হল জীবনের অনেক কষ্টকর অভিজ্ঞতার একটা হল- ডাইনিং থেকে বের হয়ে হাত ধোয়ার জায়গায় প্রায়শই নোটিশ দেখা যায়, সাহায্য চেয়ে নোটিশ। অমুক ব্যাচের অমুক ছেলেটা দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত, তমুক ব্যাচের এক ছেলের মা-র বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করা লাগবে কিংবা আমাদেরই খুব কাছের কোন বন্ধু শয্যাশায়ী হয়ে দিনের পর দিন বিছানায় পড়ে আছে। এই ক’দিনে বেশ কয়েকটা ইভেন্ট দেখলাম যেগুলোর মূল কথা একই-সাহায্যের আবেদন। আমাদের বুয়েট-০৯ এর প্রাণের বন্ধু অতিশয় ভদ্র ছেলে আতিক কিংবা রুয়েট-০৯ এর সদ্য পাশ ইঞ্জিনিয়ার নয়ন অথবা দরিদ্র পরিবারের সিস্টার তায়বা থেকে শুরু করে দূর্দান্ত ব্রিলিয়ান্ট সিস্টার জিনিয়া-তাক্বদীরের কাছে সবাই পরাজিত।

প্রতিবারই এই সাহায্যের আবেদনগুলো আমাকে একটা বড় রিমাইণ্ডার দেয়- মৃত্যুর রিমাইণ্ডার। অথচ এই ভয়ঙ্কর মৃত্যুভয় খুব বেশিক্ষণ থাকে না, আবার সেই খেল-তামাশা, হাসি-ঠাট্টা। চোখের সামনে দিয়ে লাশ নিয়ে যায় কিন্তু আমরা গল্প করি নতুন কী মুভি রিলিজ পেলো কিংবা কোন তারকার কোন এলবাম হিট করল। কবরস্থানের সামনে দিয়ে হররোজ যাওয়া-আসা করলেও ফিরে তাকানোর সময় হয় না।
সালাফরা এজন্যই বলতেন, দুনিয়ার যাদু হারুত-মারুতের যাদুর চেয়েও ভয়ঙ্কর। হারুত-মারুতের যাদু স্বামী-স্ত্রীকে পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিত কিন্তু দুনিয়ার যাদু বান্দাকে আল্লাহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এর চেয়ে বড় ট্র্যাজেডি আর হতে পারে না। আল্লাহতো নিজেই বলছেন-

“মানুষের জন্য তাদের হিসাব নিকাশের মুহূর্তটি এসে গেছে অথচ তারা এখনও উদাসীনতায় বিমুখ হয়ে আছে।” (আম্বিয়াঃ ০১)
“জেনে রাখো, এই পার্থিব জীবন খেলাধুলা, হাসি-তামাশা, জাঁকজমক, অহংকার প্রদর্শনের প্রতিযোগীতা, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়ানোর চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়…” (হাদীদঃ২০)

আল্লাহ আমাদের প্রত্যেক অসুস্থ ভাই-বোনদের সুস্থ করে দিন, এমনভাবে সুস্থ করুন যেন আর কোন রোগ অবশিষ্ট না থাকে, নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ আরোগ্য দানকারী, তাঁদের পরিবারকে ধৈর্য্য ধারণ করার তৌফিক দিন আর জান্নাতে এর বিনিময়ে উচ্চ মর্যাদায় দাখিল করুন। আমিন।

২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪