আমাদের বিয়ের অনুষ্ঠানটা কিভাবে হয়েছিলো, তা নিয়ে অনেকেই মাঝে মাঝে ইনবক্সে জানতে চান, লিখতেও বলেছে অনেকে। দেখি লিখা যায় কিনা, কারও যদি উপকার হয়, ইনশাআল্লাহ। সুন্নাতি বিয়ের পাইলট প্রোজেক্ট আমাদের কাছে ছিলো দুইটা। প্রথমে ভাইয়ার বিয়ে, পরে আমার বিয়ে। দুটো নিয়েই বলা প্রয়োজন মনে করছি। মোটামুটি ধারণা পাবেন, ইনশাআল্লাহ।

ভাইয়া আর আমার দুজনেরই বিয়ের মূল প্রোগ্রাম হয় প্রিন্স রেস্টুরেন্টে। ভাইয়ার বিয়েতে আমরা পাত্রপক্ষ ছিলাম, আর আমাদের প্ল্যান ছিলো মেয়ের বাবার উপর কোন বার্ডেন না দিতে। এজন্য মেয়ের বাড়িতে বড় কোন প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়নি, আলহামদুলিল্লাহ। ঘরোয়াভাবেই বিয়েটা হয় এবং পাত্রপক্ষের মেহমান ছিলাম আমি একাই, আর পাত্র নিজে

 আমি অবশ্য পাত্রীপক্ষও ছিলাম, ভাবী যেহেতু আমার ব্যাচমেট+ বান্ধবী+ দ্বীনি বোন, আর ঘটক আমি নিজেই।

ভাইয়া যেহেতু তাব্লীগে এক্টিভ, তাব্লীগী অনেক পরিবারেই এরকম বিয়ে হয় সাহাবাদের মতো, মেয়ের বাড়িতে অনুষ্ঠান হয়না, মেয়ের বাবা মেয়েকে ছেলের বাড়িতে এগিয়ে দিয়ে যায়, এরপর ছেলের বাড়িতেই ওয়ালিমা হয়। ভাইয়ার শ্বশুরও তাব্লীগী ছিলেন বিধায় ভাইয়ার এই ইচ্ছেটা পূরণ করা সম্ভব হয়। ভাবীর বাবা ভাবীকে আমাদের বাসায় এগিয়ে দিয়ে যান, এরপর আমাদের বাসা থেকেই ওয়ালিমা অনুষ্ঠান হয়।

বিয়ে পড়ানো হয় ইজতেমার মাঠে, ওখানে ভাইয়া, আব্বু, ভাইয়ার শ্বশুর সবাই ইজতেমায় ছিলেন। বিয়ে পড়ানোর পর উপস্থিত ব্যক্তিদের খেজুর আর মিষ্টি খাওয়ানো হয়। বিয়ে পড়ানোর পর আমিই প্রথম ভাইয়া ভাবীকে ফোন করে কনফারেন্সে কথা বলিয়ে দিয়েছিলাম। আহ, স্মৃতি! 

ওয়ালিমা হয় প্রিন্স রেস্টুরেন্টে। আমরা আগেই রেস্টুরেন্টে গিয়ে সব কথা বলে এসেছিলাম যে, ওরা মেয়েদের জায়গাটা কাপড় দিয়ে ঘিরে দিবে। তারা সেটাই করেছিলো, মোটা কাপড় দিয়ে মেয়েদের জায়গাটা ঘিরে দিয়েছিলো, আর বাইরে ছেলেদের জায়গা ছিলো। আমরা দেয়ালে দেয়ালে চিকা মারার জন্য কিছু কাগজে লাল কালারে প্রিন্ট করে রেখেছিলাম, “এটা মহিলাদের জায়গা৷ পুরুষদের প্রবেশ নিষেধ” “দয়া করে ভিতরে পুরুষ প্রবেশ করবেন না” “দয়া করে কেউ ছবি তুলবেন না” এরকম ডিরেক্ট কিছু নির্দেশমালা। ওগুলো মেয়েদের জায়গার সব দিকে টাঙিয়ে দেয়া হয়েছিলো। আর মেয়েদের জায়গার বাইরে ভাইয়ার কিছু তাব্লীগী ভাইকে রাখা হয়েছিলো, উনারাও গার্ড দিচ্ছিলেন কেউ যেন না ঢোকে সেজন্য।

আর মেয়েদের জায়গার ভেতরে পুলিশ ছিলাম আমি 

 কেউ ছবি তুলতে মোবাইল অন করলেও আমি গিয়ে নিষেধ করে দিচ্ছিলাম। পুরুষ কিছু আত্মীয় স্বজন বউ দেখতে ঢোকার চেষ্টা করলেও আমার পুলিশি ঝাড়িতে পেরে ওঠেনাই, আলহামদুলিল্লাহ।
কিরে বাবা, আমাদের ভাস্তের বউ আমরা দেখবোনা?
না কাকা, ভাস্তে-বউ তো ভাস্তের মাহরাম, চাচাদের তো গাইরে মাহরাম, দেখা যাবেনা 

 (ভদ্রবচনে বাশ)

ভাইয়ার বিয়েতে আমি পুলিশি ভালো করতে পেরেছি, কারণ যেহেতু আমাদের পরিবারের আত্মীয়দের আমি ভালো চিনি, তাই আমার জন্য ট্যাকেল করা সহজ ছিলো। আর বিয়ের জন্য বিশেষ কোন পোশাকও পরিনি, বাইরে যে বোরখা+নিক্বাব পরতাম, বিয়েতেও তাই-ই পরেছিলাম, তাই পর্দা নিয়ে কোন টেনশান আমার ছিলোনা।

একটা ঝামেলায় আমরা পড়েছিলাম, সেটা হলো মেয়েদের জায়গায় পুরুষ কেউ না আসলেও দুই একজন ওয়েটারকে আসতেই হচ্ছিলো খাবার দিতে। সার্ভ আমরা নিজেরাই করছিলাম। তো এ বিষয়টার জন্য পরে ব্যবস্থা নেয়া হয়।

ভাইয়ার বিয়ের মাহর ছিলো ফাতেমী মাহর। (দেড় লাখ টাকার মত মনে হয়)। বিয়ের দিনই মাহর শোধ করে দেয়া হয় সুন্নাহ অনুযায়ী।

এরপর পাইলট প্রোজেক্ট ২- আমাদের বিয়ে। আমাদের বিয়েতে আবার ভাইয়া ভাবী হেল্প করেছে অনেক, আলহামদুলিল্লাহ। আমার বিয়েতে দুইটা প্রোগ্রাম হয়, একটা আমাদের, একটা পাত্রপক্ষের। বলে রাখা ভালো, আমার শ্বশুরবাড়ির পরিবার ট্রাডিশনাল মুসলিম, তাই এ ধরণের কোন ইসলামী বিয়ে উনাদের বাড়িতে একদমই নতুন ছিলো। তারপরও আলহামদুলিল্লাহ উনারা আমাদের কোন কাজে আপত্তি করেননি, সাহায্যই করেছেন, আলহামদুলিল্লাহ।

আমার বিয়েতে মাহর ছিলো মাহরে আয়িশা (রা)। আমি চাচ্ছিলাম কোন টাকাই নেবোনা, সূরা মাহরে বিয়ে করবো। তবে আলেমদের সাথে আলোচনা করে ভাইয়া জানালো যে, সূরা মাহর সেই পাত্রের জন্য যার কোন জমা টাকা নেই। যার আছে, তার জন্য টাকা দিয়ে মাহর আদায় করাই সুন্নাহর অধিক নিকটবর্তী। সুরাহ মুখস্থ করে দিলে হাদিয়া হিসেবে দিতে পারে। আগের থেকে যেহেতু সূরাহ ইব্রাহীম পছন্দ ছিলো, তাই এটাই হাদিয়া হিসেবে চাইলাম। আর সুন্নাহ মাহর হিসেবে টাকা নেয়ার জন্য কমের মধ্যে কিছু খুজছিলাম, যেহেতু পাত্র নতুন জব পেয়েছে। তার বাবা আলহামদুলিল্লাহ দিতে পারবে, কিন্তু আমি এটা পাত্রের নিজের জমা থেকেই নিতে চাচ্ছিলাম। কমের মধ্যে যেটা পেলাম, আয়িশা রা. ও উম্মুল মুমিনীনদের অনেকেই ৫০০ দিরহামে বিয়ে করেছেন। আর ৫০০ দিরহামের টাকায় মূল্য islamqa এর হিসাবে এসেছিলো ৩২,০০০ টাকা (★ এখন ৫০০ দিরহাম রৌপ্য মূল্য ২ লাখ ৳) এটাই আমার মাহর ছিলো। এ নিয়ে আত্মীয়দের কেউ কেউ দ্বিমত করলেও আমি অনড় ছিলাম, আম্মু-আব্বু-ভাইয়ারও সাপোর্ট ছিলো। ‘সম্মান অন্যের উপর জুলুম করে নয়, অন্যের উপর রহম করে’ এই মতে অনড় ছিলাম। বিয়ের আগের দিন পাত্র ৩২ হাজার টাকার চেক বুঝিয়ে দিয়ে যায় আমার ভাইয়াকে। তবে হ্যা, পাত্রের সামর্থ্য থাকলে বেশি এমাউন্টের মাহর নেয়াও জায়েয আছে কিন্তু। সামর্থ্য থাকার পরও কম টাকা দিতে চাওয়া পাত্রের জন্য উত্তম মনে করিনা, পাত্রী নিতে না চাইলে সেটা ভিন্ন কথা।
(https://islamqa.info/en/answers/10525/reducing-the-mahr-is-the-sunnah)
(https://islamqa.info/en/answers/3119/what-is-the-minimum-amount-of-mahr-what-is-the-modern-equivalent-of-the-mahr-of-the-mothers-of-the-believers)

আমাদের বাসার প্রোগ্রাম হয় যথারীতি প্রিন্স রেস্টুরেন্টেই, যেহেতু ভাইয়ার বিয়ের পাইলট প্রোজেক্ট মোটামুটি ওখানে সফলভাবেই হয়েছিলো। আরেকটা বিষয়, অনেকেই ভাবতে পারেন, বাড়িতে বিয়ের আয়োজন না করে রেস্টুরেন্টে কেন। কিছু কারণ আছে, বাড়িতে রান্না করতে হলে বাড়ির মানুষের উপর প্রচুর ঝক্কি-ঝামেলা যায়, আম্মু অসুস্থ তাই টাকার উপর চালিয়ে বাড়ির লোকদের ঝামেলা কমানো হয়েছে। আর আমাদের বাসায় ঐরকম ঘটা করে অনেক মানুষ খাওয়ানোর মত জায়গাও ছিলোনা। এসব কারণেই রেস্টুরেন্টে করা। কেউ যদি নিজ বাড়িতে করতে পারেন, সেখানেও একইভাবে পর্দার ম্যানেজমেন্ট করা সম্ভব ইনশাআল্লাহ।

আমাদের কারো বিয়েতেই এংগেজমেন্ট হয়নি। আংটি পরিয়ে ইংগেজ করে ফেলা, এরপর দুজন দুজনের জন্য অফিশিয়ালি হালাল হয়ে যাওয়া (feyoncee), এগুলোর কোনটাই ইসলামে জায়েয নয়। তবে এই উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে কেউ বর বা কনেকে অর্নামেন্টস হাদিয়া দিলে তা নেয়া যেতে পারে। (https://islamqa.info/en/answers/20069/engagement-according-to-shareeah)

গায়ে হলুদ করা হয়নি, আলহামদুলিল্লাহ। অনেকের মতে, গায়ে হলুদ হিন্দুয়ানি প্রথা, তাই নাজায়েয। আবার অনেকের মতে গাইরে মাহরাম এভয়েড করে করা হলে তা জায়েয। তো এটা নিয়ে বিতর্ক আছে যেহেতু, তাই এটা এভয়েড করাই সর্বোত্তম মনে করেছি।
(https://ifatwa.info/7278/)

যাহোক, বিয়ের অনুষ্ঠানে রেস্টুরেন্টে আগের মতই ওরা মেয়েদের জায়গাটা পুরো ঘিরে দিয়েছিলো, আগেরবারের চেয়েও সুন্দর করে। এবারও সব জায়গায় প্রিন্ট করা কাগজে নিষেধাজ্ঞা লিখে টাঙিয়ে দেয়া হয়েছিলো। কিছু পুলিশ নিয়োগ করা প্রয়োজন ছিলো, আমি যেহেতু নিজেই বউ, তাই এই কাজে হেল্প করেছে আমার কিছু ক্লোজ বান্ধবী (আল্লাহ তাদের জাযায়ে খায়ের দিন)। কেউ ছবি না তুলতে পারে, সেটাও ওরাই দেখভাল করেছে। তবে মজার বিষয় হচ্ছে, ভাইয়ার বিয়েতে যেহেতু আমি গার্ড দিয়েছিলাম এসব বিষয়, আমার বিয়েতে আল্লাহর রহমতে আরও সহজ করে দিয়েছিলেন আল্লাহ। কোন পুরুষ এই মহিলা অঙ্গনে প্রবেশ করার চেষ্টাই করেনি, এমনকি আমার শ্বশুর পক্ষের কেউও না। ছবি তোলার জন্য কেউ মোবাইলও বের করেনি। এক্ষেত্রে আমার একটা গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো, যদি মনে করেন শুধু নিজেরা ছবি তুলবেন, বাইরের কাউকে তুলতে দিবেন না, তাহলে এটা খুব কঠিন হবে। নিজেরাই যেটা করবেন, বাকিদের তা নিষেধ করা কঠিন হয়ে যাবে৷ এজন্য সবচে কার্যকর উপায় হলো, নিজেরাও ফটোগ্রাফি না করা। আমাদের দুই ভাই বোনের বিয়েতে বাড়ির নিকটাত্মীয় কাউকেও ক্যামেরা অন করতে দিইনি, নিজেরাও তুলিনি, তাই অন্য কেউও সাহস করেনি ক্যামেরা অন করার, আলহামদুলিল্লাহ। (আমাদের বিয়ের জামাই-বউয়ের একসাথে সত্যিই কোন ছবি নেই, আলহামদুলিল্লাহ)

আর সাজগোজ? হ্যা, করেছিলাম। এই একটা দিন অন্য কেউ না দেখুক, হাজব্যান্ডের তো ইচ্ছা থাকতেই পারে বউসাজে বউকে দেখার। একজন বিউটিশিয়ানকে বাসায় ডেকে আনা হয়েছিলো। দুপুরে সাজ শুরুর আগেই যোহরের সালাত পড়ে নিয়েছিলাম। ★ ভ্রু প্লাক করিনি ★ চোখে লেন্স পরিনি ★ আইল্যাশ লাগাইনি, পরচুলা পরা জায়েয নেই ★ খুব বেশি কৃত্রিমতা এভয়েড করার চেষ্টা করেছি। বিয়ের ড্রেস ছিলো ল্যাহেঙ্গা, ওটা আগে থেকেই ফুল স্লীভ বানিয়েছিলাম, ★ ওড়না ট্রান্সপারেন্ট থাকে, তাই অর্ডার দিয়ে আগেই সার্টিন কাপড় লাগিয়ে নিয়েছিলাম পুরো ওড়নায়, মাথায় হিজাব দেয়ার জন্যও কাপড় কিনে রেখেছিলাম ★ প্রয়োজনে নিক্বাব টেনে দেয়ার ব্যবস্থাও রেখেছিলাম। সাজগোজ করার পর সামনে দিয়ে খোলা যায় এমন কালো বোরখা হিজাব পরেছিলাম, বড় ওড়না মাথার উপর দিয়ে ঝুলিয়ে দিয়ে নিক্বাবের ব্যবস্থা করেছিলাম, হাত মোজা পা মোজা পরেই রেস্টুরেন্টে গিয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ। (বিয়ের সময় হাতে মেহেদি থাকে, খাস পর্দা করলে মেহেদি রঙা গহনা পরা হাত পরপুরুষকে দেখানোর প্রশ্নই ওঠেনা।)

বিয়ের শাড়ি/ ল্যাহেঙ্গা কী রঙের হবে, এটা নিয়েও কিছু বিধান আছে। ড. বিলাল ফিলিপসের একটা লেকচারে শুনেছিলাম, হিন্দুদের বিয়েতে লাল রঙ পরা হয়, খ্রিস্টানদের বিয়েতে সাদা। তাই বিয়ের কাপড় কেনার সময় এই দুই ধর্মীয় কালার বাদ দেয়ার চেষ্টা করেছি। ভাবীকেও আমরা পিঙ্ক কালার ল্যাহেঙ্গা দিয়েছিলাম, আমাকেও সেটাই দিয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। তবে লাল বা সাদা পরা নাজায়েয নয়।

বরকে গিফট দেয়া হয়েছে, তবে গোল্ড দেয়া হয়নি, আলহামদুলিল্লাহ। গোল্ডের অর্নামেন্টস পরা পুরুষের জন্য পুরোপুরি হারাম। অথচ বিয়েতে পাত্রকে সেই জাহান্নামের আগুন গোল্ড রিং, চেইন দিতেই হবে। কেন? টাকা দিয়ে হারাম জিনিস না দিয়ে দিতে চাইলে ঐ টাকা দিয়েই দামি একটা ঘড়ি দেন, দরকারি অন্য কিছু দেন।
(https://islamqa.info/en/answers/101549/the-reason-why-gold-is-forbidden-for-men)

পাত্রের পোশাকের ক্ষেত্রেও আমার একটা ব্যক্তিগত অপছন্দ আছে, তা হচ্ছে বরের মেয়েমানুষের মত চুড়িদার পাজামা আর লাল/গোলাপী ঝকমকে হাতের কাজের পাঞ্জাবি পরে বসে থাকা। ভাইয়া তো বিয়ের দিন মোটামুটি ঘরের পোশাকেই ছিলো, মানুষজন বরই চিনতে পারেনাই। আর আমাদের বাসা থেকে আমার বরকে দেয়া হয়েছিলো ধূসর কালো রঙের শেরওয়ানি, কালো পাগড়ি (<3)। যাহোক, এসব ব্যক্তিগত চয়েজের কথা বলে লাভ নাই, মোটাদাগের কথা হলো, ★ বরকে লাল/কমলা/গেরুয়া রঙের পোশাক না দেয়াই ভালো, হাদীসে এই রঙগুলো নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে মত আছে। ★ অবশ্যই রেশম/ সিল্কের কাপড় দেয়া যাবেনা, এটাতো সরাসরি হারাম। ★ আর চুড়িদার পাজামা পরলে টাখনু তো ঢেকে থাকে, এইটাও করা যাবেনা, হাদিসে কঠিন সতর্কবাণী এসেছে। তা বাদে আর যা পরবেন পরেন।

আমাদের বিয়েটাও পড়ানো হয় শুক্রবারে, মসজিদে। জুমার সালাতের পর বিয়ে পড়ান শাইখ হাসান জামীল হাফিজাহুল্লাহ। আব্বু, ভাইয়া, মামা, চাচারা আমার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে মসজিদে যায়, আর পাত্র তার বাবা ভাই দের নিয়ে আসে। ওখানেই বাদ জুমা বিয়ে পড়ানো হয়, তারপর উপস্থিতদের খেজুর আর প্যাকেট নাস্তা খাওয়ানো হয়। এই এরেঞ্জমেন্টগুলাও যে যা খাওয়াতে চায়, আগেই ব্যবস্থা করে রাখতে হবে, শুধু খেজুর, কিংবা সাথে মিষ্টি, জিলাপি যে যা চান খাওয়াতে পারেন।
(★★ শাওয়াল মাস ও শুক্রবারে বাদ জুমা বা আসরের পর মসজিদে বিয়ে পড়ানো মুস্তাহাব বলে কিছু হাদিস থেকে প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে বছরের যেকোন সময়ই বিয়ে করা যায়, মসজিদেই পড়াতে হবে এমনটাও আবশ্যক নয়।)

রেস্টুরেন্টে আলহামদুলিল্লাহ পর্দা নিয়ে কোন সমস্যা হয়নি। হুট করে কেউ জোর করে ঢুকে পড়লে যাতে সাথে সাথে নিক্বাব টেনে দিতে পারি, সেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, সেই দুঃসাহস দুই পক্ষের কেউই করেনি।

আর ভাইয়ার বিয়েতে পুরুষ ওয়েটার নিয়ে সমস্যা হয়েছিলো, তাই আমার বিয়ের আগেই মহিলা পর্দানশিন ওয়েটার গ্রুপের খোজ পেয়েছিলাম ফেইসবুকে, দুই প্রোগ্রামের জন্যই উনাদের ঠিক করে রেখেছিলাম (উনাদের নাম্বার এখন বন্ধ পাই, জানিনা এখনও এমন কোন ওয়েটার বোনেরা আছেন কিনা। না থাকলে নিজ বান্ধবী, বোন বা অন্য কারো সাহায্যে এই কাজটা পর্দার সাথে করানো যেতে পারে)। উনারা বোরখা নিক্বাব পরে খাবার সার্ভ করেছেন, ভিতরে কোন পুরুষেরই প্রবেশের প্রয়োজন হয়নি। দ্বীন বোনেরাও পূর্ণ শান্তিতে নিক্বাব খুলে খাওয়া দাওয়া করতে পেরেছেন। আমিও সেজেগুজেই বসেছিলাম, কোন সমস্যা হয়নি। সাজার অভিজ্ঞতা আমার জীবনেও এটিই প্রথম, তবে ঐ একটা দিন হাজব্যান্ডের দিকটা ভেবেই সাজগোজের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।

কোন সালাত মিস যায়নি, স্টেইজের উপর জায়নামাজ বিছিয়েই সালাত পড়েছি। প্রোগ্রাম শেষে আবারও বোরখা পরে, মুখ ঢেকে বের হতে পেরেছি। বান্ধবীরা অনেক হেল্প করেছে সেদিন।

আর হ্যা, শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পর পর্দা কিভাবে মেইন্টেইন করবো তা নিয়ে খুব পেরেশান ছিলাম। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, ছাড় দিইনি। অনেকেই যে ভুলটা করে, বিয়ের দিন আর বিয়ের পর নতুন অবস্থায় পর্দায় ছাড় দেয়, আর একবার ছাড় দিলে সেই বাড়িতে আর পূর্ণ পর্দা করা সম্ভব হয়না, কারণ মানুষ বিয়ের দিনের কথা বলেই আপনাকে খোটা দিতে থাকবে। তাই খাস পর্দা করতে চাইলে তা শুরু থেকেই করতে হবে ভদ্রভাবে বুঝিয়ে, তারপর যে যা ভাবে ভাবুক। আর এজন্য সবচেয়ে বড় ভূমিকা হাজব্যান্ডের, হাজব্যান্ড যদি তার পরিবারকে বুঝাতে পারে যে সে চায়, তার স্ত্রী কোন গাইরে মাহরামকে মুখ না দেখাক, তাহলে সেই বাড়ির অন্য সদস্যরাও খুব বেশি জোর করতে পারেনা৷ এখানে অবশ্যই পুরুষকে একটা কঠিন ভূমিকা রাখতে হবে, তা না হলে নতুন পরিবেশে একটা মেয়ে যুদ্ধ করে পেরে উঠবেনা। আর প্রথম থেকেই যদি পর্দা নিয়ে স্ট্রিক্ট থাকা যায়, আল্লাহ চান তো পরিবারের সদস্যরাও ধীরে ধীরে ওটাতেই অভ্যস্ত হয়ে যাবে একসময়। কেউ না কেউ আপনার স্ট্রিক্ট দ্বীনদারিতার সুনামও করবে, বিশ্বাস করুন। সম্মান দেয়ার মালিক আল্লাহ, আর দ্বীন মানার মধ্যেই সম্মান, সমাজ মানার মধ্যে না।

বিয়ের দিনটা ছিলো শুক্রবার। ফজরের পর কাহাফ পড়ে কান্নাকাটি করে আল্লাহকে একটা কথাই বলেছিলাম- আল্লাহ, এই পর্যন্ত বিয়েটাকে সুন্নাহ মোতাবেক করার জন্য যা কিছু করা দরকার, আমি এবং আমার পরিবার কোন চেষ্টা বাদ রাখিনি। আজ আমি বউয়ের আসনে থাকবো, ওখানে আমার কিছুই করার থাকবেনা। আমার চেষ্টার শেষ, বাকিটুকু আপনার উপরই ছেড়ে দিলাম। অনেক কেদেছিলাম সেদিন মুনাজাতে সব কিছু আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়ে। তারপর আর কোন টেনশান হয়নি, আলহামদুলিল্লাহ। সারাদিন আর কান্নাকাটি করার সুযোগও হয়নি, কবুল বলার সময়েও না. বান্ধবীরা ছিলো পাশে, কান্নাকাটি করার মত পরিবেশই ছিলোনা। যাহোক, আলহামদুলিল্লাহ, পুরোটা বিয়ের অনুষ্ঠান আল্লাহ আমার কল্পনাতীত সুন্দরভাবে ম্যানেজ করেছেন, সামান্য কোন ঝামেলাও হয়নি, যতটা আমরা আশাই করিনি। আলহামদুলিল্লাহ, তার দরবারে শুকরিয়ার কোন শেষ নেই। বান্দাহ তার সবটুকু চেষ্টা করলে আল্লাহ কিভাবে সাহায্য করেন, তার নমুনা পেয়েছি সেই দিন।

আরেকটা কথা, অনেক বিয়েতেই দেখেছি, পুরোটা সময় ছেলেমেয়ে আলাদা থাকে, কিন্তু শেষে যখন পাত্রীকে পাত্রের পাশে এনে বসানো হয়, তখন আর কাউকে ঠেকানো যায়না, একজন দুজন করে সবাই হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়ে, সব একাকার হয়ে যায়। এজন্য আমাদের দুজনের বিয়েতেই বর-বউকে সেইম স্টেইজে আনা হয়নি। এমনকি কনের স্টেইজে কনের বর, ভাই, বাবা, শ্বশুর এই মাহরামরাও আসেনি। কারণ, কয়েকজন মাহরাম পুরুষকে আনতে গেলে সবাই ঢুকে পড়বে। আরেকটা বিষয় হলো, উনারা পাত্রীর জন্য মাহরাম হলেও অন্য সব মহিলাদের গাইরে মাহরাম, এজন্য পাত্র-পাত্রীকে একসাথে বসানো হয়নি, আলহামদুলিল্লাহ।

বরপক্ষের অনুষ্ঠানেও একইভাবে করা হয়েছিলো। ওখানেও আপত্তিকর কিছু ঘটেনি, আলহামদুলিল্লাহ।

গান-বাজনা, ওয়েডিং ফটোগ্রাফি এসবের ধারেকাছেও যাওয়া হয়নি, আলহামদুলিল্লাহ। কার্ড ছাপানোর খরচ করা হয়নি। (তবে এটা নাজায়েয না, করলে করা যেতেই পারে)। বিয়ের উপস্থিতিরাও খুব উগ্র পোশাকে কেউ আসেনি, আগের থেকেই তারা জানতো, এজন্য একটু শালীন পোশাকেই এসেছে সবাই কমবেশি।

যে বিয়েতে দরিদ্রদের খাওয়ানো হয়না, সে বিয়েতে বরকত থাকেনা। তাই আমরা আমাদের দুই ভাইবোনের বিয়েতেই বেছে বেছে কিছু হতদরিদ্র, খাদেমা, কাজের বুয়া শ্রেণীর মানুষকে দাওয়াত করেছিলাম, তারাও রেস্টুরেন্টে গিয়েই খেয়ে এসেছে।

বিয়েতে গিফট আনতে সবাইকে নিষেধ করেছিলাম, গিফট তোলার জন্য টেবিল বসানো হয়নি। তবে হাদিয়া (গিফট) দেয়া- নেয়া জায়েয (সুন্নাহ), তাই কেউ হাদিয়া আনলে তা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব নিয়ে খুব বেশি বাড়াবাড়ি না করাই উচিৎ মনে করি। মূলকথা হচ্ছে, বিয়েতে গেলে গিফট দিতেই হবে, এমনটা মনে করলে নাজায়েয হবে। তবে কেউ ভালোবেসে কাউকে গিফট দিলে সেটা গ্রহণ করতে নিষেধ নেই।

বরের জন্য গেট ধরা, বিয়ের ঘর সাজিয়ে টাকা চাওয়া, জুতা লুকিয়ে টাকা আদায় করা এ ধরণের কোন কিছুই করা হয়নি আমাদের বাড়িতে। আমরা তাদের জন্য সহজ করেছিলাম, তারাও আমাদের অনুষ্ঠানের ইসলামিক ব্যবস্থা নিয়ে কোন আপত্তি করেননি, সাহায্য করেছেন, আলহামদুলিল্লাহ।

এখানে আমি মোটামুটি দুটো বিয়ের ডেমো দিলাম। অনেকেই নন প্র‍্যাক্টিসিং পরিবার থেকে প্র‍্যাক্টিসে আসেন, তারা বুঝে উঠতে পারেন না বিয়ের প্রোগ্রাম কিভাবে দ্বীন মেনে করা উচিৎ, তারা মোটামুটি একটা আন্দাজ পাবেন। তবে এটাই স্ট্যান্ডার্ড না, আমার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে আরও অনেক বোন সুন্নাহ মোতাবেক বিয়ের অনুষ্ঠান করতে পেরেছে, আলহামদুলিল্লাহ। তবে একেক জনের অভিজ্ঞতা একেক রকম, সব বিয়ের ফর্ম্যাট এক হয়না। যে বিয়েতে খরচ যত কম, বরকত তত বেশি। তবে মনে রাখতে হবে, সবার পরিবারের স্ট্যাটাস একরকম না, সবার পরিবারের দ্বীনদারিতা একরকম না, পরিবেশ- পরিস্থিতি একরকম না, তাই কোন একটা বিয়েকে স্ট্যান্ডার্ড ধরে বসে থাকা উচিৎ হবেনা, যার যার পরিস্থিতি অনুযায়ী তাকে ডিসিশান নিতে হবে। মোটাদাগে একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, হারাম কোন কাজ যেন না হয়। যা কিছুই করা হোক, জায়েয লেভেল যেন অন্তত থাকে। আর সুন্নাহ যত বেশি অনুসরণ করা যায়, তত উত্তম। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে জায়েয বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি না করাই উত্তম। বিপরীতে নাজায়েয নিয়ে কোন আপোস নেই, যা হারাম তা সর্বাবস্থায় হারাম। আর হারাম দিয়ে যে বিয়ে শুরু হয়, সেখানে আর বরকত থাকে কি করে? এটাতো সহজেই অনুমেয়।

আর মোটাদাগে আরেকটা কথা বলে রাখি, অনেক দ্বীনি বোনের বিয়েতে আমি একটা দুঃখের বিষয় দেখেছি, তারা নিজের সবটুকু প্রচেষ্টা ছাড়াই অদ্বীনি পরিবারের বেপর্দা, বেদ্বীনি বিয়ের আয়োজনে একাত্ম হয়ে যান। দেখুন, আমি জানি, সবার পারিবারিক পরিস্থিতি এক হয়না, অনেকের পরিবার মেয়ে বা ছেলের উপর অনেক অদ্বীনি প্র‍্যাক্টিস জোর করে চাপিয়ে দেয়। কিন্তু আপনি কি সত্যিই আপনার দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা ও দু’আটুকু করেছেন? আপনার চেষ্টার যেখানে শেষ, আল্লাহর সাহায্য সেখানে শুরু। সবটুকু চেষ্টার পরও যদি অদ্বীনি কিছু করতে বাধ্য হন, আশা করা যায় তাওবা করলে আল্লাহ মাফ করবেন। কিন্তু ক’জন দ্বীনি বোন হলফ করে বলতে পারবেন, আপনার বিয়েতে স্টেইজে পরপুরুষদেের সামনে ‘সাজুগুজু পরী’ হয়ে বসে না থাকার জন্য আপনি সর্বোচ্চ চেষ্টাটুকু করেছিলেন? বাবা-মাকে সবভাবে বুঝিয়েছিলেন? যে বাবা-মায়ের ঘরে আপনি অন্য সময় পর্দা করতে পারেন, কিন্তু বিয়ের সময় সেই পর্দার কথাই কেন বোঝাতে পারলেন না? আচ্ছা, মেনে নিলাম, সবকিছু আপনি পরিবারের প্রেশারে করছেন। তো স্টেইজে দাঁড়িয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে হাসতে হাসতে ওয়েডিং ফটোগ্রাফির পোজ কিভাবে দিচ্ছেন? এটাও কি নিজের অমতে? ভালো কথা, সবই যদি নিজের অমতে হয়, যে আপনি কোনদিন ফেইসবুকে ছবি দেননি, বিয়ের পরদিন নিজের ওয়াল থেকে এসেই আপনি আটা ময়দা সাজগোজ করা বেপর্দা ছবি অজস্র মানুষের সামনে এসে একের পর এক আপ্লোড দিয়েে যাচ্ছেন, এই কাজটাও কি পরিবার করিয়েছে? দেখুন, নফসের খাহেশাতকে পরিবারের চাপ বলে মানুষের কাছে চালিয়ে দিতে পারবেন, কিন্তু আল্লাহর চোখ ফাকি দিতে পারবেন? তিনি তো মানুষের অন্তঃকরণ জানেন। আপনি কোন কাজটা সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও করতে বাধ্য হয়েছেন, সেটুকু আল্লাহ চাইলে মাফ করতে পারেন, কিন্তু কোন কাজগুলো নফসের কামনায় করেছেন, সেটুকুর জবাবদিহিতা কিন্তু আপনার। আমি আজীবন পর্দা করা এমন অনেক দ্বীনি বোনের বিয়ে দেখেছি, গল্প শুনেছি, যারা বিয়ের দিন পর্যাপ্ত চেষ্টা ছাড়াই হাল ছেড়ে দিয়ে বেপর্দাভাবে স্টেইজে বসেছে, সেই ছবি ফেবুতেও আপ্লোড দিয়েছে, এরপর নফসকে বোঝাতে বলেছে- আমিতো বাধ্য হয়েই করেছি। একই কথা ভাইদের জন্যেও প্রযোজ্য, আপনি যদি আপনার স্ত্রীর পর্দার হেফাজত না করতে পারেন, তাহলে গুনাহগুলো কাধে নেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন। আর বিয়ের পর যদি আপনি নিজে দ্বীন বুঝেও স্ত্রীর ছবি পাব্লিকলি আপলোড দিতে শুরু করেন, তাহলেও সেই গুনাহের ভার আপনারই, আপনার পরিবেশের নয়। এই কথাগুলো মাথায় রাখা খুব জরুরি।

এর বাইরে কোন বিষয় নিয়ে কারও প্রশ্ন থাকলে কমেন্টবক্সে করতে পারেন। অভিজ্ঞতা থেকে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

The Grateful Servants পেইজে এখন ১০ টাকা করে ‘সহজ বিয়ে’ নামে পাম্পলেট পাওয়া যায়। কেউ চাইলে তার বিয়েতে অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের সবাইকে একটা করে পাম্পলেট বিতরণ করতে পারেন, তাতে করে সুন্নাহ বিয়ের একটা দাওয়াত পৌছে গেলো সবার বাসায়। এমনটা অনেকেই এখন করছে, আলহামদুলিল্লাহ।

➤➤ বিবাহে প্রচলিত ভুলসমূহ:
https://tinyurl.com/4kmwa7sa

আল্লাহ আমাদের বিবাহ অনুষ্ঠানগুলোকে সুন্নাহমুখী করুন, হারাম বর্জনের তাউফীক দিন। বিয়েকে গুনাহ জারিয়ার সূচনা না বানিয়ে দ্বীনের দাওয়াতের উপলক্ষ বানানোর সুযোগ করে দিন।

(পোস্টটা পাব্লিক রাখছি এই কারণে যে, বিয়ের অনুষ্ঠানটা দুই পক্ষের, কোন এক পক্ষের চেষ্টায় সুন্নাতি বিয়ে সম্ভব হয়না না। পাত্র পাত্রী দুজনকেও আগে থেকেই সব কিছু প্ল্যান করে আগাতে হয়। বিয়ে নিয়ে ন্যূনতম কিছু পড়াশোনাও করতে হয়। তাই এই বিষয়গুলো পাত্র ও পাত্রী উভয়পক্ষেরই মাথায় রাখা প্রয়োজন।)