাকৃত অল্প মন্দকে বেছে নেওয়া”-এটি ফিক্বহশাস্ত্রের একটি মূলনীতি। [রাজা কর্তৃক নৌকা দখল হওয়ার চাইতে নৌকা ফুটো হয়ে যাওয়া ছিল অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিকর]। 
  • “সামান্য অংশকে ক্ষতিগ্রস্থ করার মাধ্যমে বাকি অংশকে রক্ষা করা”-এটিও ফিক্বহশাস্ত্রের একটি মূলনীতি। শরীরের একটি অংশ থেকে চামড়া তুলে নিয়ে অপর স্থানে প্রতিস্থাপন করার চিকিৎসায় ডাক্তারগণ এই মূলনীতি ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করেন। ফকীহগণ এখান থেকে অভিমত দিয়েছেন যে, ইসলামিক ট্রাস্টের কোন অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হলে এর কিছু অংশ বিক্রি করে সেটির ক্ষতিপূরন করা যেতে পারে।

(১১) নিয়্যাত প্রকাশের বৈধতাঃ

মূসা (আ) বলেছিলেন-

“যখন মূসা তার যুবক সঙ্গীকে বলেছিলেন-‘দুই সমুদ্রের মিলনস্থলে না পৌঁছা পর্যন্ত আমি থামব না অথবা আমি আরও দীর্ঘ সময় চলতে থাকব।’” [১৮:৬০]

এখান থেকে বোঝা যায়, ভাল কাজের নিয়্যাত প্রকাশ করলে যদি তা অন্যকে সেই ভাল কাজের প্রতি উৎসাহী করে তবে নিয়্যাত প্রকাশ করা বৈধ এবং তা অহংকার নয়। কিছু ক্ষেত্রে নিয়্যাত প্রকাশ করা বরং উত্তম।

(১২আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান ছাড়া খিদর গায়েবের অন্য কিছুই জানতেন নাঃ

সহীহ বুখারী এবং মুসলিমের হাদীসে রয়েছে- মূসা (আ) এবং তাঁর ভৃত্য তাঁদের পদচিহ্ন ধরে ফিরে চললেন সেই স্থানের সন্ধানে যেখানে মাছটি হারিয়ে গেছিল। সেখানে পৌঁছে মূসা (আ) দেখেন সমুদ্রের মাঝখানে একটি সবুজ গালিচায় খিদর অবস্থান করছেন। মূসা (আ) এবং খিদর এর মধ্যে সালাম বিনিময়ের পর কথাবার্তার এক পর্যায়ে খিদর মূসা (আ)কে প্রশ্ন করেন- আপনি কি বনী ইসরাইলের মূসা?’ তখন মূসা (আ) উত্তর দেন-‘হ্যাঁ।’ এ থেকে বোঝা যায়, নৌকা ফুটো করা, বালকটিকে হত্যা করা এবং প্রাচীর মেরামত করে দেওয়ার পেছনের হিকমাহ আল্লাহর পক্ষ থেকে তিনি জানতে পারলেও তাঁর কাছে গায়েবের সকল জ্ঞান ছিল না, নচেৎ তিনি মূসা (আ) কে চিনতে পারতেন।

(১৩) ভৃত্য/খাদেম রাখার বৈধতাঃ

মূসা (আ) এর ভৃত্য ছিলেন ইউশা ইবনে নূন যাকে তিনি নিজের সফরসঙ্গী বানিয়েছিলেন। এ থেকে বাসায় অবস্থানকালে কাজের প্রয়োজনে এবং সফরে সহজতার জন্য ভৃত্য রাখা এবং সাথে নেওয়ার বৈধতা প্রমাণিত হয়।

(১৪) নিজের খাদ্য থেকে ভৃত্যকে খাওয়ানো উত্তমঃ

মূসা (আ) তাঁর ভৃত্য ইউশা ইবনে নূন-কে বলেছিলেন-

“…মূসা সঙ্গী কে বললেনঃ আমাদের নাশতা আন। আমরা এই সফরে পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছি”। [১৮:৬২]

এখান থেকে বোঝা যায়, মূসা (আ) তাঁর নিজের ও তাঁর ভৃত্যের জন্য একই খাবার নিয়েছিলেন। ভৃত্যকে নিজের খাবার থেকে খাওয়ানো, নিজের পোশাক থেকে পরানো ইত্যাদি বিষয়গুলি আমাদের শরীয়তেও নির্দেশিত।

(১৫) কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশের প্রতি শর্তহীন আনুগত্যঃ

কুরআন এবং সুন্নাহ-তে আমাদেরকে যেসব পালনের এবং বর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেগুলোর সবগুলোর পেছনের হিকমাহ এবং কারণ আমরা নাও জানতে পারি। কিন্তু এজন্য সেগুলো আমল করা থেকে পিছু হটা যাবে না। কোন বিষয় কুরআন এবং সহীহ সুন্নাহতে আছে কিনা তা যাচাই করতে সমস্যা নেই বরং সেটাই করণীয় কিন্তু যখনই সেটি কুরআন এবং সহীহ সুন্নাহ দিয়ে প্রমাণিত হয়ে যাবে তখনই আমাদেরকে তা কোনরকম প্রশ্ন ছাড়াই মেনে নিতে হবে। আলোচ্য ঘটনায় খিদর কর্তৃক নৌকা ফুটো করা, বালককে হত্যা করা এবং প্রাচীর মেরামত করে দেওয়ার ঘটনা এই নীতিরই প্রমাণ।

 আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।