আমার আরবি শেখার হাতে খড়ি ছিলো আলিয়া মাদ্রাসায়, ওখানে ইবতেদায়ী শেষ করায় নাহু, সরফের প্রাথমিক বিষয়গুলো জানা ছিলো। এরপর বিভিন্ন কারণে মাদ্রাসা থেকে স্কুলে এসে ভর্তি হওয়া আরবির সাথে পথচলা একদম বন্ধ হয়ে যায়। ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারের দিকে যখন তাফসীর পড়া শুরু করলাম, ছোটবেলার পরিচিত কিছু কিছু শব্দ কমন পড়লেও পুরো অর্থটা আর বুঝতে পারতাম না। দ্বীনি পরিবারেই জন্ম হলেও এই সময়ে এসেই মূলতঃ নিজ তাগিদে ইসলামটা নতুন করে জানার ও মানার আগ্রহ হয়, তার পেছনে অবশ্য ডাক্তার জাকির নায়েক হাফিজাহুল্লাহ এর ভূমিকা অনেক। তো মাদ্রাসা ছেড়ে এসেছি অনেকদিন হলো, এরপর স্কুল পেরিয়ে কলেজ লাইফ, ইংলিশে বরাবরই ভালো ছিলাম। দ্বীন জানার আগ্রহে একটু একটু করে ফাকা সময় গুগল থেকে ইংলিশ লেকচার নামিয়ে শোনার চেষ্টা করি। ফলে আরবি মাথা থেকে একদম শিকেয় ওঠে, বাংলা একটা বাক্য আরবি করতে চাইলে মুখ দিয়ে ইংলিশ বের হয়। খুব পরিচিত দু’চারটা শব্দ আর ফা’আলার ১৪ টা সীগাহ ছাড়া আর কিছুই মনে নেই। তো তাফসীর পড়তে গিয়ে আর এগোতে পারিনা, বাংলা অনুবাদ পড়ে মন ভরেনা, আরবিও বুঝিনা…..

সে ২০০৯-১০ এর দিকের কথা, ফেইসবুক একাউন্ট খুলেছি নতুন। মাথায় চেপেছে আরবি শেখার ভূত, নতুন করে মাদ্রাসা ছেড়ে আসার দুঃখ ভর করলো। অন্যদিকে বরাবরই আতেলমার্কা স্টুডেন্ট থাকায় ১৪ জেনারেনের প্রত্যাশা আকাশছোয়া। কলেজ, কোচিংয়ের পড়াশোনা চালিয়ে তার মধ্যে আবার আরবি শেখা, অফলাইনে তো সম্ভবই না, ছেলেমানুষ হলে তা-ও হতো। ফেইসবুক, গুগল সমস্ত জায়গায় হয়রান হয়ে খুজতে লাগলাম, কোথায় একটু আরবি শেখার সুযোগ আছে! নাহ, অনলাইনে কোত্থাও কিছু নাই। ফেইসবুকে পরিচিত এক আপুর কাছে জানতে পারলাম, কোন একটা ভার্সিটির উস্তাদ জেনারেল লাইনের ছাত্রদের আরবি পড়ান। কন্ট্যাক্ট নম্বর জোগাড় করে সেই মাদ্রাসায় খোজ নিলাম, কিন্তু যেখানে ক্লাস নেন, তা আমার বাসা থেকে অনেক দূর। কী আর করা? হতাশ হয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম….

ইন্টার পরীক্ষা শেষ। আরবি কোথায় শিখি, সেই খোজ নিতে আমি গুগলে কোন কী-ওয়ার্ড সার্চ দিতে বাদ রাখিনি। যা পাই তা হচ্ছে- ‘৩০ দিনে আরবি কথা শিখুন’ টাইপের কোর্স। এসব আমার দরকার না, আমার দরকার কুরআনিক আরবি শেখা। এরই মাঝে ইসলাম ক্লাসের এক হালাকায় বাংলাদেশ মেডিকেলের এক ডেন্টিস্ট আপুর সাথে পরিচয় হলো। আপুর কাছে জানতে পারলাম, আব্দুল মতীন নামে একজন উস্তাদ আইসিডিতে আরবি শেখান। সপ্তাহে একটা করে ক্লাস, ৫-৬ বছরের কোর্স বোধহয়। মনে আশার একটু বাতি জ্বলেই আবার দপ করে নিভে গেলো- ক’দিন বাদে আমার এডমিশান টেস্ট, মেডিকেলে পড়ার ইচ্ছা। ঢাকায় চান্স না হলে এত লম্বা কোর্সে ভর্তি হয়ে কীভাবে কন্টিনিউ করবো? সে যাত্রায় আর শুরু করা হলোনা…

অবশেষে নতুন গন্তব্য হলো রাজশাহী মেডিকেল কলেজ। নতুন এক অনিশ্চয়তার ভেতর পড়ে গেলাম- ওখানে চলে গেলে আমার ইসলাম ক্লাস, আরবি পড়া সব বন্ধ হয়ে যাবে, আমিতো কিছুই চিনিনা সেখানে। যাহোক, ক্লাস শুরু হতে আরও ৩ মাস বাকি, এটুকু সময় কাজে লাগিয়েই দেখিনা! সেই ডেন্টিস্ট আপু আর আমি মিলে উস্তাদ আব্দুল মতীনের সাথে কথা বললাম, উনি আমাদের পার্সোনালি পড়াতে পারবেন কিনা, যেহেতু আমার হাতে সময় মাত্র ৩ মাস। প্রসংশা আল্লাহর, উনি এত ব্যস্ততা নিয়েও রাজি হয়ে গেলেন। এই সময় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের আরও দু’জন আপু আমাদের সাথে যুক্ত হলেন। ৪ জন মিলে নিজেরাই একটা ব্যাচ করে পড়া শুরু করলাম। অবশেষে আরবির পথে আমার যাত্রা শুরু….(আলহামদুলিল্লাহ)

উস্তাদের বাসা আমার বাসা থেকে বহুদূর- নবীনগর, বেড়িবাঁধ। প্রতিদিন সকালে খেয়েদেয়ে বের হতাম- পায়ে হেটে, লেগুনায়, এরপর উড়াল পঙ্ক্ষী, এরপর রিকশায় উস্তাদের বাসায় পৌছতাম, সারাদিন পড়ে বাসায় ফিরতে সন্ধ্যার কাছাকাছি হতো। সেই পড়া ছিলো কষ্ট ও আনন্দের আরেক গল্প৷ তবে পথটা মোটেই সহজ ছিলোনা। পড়া শুরুর হপ্তাখানেকের মধ্যেই বাকি ৩ জন আপু একেকজন একেক কারণে পড়া বাদ দিয়ে দিলেন, বিপদে পড়ে গেলাম আমি একা, তাও পুরুষ উস্তাদের কাছে পড়া। তবে কেউ না থাকলেও আমি একাই চালিয়ে যাবো আল্লাহ চাইলে, এই সংকল্পটুকু ছিলো। রুমের ভেতরে ফ্লোরে বসতাম, আমার সাথে সঙ্গ দিতে উস্তাদের মেয়ে আর ভাতিজিও বসতো, আর রুমের বাইরে চেয়ারে বসে অন্যদিকে তাকিয়ে পড়াতেন উস্তাদ। কি একটা অস্বস্তি! অনেক কিছু না বুঝলেও পুরুষ উস্তাদ বলে বার বার জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করতো না, চেপে যেতাম। ব্যস্ততার কারণে কোন দিন উস্তাদ সময় দিতে না পারলে উনার ভাতিজি অথবা স্ত্রীর কাছে পড়তাম। উস্তাদের মাদ্রাসার ছাত্রদের জন্য দুপুরে ডেকচিতে রান্না হতো, আমাকেও উনারা জোর করে খাওয়াতেন। পুরোটা পরিবারের কাছে আমি কৃতজ্ঞ, উনারা সবাই কত যে হেল্প করেছেন আমাকে সেই সময়!

আলহামদুলিল্লাহ, মদীনা এরাবিক জুয ১, ২ শেষ করে ফেললাম সোয়া এক মাসের মধ্যেই। কিন্তু ৩ নং পড়ার সময় উস্তাদের মাদ্রাসার ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ায় আর সময় দিতে পারলেন না৷ ওদিকে আমার ঢাকা থাকার সময় ফুরিয়ে আসছে, নতুন কোন উস্তাদও পাচ্ছিনা৷ কীভাবে কীভাবে আরেক আপুর খোজ পেলাম, উনার বাসা ১৩ নম্বর। এবার উনার বাসায় যাওয়া শুরু করলাম, আপুটাও অনেক হেল্প করেছেন। কোনরকমে ২০-২৫ দিনের মধ্যে জুয ৩ শেষ করলাম, আলহামদুলিল্লাহ। ও হ্যা, এরই মধ্যে সেই ডেন্টিস্ট আপুর অনুরোধে উনাকে ফোনে মদীনাহ এরাবিক ১ পুরোটা পড়ানোর সুযোগ হয়েছিলো। পড়ানোর শেষে আপু আমার খুব পছন্দের একটা আরবি বই নিজে বাধাই করে হাদিয়া দিয়েছিলেন, যেটা দেখেছিলাম উস্তাদ আব্দুল মতীনের বাসায়, সেদিন কি যে খুশি হয়েছিলাম বইটি পেয়ে!

অতঃপর তল্পিতল্পা গুছিয়ে এক বুক ‘হতাশা’ নিয়ে রাজশাহীর পথে যাত্রা। ধরে নিয়েছিলাম, ইল্ম ত্বলবের সব দুয়ার বুঝি বন্ধ হয়ে গেলো। কিন্তু আমার রব্বের পরিকল্পনা কতইনা উত্তম! আজ ভাবতে গেলেও কৃতজ্ঞতায় চোখে পানি চলে আসে। তিনি চাইলে ঊষর জমিনেও ফুল ফোটে, আমরা চাওয়ার মত চাইতে পারিনা তাই! সুবহানাল্লাহ, রাজশাহীতে আসার পর আল্লাহ আমার সামনে দ্বীনের পথে চলার নতুন নতুন পথ খুলে দিতে লাগলেন, ঢাকার জীবনে যা আমি কল্পনাও করিনি। অনলাইনে উস্তাদ আসিফ মেহের আলীর কিছু অডিও পেলাম একজনের কাছে, পড়ার ফাকে ফাকে ওগুলো শুনতাম, নিজের পড়াগুলো একটু নতুন আঙ্গিকে ঝালাই হতে লাগলো। উনার সেই গান গেয়ে পড়ানো কিছু কবিতা এখনো মনে পড়ে….

ফার্স্ট ইয়ারের শেষদিকে ফেইসবুকে এক আপুর কাছে জানতে পারি, ইসলামিক অনলাইন ইউনিভার্সিটি নামে একটা ইউনিভার্সিটিতে অনলাইনে পড়াশোনা করা যায়, ঢাকায় নাকি সেন্টার খুলেছে। এরপর আরও খোজখবর নিয়ে সেকেন্ড ইয়ারে আল্লাহর নামে বেইস (BA in Islamic Studies) কোর্সে ভর্তি হয়ে যাই। এখানেই আমার একাডেমিক্যালি আরবি শেখার দ্বিতীয় পর্যায় শুরু। BAIS কোর্সে আরবি সিলেবাস মোটামুটি বেশ ভালোমানেরই- এরাবিক গ্রামার মেড ইজি, মদীনাহ এরাবিক- ২, ৩,  আরাবিয়্যাতু বাইনা ইয়াদাইক ১ম খণ্ড, বালাগাত, তরজমাতুল কুরআন (কিছু সিলেক্টেড সূরাহ)। এখানে পড়ে আলহামদুলিল্লাহ মদীনা এরাবিক দ্বিতীয়বার পড়া হলো। IOU সেকেন্ড ইয়ারের দিকে বোধহয় উস্তাদ নোমান আলী খানের বায়্যিনাহ ইন্সটিটিউট এর সাথে পরিচিত হই, ওখানে Arabic With Husna কোর্সটি তখন রেকর্ডিং চলছিলো। ওটা দেখা শুরু করলাম, ১০-১৫ মিনিটের একেকটা ভিডিও, উস্তাদ তার মেয়ে হুসনাকে পড়াতেন। এই সিরিজের দুইটা সিজন দেখে শেষ করেছিলাম- সরফ নিয়ে কিছু দুর্বলতা ছিলো, এটা করার পর সেগুলো আরেকটু আয়ত্ত্বে আসে, আলহামদুলিল্লাহ।

এরই মাঝে অবশ্য নিজে পড়ানোরও চেষ্টা করেছি, কারণ যেকোন জ্ঞান ভালোভাবে আয়ত্ত্বে আনার মূল উপায় হচ্ছে- শেখা ও শেখানো, শেখানোর চর্চা না থাকলে জ্ঞান ভালোভাবে বুঝে আসেনা। থার্ড ইয়ারে থাকতে কয়েকটা বান্ধবীকে মদীনা এরাবিক বুক ১ পড়িয়েছি। এরপর ব্যাচমেট আর সিনিয়র-জুনিয়র মিলিয়ে একটা ব্যাচ হয়ে গেলো, ওদের জন্য আরেকটু সহজ একটা বই খুজছিলাম, কারণ মদীনা এরাবিক বইটা আসলে এমন যে, দ্বিতীয় খণ্ডে গিয়েই মানুষ হাল ছেড়ে দেয়া শুরু করে। অনুজ আব্দুল্লাহ মাহমুদ নজীবের কাছে পরামর্শ চাইলাম, ও বলেছিলো ‘এসো আরবি শিখি’র কথা, এটা মাদ্রাসায় পড়ায়। দোকানে গিয়ে এক সিরিজ কিনে এনে উল্টে পাল্টে দেখলাম, মনে হলো আসলেই চমৎকার উপস্থাপন। ঐ প্রথম মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ (আদীব হুজুর) এর প্রতিভার সাথে আমার পরিচয়। আল্লাহ উনার উপর রহম করুন। তো নতুন ব্যাচে এই বইটি পড়ানো শুরু করলাম সাহস করে, যদিও বইটি আমি নিজে কোন উস্তাদের কাছে পড়িনি, কিন্তু আরবি যেহেতু মোটামুটি আমি জানি, তাই চেষ্টা করলে পারবোনা এমন মনে হয়নি। আলহামদুলিল্লাহ, ওদেরকে পড়াতে পড়াতেই এই সিরিজটা আমার নিজেরও পড়া হয়, এই সিরিজের প্রতি ভালোবাসায় পড়ে যাই। ফোর্থ ইয়ারে উস্তাদ নাহিদ হাসানের অনলাইন কোর্সে ফিমেইল ব্যাচের ক্লাস নিয়েছি এক ব্যাচের স্কাইপে। এই সময় নাহিদ হাসান উস্তাদের ফেইসবুক পেইজের আরবি পোস্টগুলো নিয়মিত পড়তাম, ভালো লাগতো। ‘কুরআনীয় আরবি শিক্ষা’ বইটি ছাপা হওয়ার পর ভেবেছিলাম, পরবর্তীতে আর কাউকে পড়ালে এই বইটিই পড়াবো। হোস্টেল জীবনের শেষ জুনিয়র ব্যাচটিকে এই বইটিই পড়িয়েছি- আরবি গ্রামারের নিয়মগুলো খুব সহজভাষায় লেখা, সাথে আছে কুরআন থেকে উদাহরণ। আল্লাহ লেখককে জাযায়ে খায়ের দান করুন।

এই সুদীর্ঘ যাত্রার শেষে যখন কুরআন খুলে বসি, দেখলাম গ্রামার মোটামুটি সবই বুঝি, আলহামদুলিল্লাহ, কিন্তু কুরআনিক ভোক্যাবুলারি অন্যান্য বইয়ের ভোক্যাবুলারির মত নয় বিধায় গ্রামার জানার পরেও কুরআনের ৫০-৬০% অবোধ্যই রয়ে গেছে। আর সেই যে তাফসীর ছেড়ে আরবির পথ ধরেছিলাম, তাফসীর আর শেষ করাই হয়নি। এরই মাঝে এক ছোটবোনের কাছে খবর পেলাম, QARI নামের একটা ফেইসবুক পেইজে দু’বছরের একটি তাফসীর কোর্স শুরু হচ্ছে। যে কোন একটি তাফসীর পুরোটা শেষ করা যাবে শুরু করলে, ওরা সিলেবাসও দিয়ে দেবে। ১০০ টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশান করে কোর্সে ঢুকে গেলাম- প্রতিদিন মাত্র ১ রুকু পড়া। ছোট্ট একটি তাফসীর নিয়ে শুরু করলাম, ড. আবু বকর যাকারিয়ার দুই খণ্ডের তাফসীর। আর ঐ যে কুরআনিক ভোক্যাবুলারি? তাফসীরের সাথে নিজে আরেকটা টার্গেট নিলাম, মাত্র ১ রুকু তাফসীর পড়তে যেহেতু সময় বেশি লাগেনা, তো এর সাথে সেই রুকুতে যে কয়টা আরবি শব্দ আমার অজানা আছে, সেগুলো খাতায় লিখে মুখস্থ করে ফেলবো। বিগিনারদের জন্য এটা কঠিন হবে, কিন্ত যারা আরবির লাইনে কিছুটা পুরনো, তাদের অনেক শব্দই জানা থাকায় এক রুকুতে অজানা শব্দ খুব বেশি হয়না। এই কাজে আমার খুব উপকার করেছে Greentech এর Al Quran (Tafsir & by word) অ্যাপ, এখানে প্রতিটি শব্দের অর্থ ও সংক্ষিপ্ত সরফ বিশ্লেষণ থাকে। আলহামদুলিল্লাহ, এভাবে পুরোটা কুরআন একবার শেষ করার পর কুরআন কিংবা তাফসীর পড়তে গিয়ে মনে হলো- আল্লাহ আমাকে আজ ২০১৯ এ ঠিক সেই অবস্থানে এনে দাড় করিয়েছেন, যে স্বপ্নটা আমি দেখেছিলাম ২০০৯ কিংবা ১০ এ। প্রসংশা কেবলই আল্লাহর, যিনি মানুষের মন থেকে করা দু’আ ও প্রচেষ্টা বিফল করে দেন না। হ্যা, আমি হয়তো এখনো আরবি বড় বড় বই এর ইবারত পড়ে বাংলা ইংলিশের মত সহজভাবে বুঝতে পারিনা, কিন্তু যে কুরআন আমি মাতৃভাষার মত বুঝতে চেয়েছিলাম, সেটি অনেকাংশেই পেরেছি- হয়তো বালাগাতের মাধুর্য পুরোটা এখনো শেখা হয়নি। তাফসীর নিয়ে সুযোগ পেলে আরও পড়ার ইচ্ছা রাখি, ইনশাআল্লাহ।

আরবি শেখার পথে নতুনদের জন্য আমার একটিই উপদেশ থাকবে- “লেগে থাকুন”, কোন কোর্সে ভর্তি হওয়ার পর পছন্দ হোক বা না হোক, শেষ পর্যন্ত দাত কামড়ে লেগে থাকলে আপনি অবশ্যই মঞ্জিলে মাকসাদে পৌছবেন, ইল্লা মা শা আল্লাহ। বার বার কোর্স জাম্প করে আসলে লক্ষ্যে পৌছা যায়না। আর হ্যা, এটা ২০০৯ নয়, যখন সমস্ত গুগল খুজেও আপনি কোন অনলাইন কোর্স পাবেন না। এখন আমাদের ইল্মের জগতে বসন্ত চলছে, শুধু ফেইসবুকেই আপনি বাংলা ভাষায় আরবি শেখার ডজনখানেক বা তারও বেশি কোর্স পাবেন। এরপরও যদি বলেন আপনার হাতে সুযোগ নেই, তাহলে দায়বদ্ধতা এড়ানো যায়না। বাংলা-ইংলিশে পিএইচডি হয়ে কি লাভ, যদি আমি আমার আল্লাহর দেয়া একমাত্র গ্রন্থ, রাসূলুল্লাহর পাওয়া জীবন্ত মু’জেযা কুরআনটাই না বুঝতে পারি? আমরা সত্যিই পারবো (ইনশাআল্লাহ), তবে ‘লেগে থাকতে হবে’, এর বিকল্প নেই। আর হ্যা, ব্যস্ততা? ছাত্রজীবনেই যদি সময় বের করতে না পারেন, তবে সামনের দিনগুলোতে ব্যস্ততা বাড়বে ছাড়া কমবে না, এটুকু নিশ্চিত থাকেন। আমি একটা উপমাই দিয়ে থাকি- অন্যরা যদি মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা কঠিন কোন প্রতিষ্ঠানে পড়েও (হারাম) ভালোবাসার মানুষের জন্য জন্য সময় বের করতে পারে, আমি-আপনি কেন তা পারবো না ‘আমাদের ভালোবাসা’র জন্য? সময় কি সত্যিই আমার হাতে নেই, না এগুলো কেবলই অজুহাত? ‘ভালোবাসা’র বেলায় কি অজুহাত খাটে? Arabic was my Love, & still is my Love, because it’s the language of Quran; words of my Rabb…

اللهم اجعل القرآن العظيم ربيع قلوبنا، ونور صدورنا، وجلاء أحزاننا، وذهاب همومنا وغمومنا

“হে আল্লাহ! কুরআনকে আমাদের হৃদয়ের বসন্ত, অন্তরের আলো, দুঃখের অপসারণ ও দুশ্চিন্তার প্রস্থান বানিয়ে দিন।”